জাফলংয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় পাথরমহাল খোলার দাবি মিফতাহ সিদ্দিকীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ৩:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ৩:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
জাফলংয়ে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মিফতাহ সিদ্দিকী। ছবি: খবরের কাগজ
পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে সিলেটের পাথরমহাল (কোয়ারি) থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে পাথর লুটপাটে সরকার ও প্রশাসন বন্ধ পাথরমহাল খোলার বিষয়টি বিবেচনা করছে না। এ অবস্থায় নির্বাচনি প্রচারণায় এ ইস্যুটি টেনে এনে পাথরমহাল খোলার দাবি জানিয়েছেন সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ‘জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন শ্রম দিচ্ছেন, অথচ তাদের জন্য নেই নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নেই ন্যায্য মজুরি নিশ্চয়তা ও কাজের ক্ষেত্র। শ্রমিকদের পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিনানিপাত করছে। পরিবেশের দোহাই দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কোয়ারিগুলো। তবে লুটপাট অব্যাহত ছিল। আমরা চাই না শ্রমিকদের সন্তান শ্রমিক হোক, কিন্ত তাদের কাজের ক্ষেত্রকে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।’
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি ও ধানের শীষের সমর্থনে এবং জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শ্রমিকদের বন্ধ হওয়া কর্মসংস্থান চালুর দাবিতে জাফলং ইউনিয়ন বিএনপি পরিবার, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সিলেট-৪ নির্বাচনি এলাকাভুক্ত।
সমাবেশে মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শ্রমিকদের অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত করা হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে বিএনপি বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি প্রচলিত বিধিতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কোয়ারিগুলো চালাতে হবে, যাতে ইকো সিস্টেম ঠিক রেখে এখানে কাজের ক্ষেত্র খোলা থাকে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের বিমা, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ- এসব হয়েছে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কমিশন কার্যকর করেছিলেন। আর আজ তারেক রহমান শ্রমিক-কৃষক-জনতার শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র নির্মাণের সংগ্রাম করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ শুধু খনিজ সম্পদে নয়, অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে ইকো-ট্যুরিজম, নদী-ঝরনানির্ভর পর্যটন শিল্প ও পরিবেশবান্ধব খনিজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা এমন উন্নয়ন চাই, যা প্রকৃতিকে ধ্বংস নয়, সংরক্ষণ করে মানুষের জীবনমান উন্নত করবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে।’
পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্সের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার সঞ্চালনায় সমাবেশে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আহমদ খসরু, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাধারণ সম্পাদক কামাল হাসান জুয়েল, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক মসরিছ আলী, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন, সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ, বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আলী, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল আহমদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, জাফলং ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন, বল্লাঘাট পাথর উত্তোলন শ্রমিক ইউনিয়ন, বালু শ্রমিক ইউনিয়ন, মোটর মেকানিক শ্রমিক ইউনিয়ন, জাফলং অটো বাইক শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, বোমা মেশিন নামের যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলনে একের পর এক শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটছিল। এ অবস্থায় ২০২০ সালে করোনাকালীন শাটডাউনে সিলেটের সব পাথরমহাল বন্ধ করা হয়। সরকারের পটপরিবর্তনে পাথরমহালে লুটপাট শুরু হলে গত বছরের ১৪ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে গিয়ে পরিবেশ ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের গাড়িতে হামলা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির স্থানীয় নেতারা আসামি হন এবং জেলও খেটেছেন। এরপর থেকে পাথরমহাল খোলার দাবিটি মিইয়ে গিয়েছিল।
জনতার আওয়াজ/আ আ