গণভোটের চারটি প্রশ্নের কোনো একটিতে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগ কোথায়: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:০০, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণভোটের চারটি প্রশ্নের কোনো একটিতে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগ কোথায়: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ১৫, ২০২৫ ২:৩৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ১৫, ২০২৫ ২:৩৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের চারটি প্রশ্নের কোনো একটির সঙ্গে দ্বিমত থাকলে সেখানে ‘না’ বলার সুযোগ কোথায়, তা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অসুস্থ বেতার শিল্পী আফরোজা নিজামীকে আর্থিক সহযোগিতা অনুষ্ঠান শেষে এ প্রশ্ন করেন তিনি। এ সময় বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, “গোঁজামিল দিয়ে কোনো কিছু করা হলেও তা টেকসই হবে না। ৯০ ভাগ মানুষ যদি বুঝতে না পারে গণভোটের উদ্দেশ্য কী, তাহলে তারা বিভ্রান্তির মধ্যে থাকবে।” সাধারণ মানুষ বিষয়টি বুঝবে— সেই আলোকে গণভোটের প্রশ্নমালা তৈরির পরামর্শ দেন রিজভী।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “গণভোটে যে চারটি প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে ‘না’ এর অপশন নেই। একমত হতে না পারলে জনগণ তাদের মতামত কীভাবে দেবে তা উল্লেখ নেই।”

রিজভী বলেন, “সারাদেশে অনেক মানুষ দুর্ভোগে আছে, এসব দুর্ভোগ লাঘবে রাষ্ট্রের কোনো তৎপরতা নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই সেবামূলক কাজে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তেমন দেখা যায়নি। গণভোট ও পিআরসহ নানা দাবি না তুলে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের উচিত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।”

বিএনপি জুলাই সনদের পক্ষে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “কিন্তু জুলাই সনদ জাতির সামনে ঠিকমতো উপস্থাপন করা হয়নি। আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা দরকার ছিল।”

তিনি বলেন, “ভারত থেকে বিপুল অর্থে দেশে নাশকতা তৈরির চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। তারা দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। শেখ হাসিনার বিচারের বিষয় আদালতের, মানুষ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চায়।”

দেশের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ঘোলাটে পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, “পতিত স্বৈরাচার পাশের দেশে বসে নানা ষড়যন্ত্র করছে। ঢাকা-গাজীপুরসহ নানা জায়গায় গাড়ি পুড়িয়ে সহিংসতা চালাচ্ছে তারা। এই সংস্কৃতি হলো আওয়ামী সংস্কৃতি। সরকার প্রথম থেকে ফ্যাসিবাদের বিষদাঁত ভেঙে ফেললে এখন এটা হতো না।”

যে চারটি বিষয়ে গণভোট—
ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ