গণমিছিলের যুগপৎ কর্মসূচিতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণমিছিলের যুগপৎ কর্মসূচিতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২২ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২২ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

গণমিছিলের যুগপৎ কর্মসূচিতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটিয়ে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল শুক্রবার দুপুরের পর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা’য় ঘোষিত ১০ দফা দাবিতে এ মিছিল শুরু হবে। এ কর্মসূচিতে ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

যুগপৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমমনা জোট ও দলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে লিয়াজোঁ কমিটি। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে যুগপৎ আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলসহ আগামীতে কী ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে, সেসব নিয়ে চুলচেরা বিশ্নেষণ করেন তাঁরা। বিভিন্ন জোট ও দলের নেতাদের মতামত গ্রহণ করেছেন বিএনপি নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ আবারও এসব দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক আছে দলটির। এ বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাবনা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির ঘোষিত শুক্রবারের এ কর্মসূচিতে তিনটি জোট ও পৃথকভাবে আরও তিনটি দল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩টি দল সমর্থন জানিয়েছে। একই দিন তারাও পৃথকভাবে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চের সাতটি দল, ১২ দলীয় জোটের বারোটি দল, ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের এগারো দল এবং জামায়াত, এলডিপি, গণফোরাম (মন্টু) রয়েছে। এর বাইরে আরও বেশ কয়েকটি দল নিজেদের মতো করে ওই কর্মসূচি পালন করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর সঙ্গে কর্মসূচি সমন্বয়ের জন্য গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এই দিনটিকে তাঁরা ‘ভোট ডাকাতি’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। এবারও তাঁরা একদিকে সরকার পতনের আন্দোলনে ১০ দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করবেন, তেমনি ভোট ডাকাতির দিবসও পালন করছেন। গণমিছিলের মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে। আগামীতে আরও নতুন কর্মসূচি আসছে।

এদিকে, গণমিছিল কর্মসূচি সফল করতে বিএনপির পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আয়োজক নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জানান, তাঁদের শান্তিপূর্ণ এই মিছিলে কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটবে।
শুধু দলীয় নেতাকর্মী নন, ছুটির দিন থাকায় অনেক সাধারণ মানুষও তাঁদের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
বিএনপি নেতারা জানান, গত জুলাই থেকে তাঁদের রাজপথের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন বেশ উজ্জীবিত। সারাদেশে মামলার পাহাড়, ধরপাকড়, হামলার পরও যে কোনো কর্মসূচিতে তাঁরা অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের এ মনোবল ধরে রাখতে সব ধরনের চেষ্টা, কৌশল ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একটি কর্মসূচি থেকে আরেকটি কর্মসূচির সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে নেতাকর্মীরা রাজনীতিতে ব্যস্ত সময় পার করতে পারেন। এর মাধ্যমেই তাঁরা সরকার পতনের এক দফা ও চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঢাকায় লোক সমাগমের জন্য এরই মধ্যে ঢাকা মহানগরের প্রত্যেক থানা, ওয়ার্ড এমনকি ইউনিট পর্যায়ের নেতাকর্মীর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের প্রত্যেক অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর বাইরে ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকেও অনেক নেতাকর্মী আসবেন বলে আয়োজক নেতাদের অনেকে জানিয়েছেন।

জোট ও দলের সঙ্গে বৈঠক :নিজেদের প্রস্তুতির পাশাপাশি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকেও একই দিন, একই সময়ে মাঠে নামানোর কৌশল নিয়েছে বিএনপি। রাজধানী ঢাকায় যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি ‘গণমিছিলের’ মধ্য দিয়ে ঐক্যের যাত্রাকে দৃঢ় করতে চায় বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল ও জোট। এ ছাড়া এই কর্মসূচির পর নতুন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরু করেছেন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা। দলটির নীতিনির্ধারক নেতাদের মতে, ঢাকাসহ ১০ বিভাগীয় গণসমাবেশে নেতাকর্মীর মধ্যে আন্দোলনের ব্যাপারে যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে, সেটি ধরে রাখার জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। এ ব্যাপারে সমমনা দল ও জোটের নেতাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘১২ দলীয় জোট’ ও ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বিএনপির লিয়াজোঁ (সমন্বয়) কমিটির নেতারা। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে এবং বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এলডিপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতারা। এসব বৈঠকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, অত্যাচার ও নির্যাতন’ এর বিরুদ্ধে যুগপৎ কর্মসূচি দেওয়ার মতামত ওঠে এসেছে।
গণমিছিলের রুট :নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর-মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার হয়ে বাংলামটর পর্যন্ত গণমিছিল করবে বিএনপি। এ গণমিছিল হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। একই দাবিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় গণমিছিল করবে জামায়াত। কর্নেল অলির এলডিপি কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকা থেকে মগবাজার ও মালিবাগ এলাকায় গণমিছিল করবে। গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাবেশ শেষে জিপিও হয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে দিয়ে আবারও পল্টন মোড়ে এসে মিছিল শেষ করবে। পল্টনের বিজয়নগর পানি ট্যাঙ্কের সামনে থেকে কাকরাইল এলাকায় মিছিল করবেন ১২ দলীয় জোটের নেতারা। ১১ দলীয় জোটের নেতারা একই স্থান থেকে মিছিল শুরু করে শান্তিনগর-মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার হয়ে বাংলামটর গিয়ে শেষ করবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ