গণতন্ত্র-গণমাধ্যম-গণমানুষের গর্বের অপর নাম জিয়াউর রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্র-গণমাধ্যম-গণমানুষের গর্বের অপর নাম জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০২৩ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০২৩ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

 

প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান
স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গণতন্ত্র। যে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখে গণমাধ্যম। আর গণমাধ্যম হলো তাই যা গণমানুষের কথা বলে। এক কথায় গণতন্ত্র, গণমাধ্যম আর গণমানুষ একে অপরের পরিপূরক। সৌভাগ্যক্রমে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই তিনটি উপদানের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি জড়িত। তিনি এদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। ১৯৭৫ সালে মুজিবীয় স্বৈরাশাসন যুগের অবসানের পর তিনিই এদেশে সকল দল-মতের সন্নিবেশ ঘটিয়েছিলেন। দেশের রাজনীতিতে সূচনা করেছিলেন একটি অনন্য সাধারণ ধারার। যেখানে সব দল তাদের মতামত প্রকাশ ও কর্মসূচি পালনের সমান সুযোগ ভোগ করতো।
বাকশাল এদেশের গণমাধ্যমের টুটি চেপে হত্যা করেছিলো। মাত্র আজ্ঞাবহ চারটি পত্রিকা ছাড়া আর সব পত্রপত্রিকা বন্ধ করা হয়েছিলো। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের শাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর সে অবস্থার অবসান ঘটে। কেননা তিনি মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করতেন। তিনি মনে করতেন স্বাধীন গণমাধ্যম একটি দেশের জন্য অপরিহার্য। গণমাধ্যমে রাষ্ট্রের চোখ। তারা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও এর পরিচালনায় যারা থাকে তাদের ভুলগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। এর মাধ্যমে ভুল শুধরে দেশ ও জাতির জন্য সঠিক কাজটি করার সুযোগ পায় সরকার। সে কারণে তিনি অসংখ্য পত্র-পত্রিকার অনুমোদন দেন। দেশে আবারো শুরু মুক্ত বুদ্ধির চর্চা ও বিকাশের। আজকের শাসকগোষ্ঠী যখন ভিন্ন মত দমনে খড়গহস্ত, সমালোচনার অযুহাতে যখন দেশের টেলিভিশন, পত্রিকা বন্ধ করছে একের পর এক তখন শহিদ জিয়ার সেই উদার গণমাধ্যম নীতি খুব বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। তাই ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকেই তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি মনে করতেন দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে গণমাধ্যম ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকাকালে প্রথমবারের মতো তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তখনই তিনি গণমাধ্যমের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সাম্যক ধারণা নেন। রেডিয়ো, টেলিভিশন, সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সুদূরপ্রসারি উন্নয়নের চিন্তা তার মাথায় আসে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার কারণে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে নিবিড় সম্পর্ক।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার অভাবনীয় বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পাদপীঠে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহনের পরই সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবারিত করেন। জিয়াউর রহমান যখন বন্ধ করে দেয়া সব সংবাদপত্র চালুর ব্যবস্থা করেন তখন প্রবীণ সাংবাদিক ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি নির্মল সেন লিখেছিলেন, ‘পাখা ভারী হয়ে গেছে, এত দিনের দলননীতির পর মুক্ত পাখা মেলে উড়তে কষ্ট হচ্ছে সাংবাদিকদের।’ নির্মল সেনের এ অনুভূতি প্রমাণ করে স্বাধীনতার পর কার্যত শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ই প্রথম সাংবাদিকরা স্বাধীনতার স্বাদ পান।
শহিদ জিয়া সে সময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রায় এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে আপনারা জনমত গড়ে তুলুন, যা অবশ্যই সংগঠিত ও ব্যবহৃত হবে জাতীয় উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য। সবাইকে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, কেবল অনৈক্যের কারণে এ দেশ সুদীর্ঘ ২০০ বছর বিদেশী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক শোষিত হয়েছে। কাজেই জাতীয় ঐক্যই কেবল আমাদের জীবনে আনতে পারে শক্তি, অগ্রগতি ও সুখ-শান্তি। ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য এ আমাদের এক অবশ্য কর্তব্য। আমাদের বর্তমান উৎসর্গিত হোক ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য।’ (বিচিত্রা, ২৪ মার্চ ১৯৭৮ সংখ্যা)
১৯৭৭ সালের ৩০ নভেম্বর রেডিয়ো-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে জিয়াউর রহমান সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে আমি দু-একটি কথা বলা দরকার মনে করছি। যারা বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদের অনুরোধ করব তারা যেন দেশের অসংখ্য পত্রপত্রিকার পৃষ্ঠাগুলোতে একবার চোখ বুলান। স্বাধীনতাকে প্রায় দায়িত্বহীনতার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন কয়েকজন। তবু তারা পত্রপত্রিকা প্রকাশ করে যাচ্ছেন বিনা বাধায়। শুধু তাই নয়, এদের অনেকেই পরোক্ষভাবে নানা রকম সরকারি সহায়তা দাবি করছেন এবং পাচ্ছেনও। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সম্পূর্ণ বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম সম্পর্কে সম্পূর্ণ আস্থাশীল। সাংবাদিকদের অবস্থার উন্নয়নের জন্য এবং সাংবাদিকতার যথার্থ বিকাশ ও উন্নতির জন্য আমরা ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’ (দৈনিক বাংলা, ১ ডিসেম্বর ১৯৭৮)
সংবাদপত্রের বিকাশ এবং সংবাদকর্মীদের বেলায় জিয়াউর রহমান নিরপেক্ষতা বিবেচনা করতেন। তিনি দলবাজির চেয়ে যোগ্যতাকে বেশি মূল্যায়ন করতেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক এবিএম মূসার এক স্মৃতি চারণে প্রেসিডেন্ট জিয়ার এই দিকটি উঠে এসেছে চমৎকারভাবে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতের হয়েও কিভাবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুঁজে বের করে প্রেস ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেটি তিনি বেশ চমৎকার ভাষায় তুলে ধরেন। ওই লেখনিতে প্রয়াত এ সাংবাদিক শহিদ জিয়ার এমন উদার নীতির প্রশংসা করে বলেন, দেশ ও জাতির উন্নতি ও উৎকর্ষ সাধনে তিনি দল-মতের বিভেদ করেননি। তার কাছে যোগ্যতা ও দক্ষতাই ছিলো প্রথম ও প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক সব কালাকানুন শিথিল করে দেশের সব জায়গা থেকে সংবাদপত্র প্রকাশে উৎসাহ প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, প্রকাশিত সংবাদপত্র টিকিয়ে রাখা সরকারের দায়িত্ব বলেই তিনি মনে করতেন। তিনি রাজশাহী থেকে ‘দৈনিক বার্তা’ নামে একটি প্রথম শ্রেণীর পত্রিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এ পত্রিকা ঘিরে সমগ্র উত্তরাঞ্চলে তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে। বহু সাংবাদিকের কর্মসংস্থান হয়।
শিশু-কিশোরদের নিয়ে গভীর ভাবনা ছিল শহিদ জিয়ার। দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সমাজসচেতন করে গড়ে তুলতে ‘কিশোর বাংলা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশে উদ্যোগী হন তিনি। পত্রিকাটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৭৯ সালের শুরুর দিকে তিনি ‘গণতন্ত্র’ নামে একটি রাজনৈতিক সাপ্তাহিক প্রকাশে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। পাশাপাশি দৈনিক জনপদও প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু জনপদ প্রকাশনায় আর্থিক অস্বচ্ছতা দেখা দিলে একই বছরের মধ্যভাগে জাতীয় পত্রিকা ‘দৈনিক দেশ’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির নামকরণ থেকে শুরু করে সব ধরণের আর্থিক সুবিধা প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ইচ্ছা করলে নিজ মালিকানায় পত্রিকাটি প্রকাশ করতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করেননি। পত্রিকাটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি, ত্রুটি তুলে ধরার নির্দেশনা দিয়েছিলেন সাংবাদিকদের। আবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ত্বরিত ব্যবস্থা নিতেন তিনি।
ডিক্লারেশনের শর্ত শিথিল করার কারণে সে সময় ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয়, জেলা এমনকি থানা পর্যায় থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ হতে থাকে। এসব পত্রিকা টিকিয়ে রাখতে জিয়াউর রহমান সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টননীতিও শিথিল করেন। বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বণ্টন ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত করেন। একই সঙ্গে সরকারি বিজ্ঞাপনের ৬০ ভাগ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় এবং বাকি ৪০ ভাগ মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় বণ্টনের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে সারা দেশে সংবাদপত্র প্রকাশনায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
১৯৭২ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে তৎকালীন সরকারের কাছে যে কয়েকটি মূল দাবি উত্থাপন করেছিল তার অন্যতম ছিল সাংবাদিকদের জন্য নতুন বেতন বোর্ড গঠন, প্রেস কমিশন গঠন এবং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্স বাতিল। পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে সাংবাদিকদের জন্য একটি বেতন বোর্ড গঠিত হয়। পরে আর কোনো সরকার নতুন বেতন বোর্ড গঠনের দাবিতে কর্ণপাত করেনি। বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে একটি বেতন বোর্ড গঠিত হলেও তা ছিল অকার্যকর। রাষ্ট্রপতি জিয়া সংবাদপত্রসেবীদের বেতনভাতা নির্ধারণে ওয়েজ বোর্ড গঠন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বেতন বোর্ড পুনরুজ্জীবিত করেন এবং ১৯৭৭ সালের পয়লা মে ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষিত বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইমপ্লিমেন্টেশন সেলও গঠন করে দেন। তিনি সাংবাদিক, মালিক, সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন করেন প্রেস কনসালটেটিভ কমিটি। এ কমিটির কাজ ছিল স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়গুলো দূর করা।
সংবাদকর্মীদের হয়রাণীয় রোধে জিয়াউর রহমান গঠন করেন প্রেস কাউন্সিল। সাংবাদিকদের আরেকটি দাবি ছিল প্রেস কমিশন গঠন। তিনি প্রেস কমিশন গঠনেরও উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে পদ্ধতিগত কার্যক্রম চলতে থাকে। বিভিন্ন জটিলতায় কমিশন গঠনের কাজ ধীরগতিতে চলছিল। সে কারণে জীবিত অবস্থায় প্রেস কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা তিনি দেখে যেতে পারেননি। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালে একটি প্রেস কমিশন গঠিত হয়।
রাষ্ট্রের যে কোনো কাজে মান বজায় রাখা ছিলো শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই তিনি সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার উৎকর্ষ সাধনে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)। কেবল তাই নয়, তিনি বুঝেছিলেন সাংবাদিকতা একটি নির্মোহ পেশা। তাইতো সাংবাদিকদের আবাসনের কথা মাথায় রেখে তিনি মিরপুরে ২২ বিঘা জমি সাংবাদিক সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দ করেন। যেখানে শতাধিক সাংবাদিকের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৭৬ সালে তোপখানা রোডে পুরনো লাল বিল্ডিংয়ে প্রেসক্লাব ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার অর্থায়নের ব্যবস্থা করেন বিখ্যাত ব্যবসায়ী প্রিন্স করিম আগা খান। ক্লাব ভবনের ভিত্তি স্থাপন করতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি সাংবাদিক নেতাদের ডেকে বলেন, প্রেসক্লাব হচ্ছে একটি জাতীয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এর উন্নয়ন মানে গণতন্ত্রের উন্নয়ন, সাংবাদিকতার প্রসার। অতএব, বিদেশী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থে এ প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মিত হওয়া উচিত নয়। তা হলে সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এটা নির্মিত হবে আমাদের নিজস্ব টাকায়। তৎক্ষনাৎ তিনি সরকারি খরচে সব ব্যয় নির্বাহের ঘোষণা দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে শহিদ জিয়ার নামাঙ্কিত ফলক রয়েছে। শুধু ভিত্তিস্থাপন ও অর্থানুকূল্য দিয়েই বসে থাকেননি। তিনি প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ কাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন এবং পর্যবেক্ষণ করেন। পরে বাস্তবে জিয়ার আকাঙ্খা পূরণ হয়েছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রেসক্লাব হয়ে ওঠে ‘গণতন্ত্র স্কোয়ার’।
এখানে একটি তথ্য খুবই প্রাসঙ্গিক, সেটি হলো প্রেসক্লাবের বর্তমান জায়গাটি ১৯৭৪ সালে হাতছাড়া হয়ে যায়। প্রেসক্লাবের জন্য শেখ মুজিব সরকার মাত্র এক বিঘা জায়গা বরাদ্দ করেছিলেন শিল্পকলা একাডেমির পাশে। সে সময় সাংবাদিকরা তার সে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। কারণ বর্তমান প্রেসক্লাবের স্থানটি ১৯৫৪ সালে তদানীন্তন সরকার সাংবাদিকদের দিয়েছিল। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রেসক্লাবের বর্তমান জায়গাটি ফিরিয়ে দেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের রঙিন সম্প্রচার চালু করে টিভি মিডিয়ায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময়ই এ নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ১৯৮০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশনের রঙিন সম্প্রচারের সূচনা করেন। তার উদ্যোগে বাংলাদেশ টেলিভিশনের দ্বিতীয় চ্যানেলটিও চালু হয়। তখন এই চ্যানেলে প্রভাতি অনুষ্ঠান চালু করেন।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের কারনে তিনি ছিলেন গণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্র নায়ক। তার উদার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারনে দেশের গ্রাম-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ নিমিষেই ভক্ত হয়ে ওঠেন। শহিদ জিয়ার নাম বলতে তারা আবেগাপ্লুত। মৃত্যুর চার দশক পরও গণমানুষের হৃদয়ে শহিদ জিয়ার স্থান এতটুকু কমেনি বরং সেটি সংক্রমিত হয়ে নতুন প্রজন্মের ভেতর ছড়িয়েছে আরো প্রগাঢ় ভাবে।

লেখক বিএনপি মিডিয়া সেল’র সদস্য এবং মহাসচিব, ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন,বাংলাদেশ-ইউট্যাব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ