চট্টগ্রাম ১২বিএনপিতে একাধিক ৬ দলের একক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
মো. শাহজাহান চৌধুরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে
সারা দেশে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছেন। এজন্য চট্টগ্রাম-১২ আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি’র একাধিক নেতা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আর জামায়াত, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি প্রার্থী চূড়ান্ত করে ভোটারদের মন জয় করতে কাজ করছেন। পটিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১২ আসন। ১৯৯১ সাল থেকে ছিল বিএনপি’র দখলে। ২০০৮ সালে আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। এবার আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি থেকে দু’বারের নির্বাচিত সাবেক এমপি গাজী মো. শাহজাহান জুয়েল, ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু। এ ছাড়া, মনোনয়ন দৌড়ে যুক্ত হয়ে ভেল্লাপাড়ায় নিজ বাড়িতে উঠান বৈঠক করেছেন ব্যাংকার ও সমাজহিতৈষী সৈয়দ হাবিব হাসনাত। অপরদিকে, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জামায়াতের একক প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ইতিমধ্যে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। এলডিপি’র একক মনোনয়নপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি শিল্পপতি এম এয়াকুব আলী। এ ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী ডা. এমদাদুল হাসান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক ডা. শাখাওয়াত হোসাইন হিরুও মাঠে রয়েছেন। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে পীরজাদা সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু রয়েছেন মাঠে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলও প্রার্থী চূড়ান্ত করছে। সাবেক এমপি গাজী মো. শাহজাহান জুয়েল বলেন, দল থেকে দু’বার মনোনয়ন পেয়েছি। পটিয়ার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। মনোনয়ন পেলে আমি আমার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবো। তিনি বলেন, পটিয়া জেলা না হওয়ার পেছনে যতটা না প্রশাসনিক কারণ ছিল তার চেয়েও বেশি ছিল রাজনৈতিক কারণ। আমি নির্বাচিত হয়ে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদে পটিয়াকে জেলা করার প্রস্তাব উত্থাপন করি। আগামীতে আমার প্রথম এজেন্ডা হবে পটিয়াকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু তথা জেলায় রূপান্তর করা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ ইদ্রিস মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। এখন যারা মনোনয়ন চাইছেন, তাদের মধ্যে অনেকে আমার হাত ধরেই বিএনপি’র রাজনীতিতে এসেছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবো। এদিকে, এনামুল হক এনাম বলেন, ২০১৮ সালে নির্বাচন করতে গিয়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। কেন্দ্রে আমার এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এ হত্যাকাণ্ডে উল্টো আমাকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়। ১৬টি মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেছি। ১৬ বছরে কখনো জেলে, কখনো পুলিশের গ্রেপ্তার এড়িয়ে দলীয় কার্যক্রম চাঙ্গা রেখেছি। আমার বিশ্বাস দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকেই মনোনয়ন দেবেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমদ বলেন, দক্ষিণ জেলা ও পটিয়া বিএনপি’র সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে এসেছি। পটিয়ার সঙ্গে আমার নাড়ির বন্ধন। বিগত ১৬ বছর অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। বিশেষ করে আয়নাঘরে বন্দি ছিলাম। মনোনয়ন দিলে দলের আমানত রক্ষা করবো। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ বলেন, পটিয়ার তরুণ সমাজ আমার সঙ্গে আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে তারুণ্যের অফুরন্ত শক্তি কাজে লাগিয়ে পটিয়ার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করবো। দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু বলেন, আমি তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ নির্বাচন করতে আগ্রহী। আমাকে মনোনয়ন দিলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ্। ব্যাংকার সৈয়দ হাবিব হাসনাত দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানান।
এদিকে, এলডিপি’র প্রার্থী এম এয়াকুব আলী বলেন, পটিয়ায় এলডিপি’র চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলির নেতৃত্বে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আমিও সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। আমার বিশ্বাস, দল ২২ দলীয় জোট থেকে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের চারটি আসন ভাগাভাগি চাইবে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দিলে পটিয়াবাসী বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করবে বলেই দৃঢ় বিশ্বাস। জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতির আকাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছি আমরা। পটিয়ায় ব্যাংকের শত শত কর্মী এখন বেকার। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সেই চিন্তা রয়েছে। বেকারত্ব, তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। অপরদিকে, গণঅধিকার পরিষদের ডা. এমদাদুল হাসান বলেন, পটিয়া কেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পটিয়ার মানুষের সেবা করেছি। আগামীতে পটিয়ার মানুষ আমাকে এমপি পদে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দিলে সবকিছু উজাড় করে কাজ করে যাবো। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী পীরজাদা সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু বলেন, আমার বিশ্বাস সুন্নী মতাদর্শভিত্তিক দেশ গঠনে এবার সবাই ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীকেই বিজয়ী করবে। মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক ডা. শাখাওয়াত হোসেন হিরু জানান, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারুণ্যের একজন তৃণমূল প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক।
জনতার আওয়াজ/আ আ