জামালপুর-৪: আধিপত্য ধরে রাখতে চায় বিএনপি, দখল পেতে মরিয়া জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:২৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জামালপুর-৪: আধিপত্য ধরে রাখতে চায় বিএনপি, দখল পেতে মরিয়া জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কলকারখানা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে জামালপুরের অন্য উপজেলার চেয়ে অগ্রসর সরিষাবাড়ী। এই উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন-১৪১ (জামালপুর-৪)। বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতারা সরিষাবাড়ী উপজেলার সন্তান হওয়ায় এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া জেলার অন্য আসনের তুলনায় এখান থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সবচেয়ে বেশি মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। এই আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা মন্ত্রিসভায় বেশি জায়গা পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। আর জামায়াত আসনটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতের। নির্বাচনে জয়ী হতে উভয় দলেরই টার্গেট আওয়ামী লীগের সমর্থক অর্থাৎ নৌকার ভোট। তবে ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

জেলার ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত জামালপুর-৪ আসন। স্বাধীনতার পর এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার বিএনপি এবং দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার এ আসনে ১৯৭৯ সালে বিজয়ী হয়ে আইন ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯১ সালে বিজয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এ সময় তিনি সরিষাবাড়ীতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করায় আসনটি বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম প্রথমবার বিএনপির দলীয় মনোনায়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির দলীয় মনোনায়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও হাইকোর্টের আদেশে শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। দিন-রাত তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সভা-সমাবেশ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ছালিমা খাতুন আরুণী তালুকদার এই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের মাঠে তাকে দেখা যায়নি। ছলিমা খাতুন আরুণী তালুকদারের সমর্থক বিএনপির একটি অংশ সরাসরি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়নি। শেষ পর্যন্ত বিএনপির এই অংশটিকে নিজের পক্ষে টানতে ব্যর্থ হলে ভোটের মাঠে বেকায়দায় পড়বেন দলীয় প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। সরিষাবাড়ীতে বিএনপির আধিপত্য থাকলেও দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ না হলে চ্যালেঞ্জে পড়বে দলীয় প্রার্থী।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালকে দল থেকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সৎ মানুষ হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে রাত-দিন অবিরাম ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। বিএনপির একটি অংশ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে মাঠে না থাকায় সুযোগ নিতে চায় জামায়াত। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টেনে আসনটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতের। তবে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েরই টার্গেট আওয়ামী লীগের সমর্থক তথা নৌকার ভোটার। এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকায় প্রার্থীরা ঝুঁকছেন আওয়ামী লীগের ভোটারদের দিকে। মূলত ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই আসনে।

এই আসনে বিএনপি, জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ আলী আকবর সিদ্দীক জামালপুর-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী। তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। এ ছাড়াও এই আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি ইকবাল হোসেন, কেতলি প্রতীক নিয়ে নাগরিক ঐক্যের মো. কবির হাসান, কাস্তে প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবির মো. মাহবুব জামান জুয়েল নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ