ছোঁ মারা পার্টি’র মূল টার্গেট মোবাইল-স্বর্ণালঙ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩ ৫:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩ ৫:১৩ অপরাহ্ণ

রাজধানীর সড়কগুলোতে এক আতঙ্কের নাম ছোঁ মারা পার্টি। বিভিন্ন পয়েন্টে চলমান উন্নয়নমূলক কাজ এবং বাড়তি গাড়ির চাপের কারণে প্রায় সবদিনই ঢাকার প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোতে ট্রাফিক জ্যাম লেগেই থাকে। আর এই সুযোগেই জ্যামে আটকে থাকা গাড়ির যাত্রীদের টার্গেট করে ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নেয় মোবাইল, ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। আক্রান্ত ব্যক্তি কিছু বুঝে উঠার আগেই দৌড়ে মুহুর্তেই হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার মত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ছোঁ মারা পার্টির সদস্যরা। কখনও একা আবার কখনও সংঘবদ্ধভাবে এরা এই কাজ সম্পাদন করে। বেশীরভাগ সময়ই এদের টার্গেট থাকত মোবাইল আর স্বর্ণালংকার।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি জানান, ছোঁ মারা পার্টির ১৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী কিশোর থেকে শুরু করে ৩৮ বছরের মধ্যবয়স্ক লোক রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মিজান (৩৮), আমিরুল ইসলাম বাবু, শরিফ হোসন (২৩), হৃদয় (২১), রাজ (২০), সুমন (৩২), সোহেল বাবু (২৬), হৃদয় (২২), মনিরুজ্জামান (৪০), নাজমুল (২৬), মনির (৪০), ইমরান (২০), ফারুক (২৮), আশরাফুল ইসলাম সজিব (৩১), আরিফ (১৪) ও হাসান (২০)। মিজান হচ্ছে এই চক্রের মূলহোতা।

উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন
ডিবি প্রধান জানান, রাজধানীর উত্তরখান এলাকা থেকে গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি নাম্বারবিহীন হিরো থ্রিলার-১৬০ আর মোটরসাইকেল, ৫০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেট, চারটি সুইস গিয়ার, দুই জোড়া স্বর্ণের দুল এবং নগদ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এই অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, এই ছোঁ মারা পার্টির সদস্যরা প্রাইভেটকার ও সিএনজির যাত্রীদের কাছ থেকে থাবা ও ছোঁ মেরে মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ মূল্যবান মালামাল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি এবং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত। মহাখালী, আমতলী, কাকলী, বনানী, ঢাকা গেইট, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর, উত্তরা, জসিম উদ্দিন, আব্দুল্লাহপুর এবং টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাই করতো। মিজান, জয়-বাবু ও শরীফের নেতৃত্বে তারা বাস, প্রাইভেটকার ও সিএনজির যাত্রীদের কাছ থেকে থাবা ও ছোঁ মেরে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও গলার চেইনসহ মূল্যবান মালামাল কেড়ে নিত। এরপর এই চোরাইমাল ক্রয়-বিক্রয়কারী সুমন, ফারুক ও আশরাফুল ইসলাম সজিবের কাছে উত্তরখানের দোবাদিয়া সাইনবোর্ড বিসমিল্লাহ মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে বিক্রি করত।
জনতার আওয়াজ/আ আ