গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:০৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। নেতারা বলেছেন, জনগণের স্পষ্ট রায় উপেক্ষা করে সরকার একদিকে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী কণ্ঠ দমনে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারকেই দায়ী করে নেতারা বলেন, দাবি আদায়ে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। গতকাল রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক মোড়ে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সমাবেশ ও গণমিছিলে এসব কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। গণমিছিল পূর্ব সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সমাবেশ শেষে গণমিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে শান্তিনগর প্রদক্ষিণ করে।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজপথের আন্দোলন সরকারের জন্য ভালো বার্তা দেবে না। যে গণভোটে আমরা সবাই অংশগ্রহণ করেছি। প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন। সেই গণভোট আপনারা ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়ন করবেন, সে ওয়াদা জনগণকে দিয়েছিলেন। আজকে ক্ষমতায় আসার পর আপনারা আওয়ামী ফ্যাসিস্টের মতো ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে ১৬ বছর মানুষ আন্দোলন করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা আজ জনগণকে রাজপথে দমন করবেন পেটুয়া বাহিনী দিয়ে, তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের ব্যাপারে আপনারা সংবিধানের দোহাই দেন। কোন সংবিধানের বলে আপনারা ক্ষমতায় আছেন, প্রধানমন্ত্রী এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। একটি আইন মানবেন আরেকটি আইন মানবেন না, যেটা আপনাদের পক্ষে যায় সেটা মানবেন, বিরুদ্ধে গেলে সেটা মানবেন না। এটা জনগণ মেনে নেবে না। আন্দোলনে আপনারাও ছিলেন, আমরাও ছিলাম। জনগণকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না।

কেয়ারটেকার সরকার প্রসঙ্গ টেনে এটিএম আজহারুল বলেন, আপনারা তখন কেয়ারটেকার সরকার মানেন নাই। মানতে বাধ্য হয়েছেন জনগণের আন্দোলনের মুখে। কিন্তু আপনাদের জন্য সুখকর হয় নাই। আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারেন নাই। আজকে কীভাবে ক্ষমতায় এসেছেন বাংলাদেশের জনগণ জানে। কি পরিমাণ ভোটের রেজাল্টে আপনারা কারচুপি করেছেন জনগণ ভালো করেই জানে। জনগণ থেকে সম্পূর্ণ ভোট পেয়ে আপনারা ক্ষমতায় নেই। আপনাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে শুরু করেছে। জনগণের ভাষা বুঝুন, মাঠে নামতে বাধ্য করবেন না। জনগণ যদি আন্দোলন করতে মাঠে নামে, দাবি আদায় করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না। সুযোগ থাকতে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করা শুরু করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো।

জ্বালানি নিয়ে জামায়াতে ইসলমীর এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা যখন সংসদে জ্বালানি নিয়ে কথা বলি, তখন জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির কোনো সংকট নেই। সংকট না থাকলে কর্মঘণ্টা কেন কমিয়ে আনলেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন হয়েছে, একটি সরকার গঠন হয়েছে। কিন্তু সরকারের আচরণ দেখে মনে হয় না বাংলাদেশে ৫ই আগস্ট বা ২০২৪ এর কোনো পরিবর্তন হয়েছে। সরকারের আচরণ দেখে মনে হয় না হাসিনার পতন হয়েছে, ভারতে পালিয়ে গেছে। কারণ হাসিনার সরকার ছিল গণবিরোধী সরকার। আর বর্তমান সরকারও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, গণবিরোধীর খেতাব অর্জন করতে যাচ্ছে। এজন্য গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন করে নাই, এ জন্যই জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা অপেক্ষা করেছিলাম বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু ১২ তারিখে যেটা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেটা হলো গণতন্ত্রের বদলে জিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তারা ব্যাংকগুলো দখল করেছে, দুদক দখল করেছে, ১১ দলীয় জোটের নেতাদের বাসায় হামলা চালাচ্ছে। জনগণ যার ভিত্তিতে ভোট দিয়েছিল, সেই জনগণের হাতে বালতি ধরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাবে শহীদ ওসমান হাদির পথে, ’৭১ এর পথে, ’২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের পথে। এই পথে যদি কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমরা তাদের প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত রয়েছি।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ২৪’এর গণ-অভ্যুত্থানে জুলাইয়ে যে পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলেন, আজকে যারা ক্ষমতায় তারাই সেটার সঙ্গে গাদ্দারি শুরু করেছে। জনগণ রায় দিয়েছে। এই সংসদের উচিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা।

জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, গ্রামাঞ্চলে গড়ে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন খুব কষ্টে কাটছে। তেলের লাইনে মানুষের যে লাইন দেখি, মানুষ অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। সেই সময় সরকার বলতে চায়, জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরকারকে কঠিন ভাষায় কথা বললে কালকে আবার বাসায় হামলা হবে। এজন্য বিনয়ের সহিত সম্মানের সহিত বলতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় জ্বালানিমন্ত্রী এতই যদি মজুত থাকে তাহলে এত বড় বড় লাইন কেন? এই মজুত কোথায় রেখেছেন, নতুন হাওয়া ভবন কোথায় সৃষ্টি করেছেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল হক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ