গণতন্ত্র বিশ্বাস করলে নির্বাচনের কথা বলতে হবে: মান্না
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মে ২৮, ২০২৫ ১১:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মে ২৮, ২০২৫ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, নির্বাচন অস্বীকার করে আমরা দেশ চালাতে পারব না। যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে নির্বাচনের কথা বলতে হবে, নির্বাচনের পক্ষে বলতে হবে। এখন আপনি চোরকে ভোট দেন, তাহলে ক্ষমতায় গিয়ে সে চুরিই করবে। তার জন্য আপনি তাকে দোষ দিতে পারবেন না। তাই আপনারা ঠিক করুন যে, আমরা ভোট দেব, কিন্তু চোর-তস্করকে ভোট দেব না। সেটার ক্যাম্পেইন করুন। খালি নির্বাচনের বিরুদ্ধে বললে কিন্তু কোনো লাভ হবে না। বরং নিজে নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন।
বুধবার (২৮ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গণশক্তি সভা কর্তৃক ‘জনদুর্ভোগ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা বলি, এই নির্বাচিত সরকারের সুবিধা কী? আপনি নির্বাচনটা এমনভাবে করেন যাতে কলব্যাক করা যায়। কলব্যাক মানে হচ্ছে—পারছে না সে, তাকে আর রাখতে চাই না। এই অধিকার ভোটারদের থাকতে হবে। একইভাবে আমি মন্ত্রীদেরও কলব্যাক করতে বলি। এরকম সিস্টেম করলে ক্ষমতাটা এমনভাবে ভাগ হবে যাতে জনগণও একটা কর্তৃত্বের জায়গা পায়। আমরা সংস্কার বলতে কী বুঝি? আমরা সংস্কার বলতে জনগণের অধিকার চাই। এটা শুধু সংবিধানে লেখা থাকলেই হবে না। এমনভাবে করতে হবে যাতে এটা যথার্থ হয় এবং প্রতিষ্ঠিত হয়।
মান্না বলেন, মানুষ কেন যেন বিশ্বাস করতে চায় না যে এরপর নির্বাচিত যে সরকার আসবে, সে সরকারটা ভালো হবে। তাহলে কী করবে? নির্বাচন দেবে না? নির্বাচিত সরকারের উপর যদি বিশ্বাস না থাকে, তাহলে কয়েকদিন আগে যে ক্যাম্পেইন হলো—ড. ইউনূস পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকুন। কিন্তু আমি বলি, উনি কীভাবে থাকবেন? আমি সবার বিবেকের কাছে জানতে চাই, উনি কি ভোট ছাড়া থাকবেন? এটা কি উচিত হবে বলে মনে করেন? আজকে উনাকে যেভাবে ভালোবাসছেন, পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলে কি এরকম ভালোবাসা নিরন্তর থাকবে? কোনো কিছুর দাম বেড়ে গেলে, কড়া বক্তব্য বা বিবৃতি দিলেই তো আপনাদের মন খারাপ হয়ে যাবে। সুতরাং, পাঁচ বছর বিনা ভোটে থাকলে সেটা কোনো ভালো কাজ হবে না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ যাতে না আসতে পারে, সেই রকম একটা সংস্কার দরকার। ফ্যাসিবাদ কখন আসতে পারে না? শেখ মুজিব ফ্যাসিবাদ এনেছিলেন, শেখ হাসিনাও ফ্যাসিবাদ আনলেন। এই সংবিধান দিয়েই দেশ শাসন করলেন। বেগম জিয়া তেমন ফ্যাসিবাদ আনেননি। একটায় আছে মানসিকতা, আরেকটা হচ্ছে—এই সংবিধান কি কোনো গ্যারান্টি দিতে পারে, যাতে কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে? কই, ট্রাম্প তো ওখানে মার্শাল ল’র চিন্তা করতে পারলেন না। তিনি তো ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চিন্তা করতে পারলেন না এবং ওই নির্বাচনে তিনি পরাজয় স্বীকার করলেন। আমাদের এখানে যদি এমন হতো যে, আমাদের ক্ষমতাগুলো বিকেন্দ্রীকৃত থাকত, তাহলে দেখতেন—এভাবে একা একা পালিয়ে যেতে হতো না।
শেষ পর্যন্ত পরাজয় কেন হলো? আর্মি চিফ, এয়ারফোর্সের চিফ বললেন যে গুলি করতে পারবেন না। তারা যদি তা বলতে পারে—যখনই অন্যায় দেখবে তখনই যদি বলে এটা ঠিক হচ্ছে না, বলবার মতো অধিকার থাকে—তাহলেই দেখবেন শাসকগোষ্ঠী অনেকটা সংযত হতে বাধ্য থাকবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণশক্তি সভার চেয়ারম্যান সাদেক রহমান প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ