জন প্রতিক্রিয়া : সন্দিহান মানুষ প্রয়োজন সমঝোতা - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জন প্রতিক্রিয়া : সন্দিহান মানুষ প্রয়োজন সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৪, ২০২৩ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৪, ২০২৩ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

বছরের শেষপ্রান্তে হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। ডিসেম্বর অথবা নতুন বছরের শুরুতে হবে ভোট। কিন্তু দেশে এখনো ভোটের আলোচনা নেই খুব একটা। আলোচনা কী পদ্ধতিতে, কেমন ভোট হবে তা নিয়ে। সরকারি দল সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে। বিরোধী দলগুলো এর ঘোর বিরোধী। তারা বলছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। দু’পক্ষ দুই মেরুতে থাকায় নানা শঙ্কা, ভয় সাধারণ মানুষের মনে। অনেকে বলছেন, সংলাপের মাধ্যমে একটা সমাধান আসতে পারে। আবার কেউ বলছেন, দুই দলের অনড় অবস্থানের কারণে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নির্বাচন, সংলাপ, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেছে মানবজমিন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়েছেন মুনির হোসাইন, ফাহিমা আক্তার সুমি, মো. আল আমিন, নাজমুল হুদা, নাইম হাসান ও শরীফ রুবেল।
সাইফুল ইসলাম বিজয়, স্বেচ্ছাসেবী: নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানাপড়েন চলছে। আমরা আগেও দেখেছি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলে কী হয় আর দলীয় সরকারের অধীনে কী হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলে এতে সব দলের সমান জায়গা থাকবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি আস্থা দিতে পারে যে দলীয় সরকারের অধীনে স্বচ্ছ নির্বাচন করা সম্ভব সেক্ষেত্রে সেটা করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাজ কী? নির্বাচনকালীন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন সবকিছু নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। কমিশন যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে পারে তখন কার অধীনে নির্বাচন হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। কিন্তু যখন নির্বাচন কমিশনের দুর্বল ভয়েস পাই তখন আমাদেরকে ভাবায়। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ একটা পরিবেশ তৈরি হোক। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে অনেক ভালো হয়।

মো. সাইফুল ইসলাম জুয়েল, বেসরকারি চাকরিজীবী: দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে কী হয় সেটা গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সবারই জানা। বর্তমান সরকার যা চাইছে, তাই হচ্ছে। এটা বিগত নির্বাচনে আমরা দেখে এসেছি। আর আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশন পুতুলের মতো। যদি নির্বাচন কমিশন সত্যিই তার নিয়ম-নীতি মতো কাজ করতে পারে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। তাই আমরা সাধারণ জনগণ হিসেবে চাই দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। এতে সব দল অংশগ্রহণ করুক। আর এটা সম্ভব শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে। এ ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।

মো. তারিক মেহেদী, চিকিৎসক: দেশে নির্বাচন নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। তবে আমি মনে করছি আমাদের সংবিধানে ফেরত যাওয়া উচিত। যে সরকার বর্তমানে রয়েছে তার অধীনেই নির্বাচন কমিশন দিয়ে নির্বাচন করানো উচিত। সংবিধানে যে বাধ্যবাধকতা আছে তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন হবে বলে আশা করছি। এখন আমাদের দেশে প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। এখন আগের মতো নির্বাচন করে কেউ রাতারাতি অবৈধ পন্থায় ভোট গ্রহণ করবে বা সরকার কায়েম করবে তেমন সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে। এখন মানুষ সচেতন, গণমাধ্যম সচেতন। সুতরাং এখন সাংবিধানিকভাবে যে নিয়ম রয়েছে সেভাবে নির্বাচন হলেই ভালো হয়।

আন্তারা ফাহমিদা তমা, ঢাবি শিক্ষার্থী: নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। কারণ বিগত দু’টি নির্বাচন এই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হয়েছে। এটা নিয়ে দেশে অনেক সমালোচনা আছে। আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচনা হয়েছে। ভোট জালিয়াতির প্রশ্ন উঠেছে। সেই জায়গা থেকে চিন্তা করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করলে ভালো। কারণ আমি আমার ভোট দিতে চাই। কেউ যেন না বলে যে আমার ভোট হয়ে গেছে।

সানবির রূপল, সাংবাদিক: আমাদের দেশে যাতে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকতে পারে প্রথম সেই সংস্কার দরকার। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন যেমন দরকার, তেমন শক্তিশালী সরকার ব্যবস্থার সংস্কারও দরকার। এ ছাড়া আমাদের নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান দরকার। এখন মানুষের ভোটের প্রতি অনেক আস্থাহীনতা রয়েছে। আবার সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নানা মত আছে। নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে সেটা নিয়ে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মত দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে সকল দল যদি মতামতের ভিত্তিতে বসে ঐক্যমতের আলোচনা করে একটা জায়গায় পৌঁছায় সেক্ষেত্রে নির্বাচন ব্যবস্থা ভালো হতে পারে।

রেজা মাহমুদ, শিক্ষার্থী: রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ আদর্শ থেকে অনেকটা দূরে সরে এসেছে। দেশ চালানোর জন্য রাজনীতি অত্যাবশ্যক। সেই রাজনীতি যদি মানুষের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায় তখন সেটি অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়। বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতির প্রতি অনীহা চলে এসেছে। গত ১৪ বছর ধরে আমি একই রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখে আসছি। তার কোনো পরিবর্তন দেখিনি। গণতন্ত্রের চর্চা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এই গণতন্ত্রহীনতা এটি কিন্তু রাজনীতি থেকে বিমুখ করে ফেলছে আমাদেরকে। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়ে ভালো লাগেনি। ছিল না উৎসবমুখর কোনো পরিবেশ। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ছিল না স্বচ্ছতা। যেখানে আগে থেকে ফল ঠিক করা থাকে সেখানে খেলায় অংশগ্রহণ সুখকর নয়।

বীথি সপ্তর্ষি, লেখক: জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা থাকে বেশি। আগামী ৫টি বছর কেমন হবে তা ভোটের মাধ্যমে নিজেরাই বেছে নিতে চায়। যা নির্ভর করে সুষ্ঠু নির্বাচনের উপর। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে নির্বাচনের যে আমেজ দেখা যায় তা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের অভিজ্ঞতাই আমাদের নেই। নির্বাচন আসলেই যেকোনো ধরনের সহিংসতা শুরু হয়ে যায়। সামনের নির্বাচনকে ঘিরেও এই সম্ভবনা রয়েছে। সকলের মনে প্রশ্ন-এবারেও কি একই রকম সহিংসতার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে?

মৌ রহমান, শিক্ষার্থী: নির্বাচন নিয়ে শংকার শেষ নেই। সাধারণ জনগণ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে না। আগে ভোট হলে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো। আর এখন মানুষ ভোটের দিন নিজের নিরাপত্তার জন্য কোথায় গিয়ে লুকাবে সেটি খোঁজে। ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রে কেউ যেতে চায় না। একজন নাগরিক হিসেবে আমি একটি সুন্দর দেশ চাই।

তাসনিয়া এলিনা, শিক্ষার্থী: ভোটকেন্দ্রে এখন আর কেউ যেতে চায় না। এটাই রাজনীতির বড় সংকট। সরকার যা বলছে তাই হচ্ছে। জনগণের বলতে এখন আর কিছু নেই। সরকারের উচিত জনগণের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়া। রাজনৈতিক কোন দলের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। সাধারণ মানুষ কেউ যদি কোনো আওয়াজ তোলে তাহলে তাকে বিভিন্নভাবে দমিয়ে রাখা হয়। একপক্ষ আরেকপক্ষকে নিয়ে দুর্নাম না করে যদি জনগণের কথা চিন্তা করে জনগণের স্বার্থে কাজ করে তাহলে সবাই রাজনীতিমুখী হতো। নির্বাচনের একটা পরিবেশ ফিরে আসতো। জনগণের মতামত শোনার আগ্রহ থাকতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে।

মো. মঈন উদ্দিন, পোশাক বিক্রেতা: দেশ ভালো চলছে। আমি মনে করি সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে। এতে কোনো সমস্যা নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে তার নিশ্চয়তা কে দেবে? আমি মনে করি যার অধীনেই নির্বাচন হোক না কেন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে।

মো. ফরিদ, কারখানা শ্রমিক: এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে কী হয় তা সবার জানা। আমি মনে করি সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত।

হৃদয় হোসেন, প্রেসকর্মী: দলীয় সরকার হোক আর তত্ত্বাবধায়ক হোক কারও কাছেই ভোটাধিকার নিরাপদ না। একজন ভোটার হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা চাই।

মো. মামুন, রিকশাচালক: এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু করার চিন্তা থাকে তাহলে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া বিকল্প নাই। এমনটা হলে সবার অংশগ্রহণও থাকবে।

রফিকুল ইসলাম, বেসরকারি চাকরিজীবী: আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচন। সেটা যার অধীনেই হোক না কেন। দলীয় সরকার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক কোনোটিই কাজে আসবে না যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়।

গৌরাঙ্গ, জুতা মেরামতকর্মী: সবাই চায় দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। যে পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়, সেই পদ্ধতিতেই করা হোক। কিন্তু সব দলই এক। ক্ষমতায় গেলে কেউ গরিব মানুষের কথা ভুলে যায়। নির্বাচন নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই।

শ্রাবনী খাতুন, শিক্ষার্থী: দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক সংকট চলছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বেশকিছু দলের আস্থা নেই। আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধানের বাইরে যেয়ে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে বিএনপি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে। এমন অবস্থায় দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। তা না হলে এই সংকট দূরীভূত হবে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। অভিজ্ঞতা তাই বলে।

ফাতেমা বেগম, পিঠা বিক্রেতা: নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নাই। আমাদেরকে কাজ করেই খেতে হবে। গরিবদের কেউ দেখে না। তবে চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সেটা যেভাবে সম্ভব হয় সেভাবে করা হোক।

মেহেদী হাসান, উদ্যোক্তা: বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নজির নেই। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চায়। এজন্য সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নাই। এ ছাড়া দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে। বড় দল বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর জন্য আন্দোলন করছে। এই সংকট নিরসন করতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সাফায়েত, সিএনজিচালক: এদেশে দলীয় সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না। আমরা চাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক।

আহম্মদ ফয়েজ, সাংবাদিক: ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা। এটাই রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত। যা এখনো চলছে। এই পরিস্থিতিতে সংকট থেকে উত্তরণ দুরূহ হয়ে পড়েছে। তারা বিরোধীদলগুলোর ওপর ১৪ বছর ধরে যে পরিমাণ নিপীড়ন ও নির্যাতন করেছে। এতে তারা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হচ্ছে। এতে তারা নিজেরাই নিজেদের কাছে বোঝা হয়ে গেছে। তাই তাদের এগিয়ে আসতে হবে। এবং সকল দলের ইচ্ছা অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটা সঠিক রাস্তা বের করতে হবে।

হাসিবুল হাসান পুনম, পরিবেশকর্মী: তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে কোনো দলই ছাড় দিবে না। এমন মনোভাবও লক্ষ্য করা যায় না। তাই আসন্ন নির্বাচনকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হলে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনে যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে যাতে জনগণের রায়ের প্রতিফলন হয়, তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। কমিশনকে সর্ব অবস্থায় নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

মো. কাশেম, শিক্ষার্থী: রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের জন্য কাঁদছে। কিন্তু অতীতে কোনো দলই সঠিক গণতন্ত্রের চর্চা করেনি। আমরা দুটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাইনি। ২০০৮ সালের মতো একটি সুষ্ঠু সুন্দর ভোট চাই। তবে কোনো দলীয় সরকারের পক্ষে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব না। এখন নির্বাচন কমিশন নিজেকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছে। তাই এই কমিশন ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের আগে সকল রাজনৈতিক দলের এক টেবিলে বসা উচিত। সবাই মিলে আন্তরিকভাবে এই সংকট সমাধানের পথ বের করা উচিত। জরুরি একটা সংলাপের আয়োজন করতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

নাহিন বিন মাহমুদ, শিক্ষার্থী: সামনেই আমাদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমাদের সরকার বলছে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে রাজি না। আবার বিরোধীদলগুলো বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সঠিকভাবে নির্বাচন করা সম্ভব না। দুইদলের মতামত এক না হলে তো সঠিক নির্বাচন সম্ভব না, এটা আমরা সবাই জানি। একটা সময় ছিল আওয়ামী লীগ নিজেরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেছে। পরে তারা ক্ষমতায় এসে সংবিধান থেকে এটা বাতিল করলো। বর্তমানে এই নির্বাচন নিয়ে যে সংকট শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ছাড়া তা সমাধান হবে না। নির্বাচন কমিশনকে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, তারা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত। তবেই সকল দলের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

তানভীর আনজুম তুষার, সমাজকর্মী: একটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের মাপকাঠিস্বরূপ। সংবিধান অনুয়ায়ী, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান করছে। নির্দলীয় সরকার ছাড়া সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়, তা গত দুই জাতীয় নির্বাচনে প্রতীয়মান হয়েছে। শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা এ সংকটের সমাধান চান। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত নিজেরা আলোপ-আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করা।

জামিল আক্তার হোসেন, রড ব্যবসায়ী: বিএনপি এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে দীর্ঘ কয়েকটা টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করেছে। যখন যে ক্ষমতায় থাকে তারা বিরোধীদের দমানোর জন্য প্রশাসনকে দিয়ে দমন-পীড়ন চালায়। দুই দলকে একত্রে বসে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিগত দিনেও এটা হয়েছে। আমরা রাস্তায় চিল্লালে সমাধান হবে না। আর সংলাপ না হলে আওয়ামী লীগ হার্ডলাইনে যাবে। তবে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হলেও এবার আর আগের নির্বাচনের মতো হবে না। কারণ তাদের ওপরে এবার আন্তর্জাতিক একটা চাপ আছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতেই হবে।

আতিকুর রহমান, থিয়েটার কর্মী: বাংলাদেশের ধারা অনুযায়ী একটা সুগঠিত, পরিকল্পিত নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যেন তার ভোটটা দিতে পারে। জুলুম-জবরদস্তি না করে একটা সুন্দর স্বাভাবিক নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে মূখ্য উদ্দেশ্য। এখানে মানুষের মতামতটা জরুরি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটা সুষ্ঠু কাঠামো দরকার। সেখানে প্রশাসনের ভালো একটি ভূমিকা থাকতে পারে। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে।

ইসরাফিল হোসেন, রিকশাচালক: সরকার চাইলেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে অবশ্যই পারে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে একবার আওয়ামী লীগ আরেকবার বিএনপি পাস করবে। নিরপেক্ষ সরকার নির্বাচন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

মো. তোফাজ্জল হোসেন, ব্যবসায়ী: নির্বাচন ভালো হোক, সুষ্ঠু হোক এটাই আমরা চাই। জনগণ সবাই মিলে যা চায়, এটাই আমাদের চাওয়া। বিরোধী দল ও সরকারি দল একসঙ্গে সংলাপে বসে যেটা ভালো হয়, সেটাই করুক। দেশে কোনো ধরনের হানাহানি চাই না। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেন কোনো বাধাবিঘ্ন না ঘটে।

মো. স্বাধীন হোসেন, ফার্মাসিস্ট: আমি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। সব দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। এখানে কেয়ারটেকার সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে পারে। আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন চাই।

মাহতাব হোসেন, ফ্রিল্যান্সার: আমরা দৈনন্দিন জীবনে এতটাই পেরেশান যে নির্বাচন নিয়ে ভাবার সময় পাই না, আর পেলেও ভাবি না। ভোট যদি উৎসবের হয়, ভোটকেন্দ্র যদি আনন্দের মেলা হয়, আমাদের পছন্দের প্রার্থীরা যদি সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। মানুষের কেন্দ্রে যাওয়ার, ভোট দেয়ার আগ্রহ ফিরে পাবে। এজন্য প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

সূত্রঃ মানবজমিন

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ