গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৯, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

 

ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুমার নামাজের পর খাবার হোটেলে এক ছাত্রের জামায় তরকারির ঝোল গায়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলা বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হোসেন জারিফ ও ইংরেজি বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জুবায়ের হোসাইন রনি তার বন্ধু ও বড় ভাইদের ডাকলে তাদের সাথে মারামারি হয়। এতে আহত হয় ২ জন শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৭ মে) দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়ার মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম আহমেদ তরকারি নেয়ার সময় জারিফের গায়ে তরকারির ঝোল পড়লে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হলে সিয়ামের পক্ষে এগিয়ে আসেন তার বন্ধু রণি। তাদের মধ্যে আবার তর্কাতর্কি হয়। এর জের ধরে জারিফকে মারার উদ্দেশ্যে রনি তার বন্ধুবান্ধব ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী তাহসিন আজাদ সহ অন্যান্য বন্ধুদের জিয়া মোড়ে ডেকে আনে। পরে জারিফ তার সাদ্দাম হোসেন হলের বড় ভাই ছাত্রলীগের সহসভাপতি শিমুল খানকে ডাকলে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রলীগের সহসভাপতি রতন রায় সমাধানের উদ্যেশ্যে রণিকে ডেকে চড় থাপ্পর দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জোবায়ের হোসেন রণি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রতন রায়ের অনুসারী। অন্যদিকে মারুফ হোসেন জারিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের অন্য সহসভাপতি শিমুল খানের অনুসারী।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের কর্মী জোবায়ের হোসেন রণি বলেন, আমি ভাইকে চিনতে পারিনি। গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে ভাই আমার মা-বাবা ধরে গালি দেয় এজন্য বাকবিতন্ড হয়। কিন্তু এখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মারুফ হোসেন জারিফ বলেন, নামাজ পড়ে যখন খাইতে বসলাম তখন পাশে এক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল, একটু ঝোল পড়লে তাঁর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। যার পোশাকে ঝোল পড়লো সে কিন্তু এত আপত্তি করেননি। পাশের থেকে রনি নামের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এসে খেপে যায়। মারার জন্য উদ্যত হয় তখন সিনিয়র হিসেবে আমি বাসন নিয়ে তার দিকে এগিয়ে যায়। তখনও মা বাবা নিয়ে গালি দেয়। এবং আশেপাশের কয়েকজন বন্ধু ডেকে আনে। আজাদ নামের শিক্ষার্থীও ছিল। তারপর দোকান থেকে চলে এসে শিমুল ভাইকে বিষয়টা জানাই। ঐদিক থেকে জিয়ামোড়ে দাঁড়িয়ে রনি বলে, ‘আসো, সামনে আসো, দেখি কী করতে পারিস!’ তখন কিন্তু শিমুল ভাইও ছিল। তখন শিমুল ভাইয়ের সামনে আইসা বলতেছিল (রনি), ভাই , কুষ্টিয়া যাওয়া লাগবে না??। ভাইয়েরা খেপে যায়, এই পর্যন্ত আসে। এরপর ভাইয়েরা বিষয়টা সমাধান করে দেন।

সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শিমুল খান বলেন, জারিফ তাৎক্ষণিক বিষয়টা মীমাংসা করার জন্য আমাকে বলে। পরে দু’জনের মীমাংসা করার জন্য রনির কাছে যায়, সে আমাকে আগে থেকে ভালো করেই চিনতো। কিন্তু ওই সময় উগ্র আচরণ ভালো লাগেনি। সিনিয়র ভাইয়ের প্রতি সম্মানবোধটুকু তার নাই। আমি গিয়ে পরিস্থিতি থামাতে গেলে সে আরো উচ্চবাচ্য করে আমার উপর। এবিষয়ে

শাখা ছাত্রলীগের আরেক সহসভাপতি রতন রায় বলেন, গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে জুনিয়র-সিনিয়রদের মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এটা তেমন বড় বিষয় না। আমরা পরে জুনিয়রদের সিনিয়রদের সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে

ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু শুনি নি। তবে বিষয়টি দুঃখজনক ব্যাক্তিগত বিষয়ে মারামারির দায় সংগঠন নিবে না।

সহকারী প্রক্টর প্রভাষক মোঃ ইয়ামিন মাসুম বলেন, ক্যাম্পাসে অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যা আমাদের নজরে পড়ে না। আপনাদের নজরে যেহেতু পড়েছে। সুতরাং দু’পক্ষের কোনো এক পক্ষ অভিযোগ পত্র দায়ের করলে প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নিতে পারে। ঘটনা যেহেতু আজকে বন্ধের দিনে, অফিস টাইমে হয়তো অভিযোগ পত্র জমা দেওয়ার এখনও সুযোগ আছে। তারপরও অফিস টাইমে প্রক্টরের সাথে আলাপ করে দেখতে পারি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ