ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ছাত্রলীগের নির্যাতন: হাইকোর্টে শুনানি আজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫১, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ছাত্রলীগের নির্যাতন: হাইকোর্টে শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৩ ২:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৩ ২:৩০ অপরাহ্ণ

 

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নজরে আনা হলে শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় এ বিষয়ে শুনানি হবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ হলে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনা হয়। আইনজীবী গাজী মো. মহসীন ও আইনজীবী আজগর হোসেন তুহিন বিষয়টি নজরে আনেন।

নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ নেত্রীর নাম সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার সহযোগী তাবাসসুম ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী ছাত্রীও একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার ছাত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম রাত ৮টায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রজাপতি-২ রুমে যেতে বলেন। অসুস্থ থাকায় সেদিন তিনি যেতে পারেননি। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তাবাসসুম। শনিবার ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম দফায় র‍্যাগিং করে তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হলের প্রভোস্টের সহযোগিতায় তখন সেটা সম্ভব হয়নি।

পরদিন রোববার ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ ৭-৮ জন মিলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে গণরুমে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং মুখ চেপে ধরে গালিগালাজ করা হয়। এমনকি তাকে ময়লা গ্লাস মুখ দিয়ে পরিষ্কার করতে বলেন সানজিদা। পরে ওই ছাত্রীকে জামা খুলতে বলেন অভিযুক্তরা। জামা না খুললে পুনরায় মারতে থাকেন তাকে। এরপর জোর করে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন তারা। এ ঘটনা কাউকে বললে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় ভুক্তভোগীকে।

ভুক্তভোগী ফুলপরী খাতুন বলেন, গণরুমে এনে সবাই মিলে আমাকে মেরেছে। রাত ১১টা থেকে রাত প্রায় ৪টা পর্যন্ত আমাকে থাপড়াইছে, গায়ে-মাথায় মেরেছে, পায়ে পিন ফুটিয়েছে, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে, জামা খুলতে বলেছে। আপুরা প্রভোস্ট স্যারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় লিখে দিয়ে বলেছে, ‘হাসবি আর এগুলা বলবি’। সব তারা ভিডিও করে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমার শরীরে এখনো ব্যাথা করছে। জীবন বাঁচাতে পরদিন সোমবার ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে আসি। আমি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা বলেন, সে সিনিয়রদের সঙ্গে বেয়াদবি করেছিল। ও আমাকে চেনেও না। নবীন ওই ছাত্রী ওর এক ভাইকে দিয়ে ওর বিভাগের সিনিয়রকে (তাবাসসুম) হুমকি-ধমকি দিয়েছিল। গতকাল (রোববার) প্রক্টর স্যার, প্রভোস্ট স্যার থাকাকালীন একটা মীমাংসা হয়েছে। রাতের মধ্যে আর কোনো কিছুই হয়নি। এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, ঘটনা যদি সত্য হয় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ প্রমাণ হয় তাহলে আমরা প্রশাসনের কাছে তার শাস্তির দাবি জানাব এবং আমরা সাংগঠনিকভাবেও ব্যবস্থা নেব।

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, রোববার ঝামেলা হওয়ার পর আমরা উভয় পক্ষকে ডেকেছিলাম। নবীন ওই ছাত্রী তার বোনের পরিচিত একজনের রুমে থাকছে। যেহেতু ও আবাসিক না তাই বলেছিলাম কয়েকদিন হলের বাইরে থাকতে। পরে পরিবারের অবস্থা শুনে হলেই থাকতে বলেছিলাম।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই র‍্যাগিংয়ের অনুমতি নেই। আমি নীতিগতভাবে এটা কখনো সমর্থন করি না। আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ