ছাত্রদের পরিবর্তনে শিক্ষকদের ক্যাম্পাস ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০২৪ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০২৪ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

ঢাবি প্রতিনিধি
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র- জনতার তোপের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করলে সারাদেশে একধরণের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এরই মধ্য দেশের সব প্রতিষ্ঠানের মতো ক্যাম্পাসগুলোও যেন তাদের নতুনত্ব ফিরে পেয়েছে।
শিক্ষক- ছাত্র সবাই তাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাসকে সাজাতে চায়। তাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস কেমন হবে, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাহাদুর হোসেন ভুইয়া বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে দেশ যে পুনর্বার স্বাধীনতা লাভ করেছে, এখানে আমরা অনেকটা সুস্থ, সুন্দর ও স্বাধীনতা অনুভব করছি। এখন আমরা রাজনৈতিক চাপসহ অন্যন্য চাপ থেকে মুক্ত এবং মুক্ত স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারছি। তাছাড়া এখানে ছাত্ররা রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস চায়, আমরা রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস চাই। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস। বিভিন্ন দলে, গ্রুপে যুক্ত হয়ে মারামারি, কাটাকাটি এগুলো যেন না হয়। তবে আমি ব্যাক্তগতভাবে চাই, জাতীয় রাজনীতি বাদে যে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আছে। সেগুলোর সাথে তারা যুক্ত হয়ে মুক্ত চর্চা করলে তাদের জ্ঞান, গরিমা ও তাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তাফহীমুল জান্নাত বলেন, এই পরিবর্তনের পর আমরা ভালোই অনুভব করছি, ছাত্ররা যে এরকম পরিবর্তন ঘটাতে পারে, কেউই ভাবতে পারেনি। আমি চাই রাজনীতি মুক্ত সুন্দর একটি পরিবেশ। যেখানে কোনো অস্ত্র থাকবে না, মিছিল থাকবে না। দাবিদাওয়া থাকলে শিক্ষকদের সাথে কথা বলবে। তারা আমাদের কাছে কেন কোনো কিছু দাবি করবে। তারা আমাদের সন্তানতুল্য। তারা কোনোকিছু চাওয়ার আগেই তো আমরা দিয়ে দিবো। একটি বিষয় খুবই দুঃখজনক যে, এখানে অস্ত্র পাওয়া যায়।যেখানে আমরা তিনবেলা খেতেই পারি না, সেখানে অস্ত্র পাওয়া যায় কীভাবে। আমি একটা সন্ত্রাসবিহীন ক্যাম্পাস চাই।
পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের এই পরিবর্তননের পর আমি বাক স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছি। আমি আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। আমি এমন ক্যাম্পাস চাই যেখানে হানাহানি, মারামারি হবে না।লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি হবে না। যেখানে ছাত্র- শিক্ষক পরস্পরের আন্তরিকতা থাকবে। যেখানে লেখাপড়ার পরিবেশ থাকবে। যেখান থেকে ছাত্ররা বের হয়ে ভালো একটি চাকরি করবে এবং ভালো নাগরিক হয়ে দেশ সেবায় অংশ নিবে।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল হাই সিদ্দিকী বলেন, সত্যি কথা বলতে আমরাও দ্বিতীয় স্বাধীনতা অনুভব করছি। আমাদেরও ভালো লাগতেছে। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ভীষণ একটা চাপের ভিতর ছিলাম। আমরা আমাদের নিজস্ব বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারতাম না। সত্য বলার সৎ সাহস ছিলো না। সেখান থেকে আমরা কিন্তু উত্তরণ হয়েছি। আমার ছাত্রদের অনেক চাওয়া- পাওয়া ছিলো। বিষেশ করে যারা হলে ছিলো তারা তো অনেক নিগৃহীত হতো। ছাত্রলীগের হাতে মারপিট খেয়েছে, অনেক বঞ্চনা সহ্য করেছে। যেটা আমাদের বুকের ভিতর অনেক রক্তক্ষরণ করেছে। এই আন্দোলনের সময় আমরা অধিকাংশ শিক্ষক তোমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। যেভাবে করেছি, আমরা সরকারি চাকরির কারণে সরাসরি না আসলেও প্রতিবাদ করেছি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে থেকেছি। কারণ আমাদের বিবেকের তাড়নায়।
এই যে দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে স্বাগত জানাই। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এটার কারণে আমাদের ভিতর এক নতুন জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাই একটা মেধাভিত্তিক ক্যাম্পাস। শুধু মেধা নয়, আমাদের এখানে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। হলের যে আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে তা মেধাবীদের পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝেও সমবন্টন হয়। যেনো এখানে কোনো হট্টগোল না হয়। পরিবেশটা যেন এমন হয়, শিক্ষার পরিবেশটা সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। হিংসা, হানাহানি, বিদ্বেষ এগুলো বন্ধ করে আমরা শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পড়াশোনার দিকে যেতে চাই। তাহলে আমরা আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো।
জনতার আওয়াজ/আ আ