‘চেতনা ব্যবসায়ীদের কারণেই দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:০৪, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

‘চেতনা ব্যবসায়ীদের কারণেই দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৪ ১:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৪ ১:৪৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। আমাদের সম্পদের অভাব নেই। সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী। কিন্তু শ্রেণি ও গোষ্ঠী বিশেষের অবৈধ ক্ষমতালিপ্সা এবং সঠিক নেতৃত্বের অভাবে আমরা এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও চেতনা ব্যবসায়ীদের কারণেই দেশ একটি অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু জামায়াত একটি গণমুখী, আদর্শবাদী ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে দেশকে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশকে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সর্বশক্তি নিয়ে রাজপথ ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।’

মঙ্গলবার রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চল আয়োজিত এক ভার্চুয়াল ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই দারসুল কুরআন পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ প্রফেসর ড. আবুল কালাম পাটোয়ারী।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।

এ সময় ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য আমিনুল ইসলাম, নোমান আহমেদি, ইউসুফ আলী, আহসান উল্লাহ, খন্দকার রুহুল আমিন, আলাউদ্দিন ও কলিম উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশ করেন হাতিরঝিল সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীরা।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মম তামাশার আয়োজন করেছে। কথিত এ নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোন মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আর এটিই হচ্ছে ফ্যাসিবাদী ও লুটেরাদের আসল চরিত্র। তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি এবং আইনের শাসনকে ধ্বংস ও পদদলিত করেছে। অবৈধ সরকার রাজনৈতিক ময়দানকে প্রতিপক্ষমুক্ত রাখার জন্যই আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পওয়ার এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ বিরোধী দলীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটক করে পুরো দেশকেই অঘোষিত কারাগারে পরিণত করেছে। তাই দেশকে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মুক্ত করতে সকলকে রাজপথের আন্দোলনের জোরদার করতে হবে। তিনি অগণতান্ত্রিক সরকারের পতন ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।’

আব্দুর রহমান মূসা বলেন, ‘মূলত, দুনিয়া হচ্ছে আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। সংগঠন আমাদেরকে আখেরাতে মুক্তির দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে, মানুষকে জান্নাতের পথে আহ্বান জানায়। তাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে জান ও মালের সর্বোচ্চ কোরবানির মাধ্যমে সর্বাত্মক সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। তিনি দেশে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে সকলকে আত্মগঠন ও দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।’

ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘চরিত্র ব্যক্তির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই চরিত্র মাধূর্য্য দিয়েই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে দাওয়াতি মিশন সফল ও স্বার্থক করে তুলতে হবে। সকল ক্ষেত্রেই মানুষকে আল্লাহর গোলামীর দিকে আহ্বান করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই দায়িত্ব দিয়েই নবী-রাসূলগণকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ময়দানে আপোষহীন থাকার আহ্বান জানান।’

মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ইউনিটের মূল দায়িত্ব হলো দাওয়াত সম্প্রসারণ, কর্মী বৃদ্ধি, কর্মীদের মানোন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা। আমল ও আখলাকের এবং সকল কাজে আল্লাহর কাজে জবাবদিহি অনুভূতি সৃষ্টিই ইসলামী আন্দোলনে অন্যতম শিক্ষা।’

প্রফেসর ড. আবুল কালাম পাটোয়ারি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে সময়কে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো অজুহাত না দেখিয়ে সংগঠনের জন্য বেশি বেশি সময় দেয়া দরকার। খরচের ক্ষেত্রে সংগঠনকে সন্তান সমতূল্য মনে করতে হবে। তাহলেই দ্বীন বিজয়ের কাজ সহজ হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে হেমায়েত হোসাইন বলেন, ‘ইউনিট সংগঠনই হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি। তাই প্রত্যেক ইউনিটকে আদর্শ ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই দ্বীনকে বিজয়ী করা সম্ভব হবে।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ