গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে: মঈন খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:০৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে: মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ৫, ২০২৪ ৫:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ৫, ২০২৪ ৫:২৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে জা‌নি‌য়ে‌ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের আদর্শে সৃষ্টি হয়েছিল। আর গণতন্ত্র রক্ষার মুল কবজ হচ্ছে মুক্ত গণমাধ্যম। আজকে সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে নতুন করে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করব। এটাই হোক বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আমাদের শপথ।

রবিবার (৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকার নিয়ে মানুষের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সকল দায়দায়িত্ব সরকারের। কারন সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সাধারণ মানুষ বাধা দেয় না, মানুষের কথায় বলায় আরেকজন বাধা দেয় না, বাধা দেয় সরকার।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু বিশ্বে এমনও আলোচনা হয়েছে গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ নয়, প্রথম স্তম্ভ। মিডিয়া একটি রাষ্ট্রের শক্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী। কারন সরকার যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন মিডিয়া অন্যায়কে প্রকাশ করে দিয়ে একটি রাষ্ট্রকে ভাঙতে পারে, নতুনভাবে গড়তেও পারে। এই সত্য আজকের সরকার যতই তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করবে ততই তাদের জন্য ভালো হবে।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনিই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকে আওয়ামী লীগ তাকে সৈনিক বলেন সম্বোধন করেন। একজন সৈনিক যদি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের কেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেয়?

মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে, সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের মুলমন্ত্র ছিল গণতন্ত্র। দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে, একদলীয় শাসন কায়েম হয়ে থাকে, মুক্ত চিন্তা বিকাশের সুযোগ না থাকে, ১৮ কোটি মানুষকে যদি আওয়ামী লীগের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী একই লাইনে চলতে বাধ্য করা হয় সেখানে গণমাধ্যমে স্বাধীনতা থাকে না।

সভাপতির বক্তব্যে রহুল আমিন গাজী বলেন, গত ১৫ বছরে ৬০ জন সাংবাদিক হত্যা করা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যার আজও বিচার হয়নি। ৫০০ শতাধিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমপি মন্ত্রী বা সরকার দলীয় লোকজনের দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। অনেকে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে আজকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সর্বপ্রথম নিশ্চিত করতে হবে।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে ভয়াবহ ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আজকে সাংবাদিকদের কাজ করতে হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও গণমাধ্যমর টুটি চেপে ধরা হয়েছে। সরকার হাতিয়ার হিসেবে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে। অনিয়ম দুর্নীতি প্রকাশ করলে তাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এটাই কি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা? ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে না পারলে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে না?

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন বাজার ১২০০ কোটি টকার বেশি। কিন্তু এই বিজ্ঞাপন এখন চলে যাচ্ছে ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও ইউটিউব চ্যানেলে। আগে মানুষ সকাল বেলা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়তো, আর এখন সত্য খবর না থাকায় তারা বিমুখ হয়ে পড়েছে।

বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে মহাসচিব ও বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, বিএফইউজ যুগ্ম মহাসচিব বাছির জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খান, ডিইউজের দফতর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ