চলমান আন্দোলনে সারাদেশে একযোগে শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:১৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চলমান আন্দোলনে সারাদেশে একযোগে শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৩:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৩:৪১ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে সারাদেশে একযোগে শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। আজ ৬৬টি সাংগঠনিক জেলা সদরে পদযাত্রা করবে দলটি। সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দাবির অংশ হিসেবে যুগপৎ এ কর্মসূচি পালন করবেন নেতাকর্মীরা। ১০ দফা দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এবার জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণে চ্যালেঞ্জও রয়েছে তাদের সামনে। এ কারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকেও প্রাধান্য দিচ্ছে দলের হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে জেলায় জেলায় দায়িত্বশীল নেতারা প্রস্তুতি সভা করছেন। কেন্দ্র থেকে সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে প্রতি জেলায় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে; যাঁরা এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন।

সূত্র জানায়, চলমান আন্দোলনে জনগণকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। বিভাগীয় সদরগুলোয় সমাবেশের মাধ্যমে বড় শোডাউনের পর এবার জেলা পর্যায়ে মূলত তৃণমূলের নেতাকর্মীকে চাঙ্গা করতে চায় বিএনপি। এ কর্মসূচি থেকে আগামী ৪ মার্চ যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে কী কর্মসূচি আসবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কর্মসূচি হিসেবে মহানগরের থানা ও ওয়ার্ডে পদযাত্রার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সমমনা দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার বাইরে জেলা ও মহানগরে গণমিছিলের মধ্য দিয়ে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কারণে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর ওই কর্মসূচি পালিত হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি অবস্থান কর্মসূচি, ১৬ ও ২৫ জানুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, ৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় গণসমাবেশ, ১১ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা, ১৮ ফেব্রুয়ারি মহানগরে পদযাত্রার কর্মসূচি পালিত হয়।

জানা গেছে, ঘোষিত প্রত্যেকটি কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীর প্রতি কঠোর বার্তা রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের। যেসব স্থানে ঢিলেঢালা কর্মসূচি পালিত হবে কিংবা কোনো কারণে কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে। প্রয়োজনে শহর ছেড়ে শহরতলিতে গিয়ে হলেও মাঠে নামার জন্য জেলা নেতাদের বলা হয়েছে। দলের কেন্দ্র থেকে প্রতিটি কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করার জন্য গঠন করা হয়েছে সেল। নিয়মিতভাবে এ থেকে জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

ঢাকা জেলার পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সমকালকে বলেন, অনির্বাচিত ও জোর করে ক্ষমতা দখলে রাখা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নন, দেশের সাধারণ মানুষ যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তাদের চলমান আন্দোলনকে একটা পর্যায়ে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো ও দমন-নিপীড়ন বন্ধ এবং খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীর মুক্তি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী গণবিরোধী, সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবিতে জেলা পর্যায়ে এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পর্যায়ের নেতারা জানান, সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচির পর থেকে জেলা পর্যায়ে এ পদযাত্রা সফল করতে তাঁরা নিয়মিত ঘরোয়া ও উঠান বৈঠকের পাশাপাশি, প্রচারপত্র বিলির মতো কার্যক্রম শেষ করেছেন। প্রত্যেক ইউনিয়নে হাটবাজারে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ কর্মসূচিতে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছেন তাঁরা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করবেন। সারাদেশে প্রত্যেক জেলায় পদযাত্রা সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে দুই জোটের বৈঠক: যুগপৎ আন্দোলন সমন্বয় করতে গতকাল বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ১২ দলীয় জোট, এলডিপি ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে সমমনা দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৪ মার্চ সারাদেশে প্রতিটি মহানগরে থানায় থানায় পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ এ কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে। এ ছাড়া আসন্ন রোজার আগে আরও দুটি কর্মসূচি ১১ ও ১৮ মার্চ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন নেতারা। এসব কর্মসূচিও পদযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

বৈঠকে রোজার মধ্যেও জনইস্যুতে কর্মসূচি পালনের বিষয়ে আলোচনা করেন নেতারা। তাঁরা বলেন, এর আগেও রোজার মধ্যে আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এবারও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, তাঁদের হাতে সময় অনেক কম। রোজার এক মাস আর ঈদের ছুটি মিলিয়ে দেড় মাসের ফাঁকে নেতাকর্মীকে চাঙ্গা রাখার কৌশল থাকতে হবে।

বৈঠক শেষে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে চায়। সরকার পাকিস্তান আমলের শান্তি কমিটির মতো আচরণ করছে। এভাবে চলতে থাকলে কখন কী হবে বলা মুশকিল।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ