গণতন্ত্র নস্যাৎকারীকে দেশের মানুষ কখনও পছন্দ করেনি: দুদু - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:০০, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্র নস্যাৎকারীকে দেশের মানুষ কখনও পছন্দ করেনি: দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২, ২০২৩ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২, ২০২৩ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
কোনও জুলুমবাজ, ক্ষমতা অপহরণকারী, গণতন্ত্র নস্যাৎকারীকে দেশের মানুষ কখনও পছন্দ করেনি, মেনে নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আর বেশি দিন নেই। এই বছর পার করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

শুক্রবার (২ জুন) বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে জিয়া নাগরিক ফোরাম (জিনাফ) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।

মানববন্ধনে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ইয়াহিয়া খান, আইয়ুব খানকে বিতাড়িত করেছে এই দেশের মানুষ। এটা মনে রাখতে হবে। এটা যদি বর্তমান অবৈধ সরকার মনে রাখে, তাহলে সেটি তাদের জন্য ভালো, দেশের জন্য ভালো, দেশের মানুষের জন্য ভালো।

তিনি বলেন, তারেক জিয়ার বড় পরিচয় হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দেশের মানুষের স্বপ্নের সারথি, নায়ক। কিন্তু সেই দেশ নায়ককে দেশে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। তাকে দেশের বাইরে প্রবাস জীবনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। ১৭ বছর তিনি দেশের বাইরে। এটিই প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। স্বৈরতন্ত্র বিদ্যমান। সে কারণে দেশের মানুষ এখন নিষ্পেষণ থেকে মুক্তি চায়। ভোটাধিকার চায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যারা ৫২ বছর আগে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, তারা তাদের প্রতিনিধিকে পছন্দমতো নির্বাচিত করতে চায়। বিএনপি এবং বিরোধী দল এই কথা যখন বলতো, সরকার তখন উপহাস করতো। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন একটি স্বাধীন দেশের কী মর্মান্তিক অবস্থা তৈরি করেছে। এটি এই দেশের দিকে না তাকালে বোঝা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতির কথা উল্লেখ করে দুদু বলেন, বিশ্বের ভিসানীতি কখনও বিচার বিভাগকে স্পর্শ করেনি। এবারের ভিসানীতির মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগকেও তার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। কে করেছে? এই সরকারের অপনীতি, লোভ, লুটপাট, সীমাহীন দুর্নীতির কারণে আজকে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি ভয়ংকর রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে। আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া সবাই এখন এক ভাষায় কথা বলছে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন।

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, এই বছরের শেষ এবং আগামী বছরের শুরুতে যে নির্বাচন হওয়ার কথা সাংবিধানিকভাবে, সে সংবিধান আওয়ামী লীগের সংবিধান। যে সংবিধানে এক সময় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেটি এখন নেই। সেটি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, এই সরকার সহজে ক্ষমতা ছাড়বে এটি আমি মনে করি না। তাদের ক্ষমতা ছাড়া করতে হবে। কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরতান্ত্রিকরা সহজে ক্ষমতা ছেড়েছে বিশ্বে এমন নজির নেই। বাংলাদেশেও নেই। বেগম খালেদা জিয়া, দেশ নায়ক তারেক রহমান, বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আসুন আমরা রাজপথে নেমে আসি। ইনশাআল্লাহ, এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

জিনাফের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. ইব্রাহিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদের সঞ্চালণায় প্রতিবাদী মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমত উল্লাহ, ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ এর সভাপতি কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ