জাবি শাখা আহ্বায়ক কমিটির বিলুপ্তি চায় জাবি ছাত্রদলের একাংশ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাবি শাখা আহ্বায়ক কমিটির বিলুপ্তি চায় জাবি ছাত্রদলের একাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৫ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৫ ২:১৭ পূর্বাহ্ণ

 

জবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে সংগঠনটির একটি অংশ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির দাবিও করছেন এই অংশের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। সেখানে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

পরে বিক্ষোভ মিছিলও বের করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ছাত্রদলের এই অংশের হয়ে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তাদের দাবিগুলো হলো সম্প্রতি শাখা ছাত্রদল আয়োজিত হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগের তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, ছাত্রদলের আদর্শবিরোধী কোনো ব্যক্তি যাতে কমিটিতে না থাকতে পারে তা নিশ্চিত করা এবং ছাত্রদলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা।

সেই সঙ্গে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো— সংগঠনের নাম ব্যবহার করে হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচির আড়ালে আওয়ামী ঘরানার এক সাবেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে; যার কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছিল না। প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত রেখে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সংঘাত তৈরি হয়েছে; যা শুধু দুর্নীতিই নয়, বরং ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ধ্বংসের চক্রান্ত। শাখা ছাত্রদলের ১৭৭ সদস্যের কমিটিতে ১৩ জনের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট, যা দলীয় আদর্শের পরিপন্থী।

এছাড়া এখন পর্যন্ত সকল সদস্যের নিয়ে পরিচিতিসভা, আলোচনা বা সংহতির কোনো প্রগ্রাম আয়োজন করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ৯০ দিন অতিক্রম করে ফেললেও কাউন্সিল বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এখনো অনেক সদস্যকে যুক্ত করা হয়নি, বরং কমিটির বাইরের নিজেদের অনুসারীদের যুক্ত করে বাকিদের মতপ্রকাশের সুযোগ রুদ্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিংবা ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের অনুমোদন ছাড়াই একাধিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, পরে তা কেন্দ্রের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দায়মুক্তি চাওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে যোগ্যদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের কথাও বলা হয় পাঁচ দফা দাবিতে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুসাইন আল বাদল। এ সময় তিনি বলেন, ‘একাধিক অনৈতিক, দুর্নীতিগ্রস্ত ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড আমাদের সংগঠনের আদর্শ ও নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি, এই ব্যর্থ ও বিতর্কিত কমিটির তাৎক্ষণিক বিলুপ্তি ও একটি যোগ্য, কার্যকর এবং স্বচ্ছ নতুন কমিটি গঠনের।’

এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাদিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম যারা করেছেন, অনেকে সিনিয়র হয়ে গেলেও আমরা চেয়েছিলাম তারা কমিটিতে আসুক। ৩০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ৩ মাসেও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। আহ্বায়ক কমিটি গঠন হওয়ার পরে তারা যে ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন, এতে করে আমরা জাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্তিত্বের সংকট বোধ করছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা বা বিলুপ্ত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ