জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে: ইসলামী ঐক্য জোট - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫৮, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে: ইসলামী ঐক্য জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৩, ২০২৪ ৩:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৩, ২০২৪ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

 

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরী।

শনিবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন, অনুপ্রবেশকারীদের নজিরবিহীন তান্ডব, হত্যা, অগ্নি সংযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ’ সহ সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব কথা বলেন।

মিসবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত বৃহস্পতিবার সরকার জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ আদালত বহু পূর্বে জামায়াতে ইসলামীকে একটি অপরাধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। আমি নিশ্চিতভাবে জানি, জামায়াত-শিবিরের চতুরতা সম্বন্ধে সরকারের কোনো ধারণা নেই। অথবা যারা এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখার দায়িত্বে, তাদের সঙ্গে জামায়াতের অনেকে আর্থিক সংস্থার সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, যে উলামারা এতদিন জামায়াতের পাপাচারিতা দেশবাসীকে অবগত করতেন, এখন তাদের সন্তানরা জামায়াতের অর্থসহ সহযোগিতা, ব্যবসা, আমদানি-রফতানির সুযোগ-সুবিধা পেয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে বৃহৎ ইসলামী ঐক্যের আওয়াজ উঠিয়েছিলেন। জামায়াতের কথিত হেকমতের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যদি জামায়াতের প্রকৃত রূপ দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করা না যায়, তবে এই নিষিদ্ধ কোনো কাজে আসবে না।

জামায়াতে ইসলামের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অঙ্গ সংগঠন ও প্রক্সি গ্রুপগুলোর ব্যাপারে সরকার কতটুকু জানে আমাদের জানা নাই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় মিসবাহুর রহমান বলেন, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে। এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। সরকারকে মনে রাখতে হবে, ১৪ দলের ৫ নেতার বাহিরে সরকারের পরীক্ষিত অনেক মিত্র ছিল। সরকার তাদের সঙ্গে কথা না রাখলেও তারা সরকারের বিপদ মুহূর্তে পাশে থেকেছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট সব পরিস্থিতিতে সরকারের পাশে ছিলো। তবে দূর্নীতি ও মন্ত্রীদের অনেকের অতিরিক্ত কথা, এমপিদের জমিদারীর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় সরকারের ভেতরের অনেকেই আমাদেরকে দূরে রাখতে চান। এতে আমরা দুঃখিত নই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত।

চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছিলো। অহিংস এই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আমরা বারবার সরকারের নিকট দাবী জানিয়েছি। আমরা বলেছিলাম, ছাত্রদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না করলে ষড়যন্ত্রকারীরা কোমলমতি ছাত্রদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাতে পারে। সরকারের সংস্থাগুলো বা সরকার এ কথাগুলো আমলে নেয়নি। জনসমর্থিত একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে পরিণত করে সমস্ত আন্দোলনকে রক্তাক্ত করে দেওয়া হলো। ২০০ (দুইশত)-এরও অধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করলো এবং আহত হলো কমপক্ষে আরও দুই হাজার। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ছাত্র, সাধারণ পথিক, পুলিশ ও শিশুসহ নানা পেশার মানুষ রয়েছে। এই মৃত্যুর দায় কার? আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই ঘটনার দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করে, তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে বিশেষ আদালত গঠন করে এদের বিচার করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের হত্যায় কেন কোন পুলিশকে গ্রেফতার করা হলো না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মিসবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের সাথে কথা বলেছি। আমরা জানিয়েছি যে, যারা গুলি করেছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।

এসময় মিসবাহুর রহমান চৌধুরী দলের ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো:

ছাত্র আন্দোলনে নিহত প্রতিটি ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত শিক্ষার্থী যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদেরকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে, যাতে কোনো অবস্থায় এদের শিক্ষা বাধাগ্রস্থ না হয়; নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে; যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে; এবং জামায়াত-শিবির ও তাদের প্রকাশ্য ও গোপন অঙ্গ সংগঠনগুলো যাতে দেশে আর কোনো নৈরাজ্যের সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সুযোগ সন্ধানীরা যেন কোনো সীমালঙ্ঘন বা মতবলবাজী করতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

এসময় বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব আল্লামা মনিরুজ্জামান রব্বানী, ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ জুলকার নাইন, মাওলানা আবু হানিফ, মাওলানা আব্দুর রহিম হাজারী, আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক, মুফতী বোরহান উদ্দিন আল আজিজি, মাওলানা তাজুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বাবু, ঢাকা মহানগর শাখার যুব বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্জ আমজাদ হোসাইন, মুফতী মুশফিকুর রহমান, আলহাজ্জ আশরাফ হোসাইন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সচিব আশরাফ হোসেন সুমন, কেন্দ্রীয় সদস্য আলহাজ্ব শাহ্ আলম খান প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ