চ ট্ট গ্রা ম ১৪-বিএনপিতে জট, স্বস্তিতে এলডিপি-জামায়াত সুযোগ খুঁজছে বৃহত্তর সুন্নী জোট
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

আমিনুল ইসলাম রুবেল, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) থেকে
ছবি : প্রতিনিধি
২টি পৌরসভা, চন্দনাইশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসন। এক সময় বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি ছিল আসনটি। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম) বিএনপি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। এরপর থেকে এটি এলডিপি’র ঘাঁটিতে পরিণত হয়। তবে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আসনটি কার ঘরে যায় তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইতিমধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে ইসি। এরপর থেকে বিএনপি, এলডিপিসহ ইসলামী সংগঠনের রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে।
এ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের জটিলতা রয়েছে। হাফ-ডজনেরও বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অনেক আগেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। যার ফলে স্বস্তিতে রয়েছে তিন রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কিছু নেতাকর্মীদের চলছে মিটিং-মিছিল, সভা-সমাবেশ, পথসভা ও উঠান বৈঠক। তবে এদের ফাঁকে সুযোগ খুঁজছে বৃহত্তর সুন্নী ঐক্য জোট। সমপ্রতি তিনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম বৃহত্তর সুন্নী ঐক্য জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। তাদের ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে ভোটযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তারাও।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি’র অন্তত হাফ-ডজনেরও বেশি সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুল করিম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম রাজু, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাবেক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী। বেশির ভাগই নানাভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে-ময়দানে সক্রিয় আছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন করে সাজানো বিএনপি’র কার্যালয়ে এখন নেতাকর্মীদের ভিড়।
নিজ দলের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে বিএনপি’র ত্যাগী নেতারা অভিযোগ করছেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে মাঠে থেকেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং অনুপ্রবেশকারীরা টাকা-পয়সার জোরে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় পর্যায়ে। তবে নীরব ভূমিকায় রয়েছেন বিগত সরকারের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিনা ভোটের নির্বাচনে তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী রাজত্ব করেছেন। তবে গত ৫ই আগস্টে সরকার পতনের পর থেকে তিনিসহ নেতাকর্মীদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে এলডিপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একক প্রার্থী ঘোষণা করায় নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিলে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ আসনে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন এলডিপি’র প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক সানী। কারণ দলটির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বিএনপিতে থাকতে এ আসনে পরপর ৫ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে চন্দনাইশে নানান অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন।
ফলে স্থানীয় জনসাধারণ প্রায় অলি ভক্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে বর্তমানে বয়োজ্যেষ্ঠ সকলে তার প্রেমে মশগুল। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপি থেকে অলি আহমদ প্রার্থী হবেন না বলেই তার ছেলে ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক সানীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। বিএনপি ও এলডিপি’র সঙ্গে ভোটযুদ্ধে লড়াই করতে জামায়াত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম পূর্ব জেলার সাবেক সভাপতি আলহাজ মাওলানা আবদুল হামিদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি-একতারা) সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক দল বৃহত্তর সুন্নী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকেও থাকছে নতুন চমক। তাদের মধ্য থেকেও সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব এমএ রহিম, দপ্তর সচিব আবদুল হাকিম ও মজলিসে শূরা সদস্য আলহাজ সৈয়দ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান সমরখন্দি। যেহেতু আসনটি সুন্নী ঘোষিত উপজেলা, সে সুযোগকে কাজে লাগাতে মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন তাদের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের অল্পস্বল্প নেতাকর্মীদের নিয়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি।
জনতার আওয়াজ/আ আ