গাইবান্ধা-৫ ফুলছড়ি-সাঘাটায় ‘টক্কর’ দিতে চান যারা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২ ৬:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২ ৬:৩০ অপরাহ্ণ

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনটি দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পাটির শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে ভুল হলে আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে। এই আসনে স্বাধীনতার পর থেকে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে পাঁচবার জাতীয় পার্টি, চারবার আওয়ামী লীগ ও দুইবার বিএনপি জয়লাভ করেছে। রাজনৈতিক কারণে বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে এখানে জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।
ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) শূন্য আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন তার বড় মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলী, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ ও যুবলীগ নেতা সুশীল চন্দ্র সরকার। এছাড়া নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন পেতে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আলম সরকার ও সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জুর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করতে দেখা যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ আসনে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে ফারজানা বুবলি বলেন, তিনি ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার বাবা প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার। বাবার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনী মাঠে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে কাজ করছেন। তিনি মনে করেন দল তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। বুবলি নির্বাচিত হয়ে তার বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চান।
এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করেনে। নির্বাচিত হলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানসহ এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিক জোন হিসাবে গড়ে তুলতে চান।
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, দল সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং যোগ্য প্রার্থীকেই নৌকার মাঝি করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাতি হয়ে সাধারন মানুষের কাজ করেছি আমাকে মনোনয়োন দিলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতে পারবো।
এদিকে, বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নিরবাচনে অংশ নিচ্ছে না। যদিও অনেক জায়গায় বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্রভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। ফলে এখানের উপ-নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে ভোটারদের মধ্যে।
এই আসন থেকে নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন সময় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আলম সরকার। তবে নির্বাচনের বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অপর দিকে, এই আসনে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। এখানে উপ-নির্বাচনে সাঘাটা উপজেলা জাপার সভাপতি এবং পরপর দুইবার নির্বাচিত সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আইনজীবী গোলাম শহীদ রঞ্জু প্রার্থী হবেন বলে নেতাকর্মীরা প্রচার চালাচ্ছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় গোলাম শহীদ রঞ্জুর রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে। এ সুনামকে কাজে লাগিয়েই তিনিও দলের মনোনয়ন চাইবেন।
উল্লেখ্য, এই আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওয়ালিউর রহমান রেজা, ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে বিএনপির রোস্তম আলী মোল্লা, এরপর ১৯৮৬ সালে, তৃতীয় ১৯৮৮ সালে, চতুর্থ ও ১৯৯১ সালে পঞ্চম নির্বাচলে জাতীয় পার্টি থেকে ফজলে রাব্বি মিয়া, ১৯৯৬ সালের (১৫ ফেব্রুয়ারি) ষষ্ঠ নির্বাচনে বিএনপির মতিউর রহমান, ১৯৯৬ সালের সপ্তম নির্বাচলে জাতীয় পার্টি থেকে ফজলে রাব্বি মিয়া এবং ২০০১ সালের অষ্টম নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে বেগম রওশন এরশাদ জয়লাভ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালের নবম, ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফজলে রাব্বি মিয়া আওয়াামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জনতার আওয়াজ/আ আ