জাতীয়তাবাদীস্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্বে আসছেন যারা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ৮, ২০২২ ১:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ৮, ২০২২ ১:১৯ অপরাহ্ণ

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এ কারণে আগে ঘর গুছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। মূল সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের শূন্য পদগুলো পূরণের পাশাপাশি যেসব অঙ্গ সংগঠনের কমিটিগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। অঙ্গ সংগঠনগুলোর নতুন নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে বলেই শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। সংগঠনটির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হচ্ছে। শিগগিরই এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি দেওয়া হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে বলে মনে করছেন অনেকে। ইতোমধ্যে ত্যাগী ও পরীক্ষিত সাবেক ছাত্র নেতাদের একটি তালিকাও বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এজন্য গত মঙ্গলবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন কমিটির বিষয়ে মতামত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কমিটি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। আর এজন্য দলের পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা লবিং-তদবিরের পাশাপাশি বিভিন্ন নেতাদের কাছে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন।
২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রয়াত শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষের এক বছর পর ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ১৪৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবু মৃত্যুবরণ করলে সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। পরে এ বছরের ২০ এপ্রিল স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৫২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারমুক্ত করে সভাপতি করা হয়।
এর আগে ছাত্রদল, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের আগে সংগঠনের নেতাদের মতামত শুনেছেন তারেক রহমান। পরে সবার মতামত এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শমতো তিনি এসব সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন। এবারও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন তিনি।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই তৃণমূল থেকে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেয় দলের হাইকমান্ড। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনকেও ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর অংশ হিসেবে ছাত্রদল, যুবদলের মতো সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন, থানা কমিটি গঠন সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক জেলা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এবার ৬ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটিকে ভেঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ত্যাগী, যোগ্য আর অভিজ্ঞদের দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে বলে দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন।
জানা যায়, ঈদের পরপরই এ কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল পবিত্র হজ পালনে যাওয়ায় এটা সম্ভব হয়নি। তিনি গত সোমবার দেশে ফিরেছেন। নতুন কমিটিতে সংগঠনের তেতর থেকে নেতৃত্ব নির্ধারণের একটি দাবি উঠলেও এবার সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকেও একজন নেতৃত্বে আসতে পারেন। আবার ঢাকা মহানগর নেতাদের থেকেও একজনকে আনা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকে রয়েছেন নেতৃত্বে আসার প্রতিযোগিতায়।
পদ প্রত্যাশী: সভাপতি পদে সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এর বাহিরে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ।
সাধারণ সম্পাদক পদে- বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, সহ-দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী। এর বাহিরে সাধারণ পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুনের নামও শোনা যাচ্ছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ