জাপার নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে ইসিতে স্মারকলিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় পার্টির (জাপা) নিবন্ধন বাতিল ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে দলটিকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এই দুই দাবিতে রবিবার (২৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খানের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সহযোগী ও রাজনৈতিক বৈধতা প্রদানকারী দল হিসেবে পরিচিত জাপাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মৌলিক চেতনা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নীতি এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
২০১৪ সালের তথাকথিত একতরফা ও বিনাভোটের নির্বাচনে জাপা আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখল ও টিকিয়ে রাখার প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ ও ভোটাধিকার হরণকারী নির্বাচনের পর তারা তথাকথিত বিরোধী দল সেজে সংসদে অবস্থান নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে কৃত্রিম রাজনৈতিক বৈধতা দেয়। সবশেষ ২০২৪ সালের তথাকথিত ডামি নির্বাচনেও জাপা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বহাল রাখতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সকল অপকর্মের সহযোগী ছিলো জাপা। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যার বৈধতা ও সহযোগিতা করেছে দলটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তার দায়ে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু একই অপরাধীদের সহযোগী হওয়ার পরও জাপার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেখানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত এবং তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, সেখানে একই অপরাধ ও দায়ে অভিযুক্ত জাপা কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, এই প্রশ্ন আজ দেশের জনগণের। এটি শুধু রাজনৈতিক বৈষম্য নয় বরং গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে চরম প্রতারণা।
এতে আরও বলা হয়, সংবিধান ও প্রচলিত নির্বাচন আইনের আলোকে জাপাকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা, প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করার জন্য আমরা জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে অবিলম্বে সুস্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
জনতার আওয়াজ/আ আ