জাতিকে ধ্বংস করতেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে : মিলন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩ ১১:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩ ১১:২৯ অপরাহ্ণ

জাতিকে ধ্বংস করতেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকে ব্রিটিশ হয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদ স্থান পেয়েছে। পাঠ্যপুস্তক সংশোধন নয় বরং তা বাতিল করতে হবে।’
আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যবিরোধী পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও শিক্ষায় মৌলিক সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা ও গবেষণা সংসদ ঢাকার উদ্যোগে সেমিনারে বক্তারা বলেন, জাতিকে ধর্মহীন নাস্তিক করার জন্য মুসলমাদের ধর্ম বিশ্বাসকে পাঠ্যপুস্তক থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের শিক্ষা আমার অধিকার, এটা থেকে সরকার বঞ্চিত করতে পারে না। সরকার সাম্প্রদায়িক, পৌত্তলিক ও নাস্তিকবাদী অবৈজ্ঞানিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আমাদের মুসলমানদের ঈমান ও আকিদায় হাত দিয়েছে। ডারউইনের বিবর্তনবাদ শিক্ষা দিয়ে আমাদের কোমলপ্রাণ সন্তানদের ব্রেইনওয়াশ করে ধর্মহীন করার অপচেষ্টা করেছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক চৌধুরী মাহমুদ হাসান, অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজীজ, শিক্ষা ও গবেষণা সংসদ ঢাকার পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরন্নবী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (বিআইআইটি) পরিচালক ড. এম আব্দুল আজিজ, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ড. খলিলুর রহমান মাদানী, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্টসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘ইসলামসহ সব ধর্মেই নৈতিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ সরকার ইসলাম ধর্মের বিরোধী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস পাঠ্যপুস্তক থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, গত ১০ বছর ধরে আমাদের ভুল হচ্ছে শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে।
‘সরকার আজকে দলীয় ও সাম্প্রদায়িক বিষয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠ্যবই প্রণয়ন করেছে। ক্লাস সেভেনের বিজ্ঞান বইয়ে নৌকাবিষয়ক প্রবন্ধ আছে। সরকারপ্রধানের ছবি কি পাঠ্যবইয়ে থাকতে পারে? না এটা পারে না। কিন্তু বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র দেখাতে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে সরকারের ব্যক্তিদের ছবি পাঠ্যবইতে দেওয়ার কোনো নজির নেই।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে দলীয়করণ করেছে। পাঠ্যবইয়ে এমন ব্যক্তিগণকে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, যিনি সমালোচনার ঊর্ধ্বে। সরকার অটো পাশ দিয়ে মেধাহীন মানুষ তৈরি করে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
অধ্যাপক চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘জাতিকে ধর্মহীন করার জন্যই পাঠ্যপুস্তক থেকে মুসলমাদের ধর্ম বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা সংশ্লিষ্ট লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সঙ্গে যারা জড়িত তারা পরিকল্পিতভাবে এটা করেছে। যারা শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছে তারা তাদের আদর্শের আলোকে করেছে। আত্মপরিচয়ের নামে অবাধ যৌনবিকৃতিকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে বইগুলোতে। হয়তো প্রধানমন্ত্রীও এটি ভালোভাবে জানেন না। কারণ আমরা মনে করি, তিনিও ইসলামী চেতনায় বিশ্বাস করেন। পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামী বিষয়গুলো সরিয়ে দেওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে। যার প্রভাব তাদের নির্বাচনেও পড়তে পারে।’ তিনি শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটিতে ধর্মীয় ব্যক্তিদের রাখা এবং নতুন প্রণীত পাঠ্যপুস্তক অবশ্যই সংশোধনের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, ‘নীতি নৈতিকতাহীন শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ্যপুস্তকে দিয়েছে। কালচারাল আগ্রাসনের পাশাপাশি এখন শিক্ষা ব্যবস্থায় আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যবই প্রণয়ন কমিটিতে ইসলামিক স্কলারদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশে পাঠ্যবইয়ে বলা হচ্ছে বানর থেকে মানুষ হয়েছে। অথচ প্রত্যেক মানুষ আদম ও হাওয়ার সন্তান। সাহিত্য গল্প কবিতায় ইসলামের চেতনা মূল্যবোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মেজরিটি মানুষ এ দেশে মুসলমান, তাই মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা পাঠ্যপুস্তকে চালু করতে হবে।’
অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘দেশের সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়, এটা দুঃখজনক। যারা পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন তারা দায়সারাভাবে করেছে। অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিবেশী ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে। শিক্ষার উন্নয়ন করতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন নয়, বাতিল করতে হবে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ