চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৫ ১১:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৫ ১১:১৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আমাদের দেশের জনসাধারণের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে পতন হওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের এজেন্ডা অনুযায়ী বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। একইসাথে এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনারও দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (২০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশী কোম্পানির কাছে ছেড়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মহানগর জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর নায়েবে আমির পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর এবং চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা: এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব, বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইয়াছিন, শ্রমিক নেতা আদনান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি ও রফতানির ৯২ ভাগ কাজ হয়ে থাকে। আমরা মনে করি, চট্টগ্রাম বন্দর শুধুমাত্র অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সাথেও চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক বন্দর খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি আধুনিক টার্মিনাল হিসাবে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত হয়ে উঠেছে।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০১ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে। এতে এক হাজার মিটার দীর্ঘ বার্থ রয়েছে যেখানে একইসাথে পাঁচটি জাহাজের মালামাল উঠানামার কাজ করতে পারে এবং ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজ হিসাবে রয়েছে ২৬ হেক্টর জায়গার উপর উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ইয়ার্ড। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কনটেইনার টার্মিনাল হিসেবে এনসিটি টার্মিনাল বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে।
এছাড়া বৃহত্তর চট্টগ্রাম বন্দরের মূল আয় আসে এই এনসিটি টার্মিনাল হতে। গত অর্থবছরে (২০২৩-২০২৪) এনসিটি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ আয়ের পাশাপাশি রেকর্ড সংখ্যক কনটেইনার হ্যাল্ডলিং হয়েছে যা পূর্বের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৩৭ ভাগ বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট হ্যাল্ডলিংয়ের ৫৫ ভাগ এনসিটি টার্মিনালে হয়। যা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসাবে অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এই নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চালু হওয়ার পর এই টার্মিনালকে আধুনিক টার্মিনালে রূপান্তরিত করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে। যার বর্তমান বাজারমূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে এই টার্মিনালে কোনো প্রকার বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই এবং টার্মিনালটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই টার্মিনালের মাধ্যেমে চট্টগ্রাম বন্দর বিশাল রাজস্ব আয় করছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে এই চালু টার্মিনাল নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আপনারা জানেন, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের কু-নজর পড়ে এই চালু করা ও রাজস্ব খাতের মূল চালিকাশক্তি এনসিটি টার্মিনালের উপর। দেশের অন্যতম অর্থ পাচারকারী ও শেখ পরিবারের প্রধান অর্থ যোগানদাতা সালমান এফ রহমান ব্যাংকসহ দেশের লাভজনক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে সর্বশেষ এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যেই পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল দিয়ে দেয়া হয়েছে, সেই একই পদ্ধতিতে এনসিটি টার্মিনালও বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে।
যদি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান না হতো, তাহলে এতদিনে এই এনসিটি টার্মিনালটি বিদেশীদের হাতে চলে যেত। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলেও সরকারের বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন, বর্তমান সরকারকে বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন তথ্য দিয়ে দেশের রাজস্ব খাত শেষ করার জন্য এবং দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানার জন্য এনসিটি টার্মিনালকে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ কিছু লোকজন সরকারের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের এজেন্ডা শেখ পরিবারের অর্থ জোগান দেয়া অব্যাহত রাখার এবং বর্তমান সরকার ও ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ধূলিসাৎ করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ হতে দাবি করা হয়েছে, এনসিটি বিদেশীদের হাতে দেয়া হলে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।
যার মধ্যে রয়েছে, ট্যারিফ নির্ধারিত থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হতে বঞ্চিত হবে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে আঘাত হানবে। এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। এনসিটিতে নিযুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ওই টার্মিনালে কর্মরত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ চাকুরিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বৈধভাবে বিদেশে চলে যাবে (বর্তমান আয়ের ৫০ ভাগ)।
পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো হস্তান্তরে চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষতি হবে চার হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেবে। বৈদেশিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। বর্তমান কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের মাঝে হতাশা বাড়বে তাদের জীবনমান নিম্নমুখী হবে। অবসর জীবনের অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যতা বৃদ্ধি পাবে। যেহেতু ৫৫ ভাগ আমদানি রফতানি এনসিটি টার্মিনাল দিয়ে হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দর তথা বাংলাদেশের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় চ্যালেঞ্জ তৈরি হলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এছাড়া এই টার্মিনালের পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত। যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ও গোপনীয়তার জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে।
জনতার আওয়াজ/আ আ