জনগণ কি চায় সেটা তো কোন বিষয় নয়, ক্ষমতাই আ’লীগের জমিদারি: সাকি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জনগণ কি চায় সেটা তো কোন বিষয় নয়, ক্ষমতাই আ’লীগের জমিদারি: সাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

 

জনগণ কি চায় সেটা তো কোন বিষয় নয়, ক্ষমতাই আওয়ামী লীগ জমিদারি ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গনতন্ত্র মঞ্চের আয়োজিত সমাবেশ এ মন্তব্য করেন তিনি।

তি‌নি বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকে বিভিন্ন দেশে কর্তৃত্ববাদের চর্চা করা হয়েছে। যেখানে নির্বাচন মোড়ক আকারে থাকবে। নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, প্রার্থী বাছাই হবে এমন কি টেলিভিশনে তা নিয়ে ডিবেট হবে। কিন্তু ভোটের দিন মানুষ নির্ধারণ করবে না যে কে নির্বাচিত হবে। বরং যারা ক্ষমতায় আছে তারা নির্ধারণ করবে যে কারা কারা ক্ষমতা পাবে৷ যা আওয়ামী লীগ ১৮ সালে করেছেন এবং এখন বাজারে কথা শুনতে পাই যে, তারা বলেছে আসেন আপনারা আমরা সিট ভাগাভাগি করি। এটা হচ্ছে কর্তৃত্ববাদের মডেল।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সমগ্র পৃথিবীতে কর্তৃত্বমূলক শাসনের যত ধরনের উদাহরণ আছে সবগুলো থেকে একটা একটা করে উপাদান ভাবনা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো এদেশে প্রয়োগ করেছেন। এই যে ডিজিটাল বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ এগুলো কি আপনি মনে করেন আওয়ামী লীগের আবিষ্কার। এগুলো সব বিদেশীদের কাছ থেকে ধার করা। ভারতের নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখনও কিন্তু তিনি ডিজিটাল এবং স্মার্ট গুজরাটের কথা বলেছিলেন। এসকল শ্লোগান আওয়ামী লীগ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করেন।

তিনি বলেন, জনগণ কি চায় সেটা তো কোন বিষয় নয়, ক্ষমতাই তাদের (আওয়ামী লীগ) জমিদারি। কিছু কিছু আওয়ামী লীগের পাতি নেতারা ইদানিং বলেন, স্বাধীনতা যেহেতু আমরাই এনেছি তাই লুটপাট করলে আমরাই করব আর উন্নয়ন করলে আমরাই করব। সবই আমরাই করব। এসব পাতি নেতাদের মাথায় এসব এমনেই আসে না। এমন চিন্তা অনেক বড় বড় নেতাদের মাথায়ও এসেছে। এমন কি সংবিধান প্রণয়নকারীদের মাথাও।

’৭০ সালের গণপরিষদকেই ৭২ সালের গণপরিষদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, এর মধ্য দিয়ে ৭১ সালের সাধারণ মানুষের যে রাজনৈতিক চেতনা তা অস্বীকার করা হয়েছে। ওইখানেই বাংলাদেশের গোড়ায় গলদ। বাংলাদেশ কিভাবে চলবে সেজন্য যদি জনগণের মতামত নেয়া হতো তাহলে আরেকটা নতুন নির্বাচন করে গণপরিষদ গঠন করার দরকার ছিল। সমস্ত শ্রেণি-পেশা তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে গণপরিষদ গঠনের দরকার ছিল। সেটাও করা হয় নাই।

তিনি বলেন, শুধু কি তাই, ওই গণপরিষদে যারা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি ছিল তারাও স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে নাই। গণপরিষদ বসার আগেই রাষ্ট্রপতির প্রেসিডেন্টশিয়াল অর্ডারে আজকে যেটা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সেটা ঘোষণা করা হলো। যে গণপরিষদে সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। আর তাদের যদি কোন মতামত থাকে তাহলে পার্টির ফোরামে বলতে হবে। সেখানে পার্টি যে সিদ্ধান্ত দিবে তাদেরকে কেবল হাত তুলে সমর্থন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার কোন দেশে গণপরিষদের এই অবস্থা হয় কিনা জানা নেই। কারণ গণপরিষদ তো সংবিধান তৈরি করে এবং সেখানে নানাভাবে মানুষের মতামত, চিন্তা এসব প্রতিফলনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সেখানে তা করা হয়নি। বরং সংবিধান এমনভাবে করা হয়েছে যে এক ব্যক্তি সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং সারাজীবন যেন ক্ষমতায় থাকতে পারে৷ এই রকম চিন্তাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের। আর ৭২ সালে তারা সেই সংবিধানই তৈরি করেছেন। যেখানে সমস্ত ক্ষমতা তার হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। কাজেই ৭২ সালের সংবিধান হচ্ছে স্বৈরাচারী ক্ষমতা কাঠামোর সংবিধান।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্য আহ্বায়ক মাহমুদ রহমান মান্না। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ