গণমিছিলে পুলিশ সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেছে : জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২২ ১০:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২২ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং ১০ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত ঢাকা মহানগরীতে গণমিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিল শুরু হওয়ার পর কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ বাধা দেয় এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের উসকানি সত্ত্বেও জামায়াত শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।’
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হলো—জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। কিন্তু তা না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করছে এবং জামায়াত হামলা করেছে বলে মিথ্যা অপবাদ রচনা করছে। জামায়াত কখনো হামলা-সংঘাতের রাজনীতি করে না।
‘গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সফল করায় আমি নগরবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ পৃথক পৃথকভাবে গণমিছিলের আয়োজন করে। পূর্ব ঘোষিত শান্তিপূর্ণ এই মিছিলে সরকার বাধা দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। কোটি কোটি মানুষের প্রিয় সংগঠন জামায়াতের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে এক দিকে সংবিধানকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।’
ভারপ্রাপ্ত আমির সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘জামায়াত একটি বৈধ গণতান্ত্রিক-নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ ব্যতীত প্রত্যেক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অংশগ্রহণ করে এবং প্রত্যেক সংসদেই জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল। প্রত্যেক আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা লক্ষাধিক ভোট পেয়েছেন। কোটি কোটি মানুষের সমর্থন যে দলের সঙ্গে রয়েছে, সে দলটিকে কথা বলতে দেওয়া হবে না, এটা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে শক্তি প্রয়োগ করে থামিয়ে দেওয়া যায় না। জামায়াত নিয়মতান্ত্রিকভাবেই তার সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।
‘কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি উৎসাহী কিছু কর্মকর্তা জামায়াত মিছিল বের করলেই বাধা দিয়ে জামায়াত হামলা করেছে মর্মে প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে অপকৌশল গ্রহণ করেছে, তা জনগণ বিশ্বাস করে না। এই ভূমিকা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকেরই সভা-সমাবেশ ও মিছিল করার অধিকার আছে। এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করে আপনারা জনগণ ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমরা অবিলম্বে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেপ্তার সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। সেই সঙ্গে ১০ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
মেহেরপুরে ৮ নারী গ্রেপ্তারের নিন্দা
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলা থেকে আট নারীকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম আজ শুক্রবার পৃথক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আটজন মহিলা কর্মীকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কোনো কারণ ছাড়াই পর্দানশীন এসব নারীদের গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
‘গ্রেপ্তার-নির্যাতন চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে দমানো যাবে না।’ অবিলম্বে আটজন নারীসহ সারা দেশে গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সব নেতাকর্মীকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান এ টি এম মা’ছুম।
জনতার আওয়াজ/আ আ