চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের আস্ফালন কমেনি: নাহিদ ইসলাম - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের আস্ফালন কমেনি: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬ ১২:২২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬ ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন কমে নাই। একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই। এনসিপি-আওয়ামী লীগ একসঙ্গে থাকতে পারে না। হয় এনসিপি থাকবে, নয় আওয়ামী লীগ থাকবে। কোনো জেলায় এনসিপির ১০ জন কর্মীও যদি থাকে, আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরী, বর্তমান মহানগর আমির নজরুল ইসলামসহ ১১ দলের নেতারা।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি এক বছর পূর্ণ করেছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছে এনসিপি। রাজপথে গণ-অভ্যুত্থান থেকে সংসদে গেছে। এটা সহজ কাজ নয়।

তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, পৃথিবীর অনেক দেশের গণ-অভ্যুত্থাণ যদি দেখেন নতুন নেতৃত্বকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাড়াতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশেও সেই চেষ্টা হয়েছে। দমন করার, রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণের সহযোগিতায়, ১১ দলের সমর্থনে এনসিপি সবাইকে অবাক করে দিয়ে জাতীয় সংসদের প্রবেশ করেছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাহিদ বলেন, আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে পারতাম। আপনারা অনেকেই প্রার্থী ছিলেন। আপনারা নির্বাচন করতে পারেননি। আপনারা স্থানীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেন। জাতীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষ আমাদের যেভাবে ভোট দিয়েছে আমরা সেই ভোট ধরে রাখতে পারি নাই। সেই ভোট যদি ধরে রাখতে পারতাম তাহলে ফল অন্যরকম হতো। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তা আমরা ধরে রাখতে চাই। আধিপাত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। নতুন করে শুরু করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণভোটের রায়কে বাতিল করার জন্য আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। আদালতকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। আমরা বলতে চাই, আদালতকে দলীয় এজেন্ডা ব্যবহার করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- দুর্নীতি ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ তৈরি করতে হবে। আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ছোট-মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান। যাতে কোনো চাঁদাবাজ সন্ত্রাস এই চট্টগ্রামে থাকতে না পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরান এবং আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধে যেখানে মুসলিম বিশ্বের নেতা আয়াত উল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছে। তার জন্য যে প্রেস রিলিজ দিয়েছে। তা দেখে আমাদের খুব কষ্ট লেগেছে। বাংলাদেশ আবার কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবলে পড়ল কিনা জানিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টাকে। কেন তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হলো। কোন পরাশক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলো? নাকি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পুরস্কার। তা সরকার আমাদের পরিষ্কার করবে। আন্দোলনের পাশাপাশি আমরা সংসদেও দেশের এবং জনগণের কথা তুলে ধরব।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেন। চট্টগ্রাম বীরের শহর, চট্টগ্রাম ইতিহাসের শহর। চট্টগ্রাম থেকেই আগামির বাংলাদেশের নেতৃত্ব তৈরি হবে। চট্টগ্রামের প্রতি আমরা বিশেষ মনযোগ দেব। চট্টগ্রামকে শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। ভয় পেলে চলবে। সামনে কঠিন লড়াই হবে। আমাদের সমাজের ভয়াবহ জায়গা হলো মাদক। মাদকের কারণে সমাজ ধংস করা হচ্ছে। এখানকার মাদক সম্রাট ইয়াবা বদিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মাদক আর নতুন বাংলাদেশ একসঙ্গে চলতে পারে না। নিশ্চয় তাদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা বলব তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা গণ-অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজিও দেখেছি। মামলাবাজিও দেখেছি। আমরা দুইটি ভোট দিয়েছিলাম। যদি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতে হয়, তাহলে আমাদের যেদিন সংসদ বসবে তাদের উচিত সেদিনই সংস্কারের শপথ নিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করে দেওয়া। ভবিষ্যতে কি হয় আমরা জানিনা। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই। শেখ হাসিনাকে কবে ফিরিয়ে এনে তার ফাঁসি কার্যকর করবেন। দরকার হলে আবার জুলাই হবে। জনগণের উপর ভরসা করতে পারলে তাহলে আমরা দেশকে গড়তে পারবো। যেভাবেই আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। চেয়ারে বসেছেন। আপনার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার হতে হবে বাংলাদেশে কোন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী চলতে পারবে না। ইয়াবা বদিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো পরিবারতন্ত্র, ব্যক্তিতন্ত্র আমাদের ওপর যদি চাপিয়ে দেওয়া হয় তা আমরা মেনে নেব না। আমাদের কেউ থামাতে পারবে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করবই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ