ছাত্রদল নেতার কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ভাগাভাগি, এসআইয়ের অডিও ফাঁস - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:৪০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ছাত্রদল নেতার কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ভাগাভাগি, এসআইয়ের অডিও ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ১১, ২০২৫ ২:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ১১, ২০২৫ ২:০৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিনের ঘুষ লেনদেন ও ভাগাভাগির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে তাকে ঘুষের টাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার কথা স্বীকার করতে শোনা যায়।

এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে রাজশাহীর এক ছাত্রদল নেতার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথাও অডিওতে শোনা গেছে। তবে এসব অডিও ভুয়া দাবি করে এসআই মহিউদ্দিন বলেছেন, এটি বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিউ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহমুদ হাসান লিমনের সঙ্গে এসআই মহিউদ্দিনের একটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, “তুমি যে আমার বিকাশে টাকা দিয়েছ, সেই স্ক্রিনশট মানুষের কাছে গেল কীভাবে?” উত্তরে লিমন বলেন, “আপনি চার্জশিটের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন, এতে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে।” জবাবে মহিউদ্দিন বলেন, “এখন কী করব বলো? তোমার টাকা খরচ করে ফেলেছি, দিয়া দেব।”

অডিওর আরেক অংশে মহিউদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, “আমি যদি পাঁচ টাকা খাই, সিনিয়র অফিসারকে ফাঁকি দিই না। সিনিয়র অফিসারই তো আমাকে সেইফ করে রাখে।”

এসময় দুই লাখ টাকা লেনদেনের কথাবার্তাও হয়। এছাড়া রাজশাহীর প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু তার আপন চাচা বলেও তিনি দাবি করেন।

আরেক ফোনালাপে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান শিশিরকে এসআই মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। শিশির প্রশ্ন করেন, “আপনি কি তদন্ত করেছেন আমি গেছি কি না বা চুরি করেছি কি না?” জবাবে এসআই বলেন, “না রে ভাই, এগুলো কিছুই নাই। আমি বলেছি, ইনি (শিশির) দুই লাখ টাকা চুরি করবে না। একটা টাকা বা স্বর্ণও চুরি হয়নি।”

এসময় শিশির বলেন, “সুষ্ঠুভাবে যেটা হবে, সেটা করবেন। আমার পক্ষেও করার দরকার নাই।”

অন্য একটি অডিওতে লিমনকে বলতে শোনা যায়, “আমি লিমন নিজে বলছি, আমার নাম থাকুক, কিন্তু ভাইয়ের (শিশির) নামটা শুধু বাদ দেন।” জবাবে এসআই মহিউদ্দিন বলেন, “আমি তো পারব না রে ভাই। মামলার মনিটরিং অফিসার ডিসি স্যার, তার ওপরে কমিশনার। মামলা খালি আমাদের কাছে থাকে তাই, সব ডিরেকশন ওনারা দেন।”

ছাত্রদল নেতা শিশির বলেন, “পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই আমাকে আসামি করেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই মামলা করা হয়েছে। পুলিশ আমার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে এবং পরে অডিও ফাঁস হয়।”

নিউ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব লিমন বলেন, “এসআই নিজেই স্বীকার করেছেন যে, কোনো চুরি হয়নি। তারপরও চার্জশিট দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেছেন। আমি বিকাশে তার কাছে টাকা দিয়েছি, প্রমাণও আমার কাছে আছে।”

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মহিউদ্দিন বলেন, “পুরো কথোপকথনের অনেক অংশ কেটে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। এতে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমি কর্মরত অবস্থায় এমন কিছু বলতে পারি না।”

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, “এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ