ছাত্রলীগ: অপকর্মের পুরষ্কার গুরুত্বপূর্ণ পদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ১৫, ২০২৩ ১০:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ১৫, ২০২৩ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ভ্রাত্রৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার সাত মাস পর গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) রাতে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটির এক গুচ্ছ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে রয়েছে ঠিকাদারী ব্যবসা, সাংবাদিক হয়রানি, শিক্ষার্থী নির্যাতন, কমিটি বাণিজ্য, জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ নানাবিধ অভিযোগ।
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে অপকর্মের পুরষ্কার কি তাহলে গুরুত্বপূর্ণ পদ?
ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি উৎপল বিশ্বাস ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পূর্বে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে। সহ-সভাপতি শেখ শামীম তুর্যের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী ঘটিত অপরাধ এবং কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ।
সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিনের পরিবার জামায়াত-বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিগত কমিটিতে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল। আরেক সহ-সভাপতি মো. শাহজালাল মামলার আসামি।
সহ-সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার বিরুদ্ধে ইডেন কলেজে শিক্ষার্থী নির্যাতন, সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। রিভা অডিও ফাঁসকাণ্ডে সারা দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সিট বাণিজ্যসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ হীল বারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দীন রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন, বিরোধী পক্ষের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অনুষ্ঠানে হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনের বিরুদ্ধে লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।
সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। উপ-সম্পাদক রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষের ছাত্র সংগঠনের প্রোগ্রামে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্তর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন, উপ-সম্পাদক মারিয়াম জামান সোহানের বিরুদ্ধে চাকরি করার অভিযোগ রয়েছে।
উপ-পাঠাগার সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কথার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও চাঁদাবাজি এবং আইন সম্পাদক তাওহীদ বণীর বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব না থাকার অভিযোগ রয়েছে। উপসম্পাদক তানজীন আল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা, আমির হামজার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ইমদাদুল হাসান সোহাগকে উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য এবং উপ-সাহিত্য সম্পাদক আকলিমা আক্তার প্রভাতীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং সদস্য জেবুন্নাহার শিলার বিরুদ্ধে চাকরি করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তদের পদায়ন ও ত্যাগী হয়েও পদ না পাওয়ার অভিযোগ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রনেতা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আমরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করি, কিন্তু সিস্টেম একই থাকে। এ যেন চামচ দিয়ে পাহাড় সরানোর চেষ্টা। রাজনীতি আর ক্ষমতার লড়াইয়ের কোলাহলে আমাদের কণ্ঠ নিমজ্জিত। যখন মনে হয় কেউ শুনছে না তখন অনুপ্রাণিত থাকা কঠিন। বছরের পর বছর একই সমস্যা চলতে দেখে আমরা হতাশ। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, আমাদের বাস্তব পদক্ষেপ দরকার।
এ বিষয়ে জানার জন্য ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জনতার আওয়াজ/আ আ