জাদুকরী ব্যাক্তিত্ব বিচারপতি সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৫৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাদুকরী ব্যাক্তিত্ব বিচারপতি সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৪ ৩:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৪ ৩:১৮ অপরাহ্ণ

 

স্টাফ করসপন্ডেন্ট
সাবেক তথ্য সচিব ও বিচারপতি সৈয়দ মাহাবুব মোর্শেদের জ্যেষ্ঠ পুত্র সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেছেন,জাদুকরী ব্যাক্তিত্ব বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ। তিঁনি অনন্য ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, তিনি ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও আগরতলা ষড়যন্ত্র ঐতিহাসিক মামলার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার ১১৩ তম জন্মবার্ষিকীতেও আজও মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার অনন্য ঐতিহাসিক রায়গুলো রেফারেন্স হয়েই আছে। কালজয়ী মানুষটিকে নিয়ে যত গবেষণা করা হবে ততই আগামী প্রজন্ম আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এক উজ্জ্বল ইতিহাসে ধারাপাত পড়তে পারবে।

সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ স্মৃতি সংসদ এর উদ্যোগে আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ইং রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপমহাদেশের বিশিষ্ট আইনবিদ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোরশেদের ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও কোরআনখানিতে গণমাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ স্মৃতি সংসদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, সৈয়দ মামনুল মোর্শেদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া পৃথক শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের সিনিয়র চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্মৃতি সংসদের মঞ্জুরুল হক বাদল, রফিকুল ইসলাম, সুজন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শ্রদ্ধা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ ১৯১১ সালের ১১ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ আবদুস সালেক ছাত্রজীবনে মেধার পরিচয় দিয়ে পরে বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসের সদস্যপদ লাভ করেছিলেন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বিচারপতি মোর্শেদের মামা। বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি রাজশাহী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে তিনি অনার্সসহ বিএ পাস করেন ১৯৩০ সালে। সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ এমএ পাস করেন ১৯৩২ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে আইন পাস করেন ১৯৩৩ সালে। ১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ডের লিনকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারী ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ঢাকা হাইকোর্টে যোগ দেন ১৯৫৫ সালে। ঐ বছরই তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন। ১৯৬২-৬৩ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং ১৯৬৪ সালে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হাইকোর্টের বিচারপতি এবং পরে প্রধান বিচারপতি হলেও এ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হন তিনি। বিচারপতি মোর্শেদের বাংলা-ইংরেজি ছাড়াও কয়েকটি ভাষায় দখল ও পাণ্ডিত্য ছিল। আইন ছাড়াও তিনি সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতি বিষয়ে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। গণতন্ত্রের পক্ষে তিনি ছিলেন একজন অবিচল প্রবক্তা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ