জিয়া ছিলেন শিশুদের প্রিয় ‘কমল ভাইয়া’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৪ ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৪ ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ

আজ ১৯শে জানুয়ারী ২০২৪ সাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক , স্বনির্ভর বালাদেশের স্থপতি , বহুদলিয় গনতন্ত্রের জনক , দেশের কোঠি কোঠি মানুষের প্রানপ্রিয় রাখালরাজা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান , এদেশের সর্ব সাধারন গন মানুষের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৮৮ তম জন্ম বার্ষিকীতে তে জানাই হৃদয় গভীর থেকে বিনম্ভ্র শ্রদ্ধা ।
জিয়াউর রহমান। ডাকনাম কমল।জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ শে জানুয়ারী। ৫ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। কোন বোন ছিল না। পিতামহ মৌলভী কামাল উদ্দিন। পিতামহী মিসিরন নেসা। মাতামহ আবুল কাশেম (যিনি জলপাইগুড়ির বিখ্যাত টি ফ্যামেলির একজন সদস্য)। মাতামহী রহিমা খাতুন। বাবা জনাব মনসুর রহমান। মা জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। ৭ ভাই ২ বোনের মধ্যে জনাব মনসুর রহমান ছিলেন মৌলভী কামাল উদ্দিনের ৫ম পুত্র। স্থায়ী নিবাস বগুড়া জেলার বাগবাড়ি গ্রাম। বাবা জনাব মনসুর রহমান ছিলেন একজন কেমিস্ট। ১৯৪৭ সালের আগে কলকাতায় এবং দেশ বিভাগের পর চাকুরির কারণে করাচিতে বাস করতেন। মা জাহানারা খাতুন (রানী) ছিলেন একান্তভাবে একজন গৃহিনী। গৃহিনী ছাড়াও তাঁর আরেকটি বিশেষণ তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী। প্রধানত তিনি নজরুলগীতি গাইতেন। করাচি বেতার কেন্দ্রে সেই সময়ে তিনি নিয়মিত গাইতেন।
জিয়াউর রহমানের প্রথম স্কুল জীবন শুরু হয়েছিল কলকাতা হেয়ার স্কুলে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় প্রায় দু’বছর বগুড়ায় তার নিজ গ্রামেই পড়াশুনা করেছিলেন। ছাত্র জীবনে তার এ্যামবিশন ছিল ডাক্তার হওয়া। বাল্যকাল থেকেই জনসেবা করার বীজ তাঁর হৃদয়ে লালিত হয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তিনি হয়েছিলেন একটি দেশ-জাতির রক্ষক এবং অতন্দ্র প্রহরী। ১৯৫২ সালে করাচির করাচি একাডেমী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে ভর্তি হয়েছিলেন করাচির ডি.জে. কলেজে। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে তিনি কমান্ডো ট্রেনিংও লাভ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপারও ছিলেন। বেশ সুনাম ও দক্ষতার সাথে বিদেশ থেকে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে সেনাবাহিনীতে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে (ডিজিএফআই) দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি ছিলেন ‘খেমকারান’ রণাঙ্গনের ‘বেদীরান’-এ যুদ্ধ পরিচালনায় ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ব্যাটালিয়ান কোম্পানীর এক দুর্ধর্ষ কমান্ডার। তাঁর কোম্পানীর নাম ছিল ‘আলফা কোম্পানী’। যে কোম্পানীর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করে সেই সময়কার যুদ্ধে বীরত্বের নজির সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন। একজন রণবীর, বুদ্ধিমান ও অমিত তেজী সেনা কর্মকর্তা জিয়া শুধু পাক-ভারতের নয়; সমগ্র বিশ্বকে সেই যুদ্ধে অবাক করে দিয়েছিলেন। জিয়ার কৃতিত্বে ইস্ট-বেংগল রেজিমেন্ট ব্যাটালিয়ন লাভ করেছিল পাক সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ বীরত্বের প্রতীক।
১৯৬৫ সালে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনা সামরিক একাডেমির প্রশিক্ষকের গুরুদায়িত্ব লাভ করেছিলেন। একই সালের এপ্রিল মাসে জিয়াউর রহমান ঢাকার অদূরে জয়দেবপুর সাব ক্যান্টনমেন্ট ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে যোগদান করেছিলেন। সে বছরই উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি চারমাস মেয়াদে পশ্চিম জার্মানী গিয়ে কৃতিত্বের সাথে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তিতে ১৯৭০ এর সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন মেজর জিয়াকে চট্টগ্রাম সেনা দপ্তরের ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়নের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব দিয়ে বদলী করা হয়েছিল। অষ্টম ব্যাটালিয়নটি ছিল ইস্টবেংগল রেজিমেন্টের তরুণতম ব্যাটালিয়ন। সেই সুবাদে মেজর জিয়া ঐ ব্যাটালিয়নকে তার প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে নিজের মত করে গড়ে তুলেছিলেন। যার ঘাঁটি ছিল চট্টগ্রামের ষোলশহর বাজারে। আজ এই মুহূর্তে নিতান্তই আমার একটি ব্যক্তিগত মত প্রকাশ না করলেই নয়। মতামতটি হল- ঠিক স্বাধীনতা যুদ্ধের কয়েকমাস পূর্বে মেজর জিয়াকে পাক সেনা দপ্তর চট্টগ্রামে বদলী করাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে মহান রাব্বুল আলামীনের অপরিসীম দয়া। কারণ ১৯৭১ সালে ২৫ শে মার্চ দিবাগত রাতে পশ্চিমা হানাদারের বিরুদ্ধে যদি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অধীনস্ত কর্মকর্তা হয়েও মেজর জিয়া রিভোল্ট করে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। যদি তা না দিতেন আজ দেশের প্রক্ষাপট ভিন্ন হতো। স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়ে মেজর জিয়া বীরত্বের সাথে ‘জেড ফোর্সের’ অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে ১ নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ চলার পর ১৬ই ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর সদ্য বাংলাদেশ সরকার মেজর জিয়াকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেড কমান্ডার নিযুক্ত করে কুমিল্লা সেনাদপ্তরে দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন।
১৯৭২ সালের জুন মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলে নয় – যুদ্ধ পরবর্তী জিয়াউর রহমানকে কুমিল্লাতে বদলী করে তার জুনিয়র শফিউল্লাহ কে সেনাপ্রধান করার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান এবিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই কুমিল্লাতে তার দায়িত্বে মনোনিবেশ করেছিলেন। কারণ, জিয়াউর রহমান উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না। কালক্রমে ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী একটি গ্রুপের প্রধান খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে তৎকালীন সর্বহারা নেতা ইনু-মেনন-মতিয়া গং -এর সাথে আঁতাত করে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। দেশে সৃষ্টি হয়েছিল এক রাজনৈতিক মহাপ্রলয়। যে প্রলয়ের কারণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মহাসমুদ্রের একটি ভাসমান ডিঙ্গী নৌকার মত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শুরু হয়েছিল অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থান এবং জেল হত্যা। সব মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল চরম নৈরাজ্যের গহীন অন্ধকার পথে। অন্যদিকে সেনাদপ্তরে শুরু হয়েছিল এক ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ। তারই আলোকে ১৯৭৫ সালে ৭ই নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা এক কাতারে এসে বন্দি জিয়াকে মুক্ত করে দেশের দায়িত্বভার অর্পন করেছিলেন। জিয়াউর রহমান তার মেধা এবং কৃতিত্ব দিয়ে দেশ, জাতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করে দেশের চির উন্নত মম শির সেনাবাহিনীতে শৃংখলা ফিরিয়ে এনেছিলেন কৃতিত্বের সাথে। পরবর্তিতে নির্লোভ এই সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জনগণের দ্বারপ্রান্তে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন গণতন্ত্র। শহীদ জিয়াউর রহমানই ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা। দেশ গঠনের জন্য বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করে। একজন দেশপ্রমিক, সফল রাষ্ট্রনেতা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন সমগ্র বিশ্বে। দেশ গড়ার জন্য নিজ হাতে কোদাল তুলে ক্ষেত-খামারে মাটি খনন করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধু নিজেই তার জীবদ্দশায় আওয়ামী লীগকে চাটার দল আখ্যায়িত করে বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হ্ত্যা করেছিলেন। আর সেই গণতন্ত্রকে জাতির নিকট বহুদলীয় গণতন্ত্র হিসেবে উপহার দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর তারই নিরীখে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ পুনর্জ্জীবন লাভ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ বিরাজমান।
আজ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী। শহীদ জিয়াউর রহমানই শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং তার পিতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। বড়ই পরিতাপের বিষয়, শেখ হাসিনা দেশে আসার মাত্র একুশ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী কিছু সেনা সদস্যের হাতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করতে হয়। সেদিন জিয়াউর রহমানকে যে প্রথম গুলি করেছিলো, তার নাম ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান। সে মতিউর রহমান তখন থেকে আজ অবধি কোথায় কীভাবে আছেন আমি জানি না। আমার দৃষ্টিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের প্রকৃত রহস্য এবং উদ্দেশ্য সঠিকভাবে পরবর্তী বিএনপি দেশের উত্তরোত্তর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। যা অতি দু:খজনক। জিয়াউর রহমানের দেশ গড়ার ইতিহাস নিয়ে ইতোপূর্বে টুকিটাকি আমার প্রবন্ধতে আমি লিখেছি। আজকে তার ৮১ তম জন্ম বার্ষিকীতে শিশুদের প্রাণপ্রিয় কমল ভাই সম্পর্কে কিছু তুলে ধরতে চাই। ১৯৮১ সাল জানুয়ারী কিংবা ফেব্রুয়ারীতে ‘নতুন কুঁড়ি’ নামে একটি শিশু সংগঠন তৈরি করেছিলেন। একই সালের ফেব্রুয়ারীতে জিয়াউর রহমান শিশুদের একটি মিলন মেলার আয়োজন করেছিলেন। সমবেত শিশুরা ও জিয়া মিশে গিয়েছিল এক মহা মিলনমেলায়। জিয়াকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে শিশু কিশোররা আত্মহারা হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ করে এক শিশু বলে উঠল, আপনাকে যদি কমল ভাইয়া ডাকি, রাগ করবেন? মুহূর্তে জিয়া ছেলেটিকে বললেন, “আজ আমি জিয়া নই, আমি তোমাদের কমল ভাই”।
এক পর্যায়ে শিশুরা তাদের কমল ভাইকে নানা প্রশ্ন করতে লাগল। আপনি এত বেশি গ্রামে যান কেন? আমরাও আপনার সাথে গ্রামে যাব। নিয়ে যাবেন? এমনি আরো হরেক রকমের প্রশ্ন করেছিল সেদিনের শিশুরা। শিশুদের কমল খুবই মমতাভরা বন্ধুসুলভ কন্ঠে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। মাঝে মাঝে শিশুদের ভাষায়, শিশুদের মত ওদের পাল্টা প্রশ্নও করেছিলেন। যা ছিল একটি জীবন্ত ইতিহাস। শিশু-কিশোরদের নানা প্রশ্নের দেয়া উত্তরে জিয়া যা বলেছিলেন, তার কিছু অংশ তুলে ধরছি –
আমি কেন গ্রামে ছুটে যাই?
বন্ধুরা, একটি বিষয় তোমাদেরকে এই মুহূর্ত থেকে অন্তরে গেঁথে রাখতে হবে। গ্রামের গরীব, নিরীহ আর অসহায় অবহেলিত হয়ে আছে হাজার হাজার শিশু-সন্তানেরা, যারা তোমাদেরই মত। তোমাদের আমাদের সবাইকে নিয়ে সেইসব শিশুদের কথা ভাবতে হবে। তাদেরকেও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। আমরা সবাই ওদেরকে ধাপে ধাপে অগ্রগামী করে দিতে হবে। যাতে করে গ্রামের ঐ সকল অসহায় দু:খী মা বাবাদের নিরীহ সন্তানেরা যেন অবহেলিত না হয়। ওরা যেন তোমাদের মত খেলতে পারে, লেখাপড়া করতে পারে এবং পেট ভরে খেতে পারে। তবেই সারাদেশের সকল শিশুরাই মানুষের মত মানুষ হয়ে দাঁড়াতে পারবে এবং দেশ রক্ষক হতে পারবে। বুঝতে পেরেছো বন্ধুরা?
সবাই সমস্বরে উত্তর দিয়েছিল, জ্বি ভাইয়া।
মনে থাকবে তো?
হ্যাঁ ভাইয়া।
তোমাদের এবং ওদের সবাইকে সমান সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। না হলে কি ঘটবে জানো কি হবে ভাইয়া?
ওরা দলে দলে শহরে এসে তোমাদের সকল সুযোগ কেড়ে নিবে। তোমরা যারা খুব সুখে আছো তোমাদের সুখ ওরা হাইজ্যাক করবে। অতএব, সাবধান। ওরা যাতে তোমাদের মত ভালভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মত মানুষ হয়ে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে তার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখবে গ্রাম আর গ্রামের কৃষকেরাই আমাদের দেশ গড়ার মূল উৎস। তাদের জাগিয়ে রাখতে হবে এবং ওদেরকে মানুষের মত বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই মহা চিন্তা চেতনা কি শহীদ জিয়ার অবর্তমানে আজ অবধি যথাযথভাবে লালন করছে?
কথা বলতে বলতে এমনি সময়ে শিশুদেরকে প্রশ্ন করলেন, বল এবার, তোমরা কি গ্রামের ঐ সকল ভাই-বোনদের ভাল বাসবে? হ্যাঁ ভাইয়া, ভালো বাসব।
জিয়া আবারো জানতে চাইলেন, আমাদের সঙ্গে তোমাদের যদি গ্রামে নিয়ে যাই, তোমরা কি যাবে? তাদের সঙ্গে একসাথে কাজ করবে?
সবাই বললো, হ্যাঁ ভাইয়া, নিয়ে গেল যাব এবং কাজ করবো।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে সে অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তিনি মন্ত্রীদের প্রশ্ন করেছিলেন, এই নতুন কুঁড়ি শিশুদের দলেরা কী বলেছে শুনেছেন তো? এদের উত্তরে দেশের জন্য ওদের আগ্রহ ও ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি কি আপনারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন? দিন, উত্তর দিন। আজকের উপস্থিত নতুন কুঁড়ি আমার বন্ধুদের সাথে আমিও আপনাদের উত্তর শুনতে চাই। আগামী দিনে ওরাই দেশের ক্ষমতা টেক-ওভার করবে। ওদের হাতেই দেশের ক্ষমতা তুলে দিতে হবে। তারজন্য আমাদেরও তৈরি থাকতে হবে।
শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যত জীবনকে গড়ে তোলার জন্যই শহীদ জিয়াউর রহমান প্রথম বাংলাদেশে শিশু একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিশু একাডেমির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দিনটি ছিল শিশু, কিশোরীদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশাল সামিয়ানার নিচে ছিল মঞ্চ। মঞ্চের একপাশে ছিল একদল শিশু কিশোর ক্ষুদে গায়ক গায়িকার দল। অন্যপাশে ছিল ক্ষুদে বাদকের ব্যান্ড পার্টি। সেদিন ছিল প্রবল বৃষ্টি। জিয়া যখন মঞ্চে এসেছিলেন তখনো বৃষ্টি বইছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া মঞ্চে উঠার সাথে সাথে সম্মিলিত কন্ঠে যে গানটি ধরেছিল, তা ছিল আমাদের জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি রণ-সঙ্গীত। “চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগণে বাজে মাদল …। জিয়াউর রহমান উৎফুল্ল হয়ে ক্ষুদে শিশু-কিশোর শিল্পীদের মাঝে গিয়ে তাদের মধ্যমণি হয়ে মিশে গিয়েছিলেন। দোহারীর মত গানটি জিয়াও গেয়ে উঠেছিলেন। এই পরিস্থিতি দেখে তখনকার বিএনপির মহাসচিব প্রফেসর ডাক্তার এ.কিউ.এম. বদরুদ্দৌজা চৌধুরীও জিয়ার পাশে গিয়ে ব্যান্ডের তালে তালে গান ধরেছিলেন। গান শেষে জিয়া অনেক শিশু-কিশোর-কিশোরীদের কপোলে চুমু খেয়েছিলেন এবং শিশুদের চিবুক ধরে আদর করে করেছিলেন। আদর করাকালীন মুহূর্তে একজন শিশুকে কমল প্রশ্ন করেছিলেন, তুমি কি খেতে ভালবাসো? ক্ষুদে বন্ধুটি লজ্জায় চুপ করে হাতের নখ খুটছিল। ক্ষুদে বন্ধুর উত্তরটি কমল দিলেন। চকোলেট আর আইসক্রিম খেতে ভালবাসো, তাই না? আমারও খুব পছন্দ। সুযোগ পেলে আমিও খাই। কিন্তু বেশি খাই না। মনে রেখো বন্ধুরা, এই দু’টো সুস্বাদু খাবার বেশি খেলে দাঁত নষ্ট হয়। সুতরাং বেশি খাওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, শিশুদের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের বন্ধু কমল যেন একঝাঁক শিশু সাংবাদিকদের সাথে কাটিয়েছিলেন। ঐ সকল শিশুরা কি তাদের সেই সময়ের বন্ধু কমলকে ভুলতে পারবে? নিশ্চয়ই না। জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর তার প্রাণপ্রিয় দল দেশের আনাচে কানাচে সেই সময়কার শত সহস্র জিয়ার শিশু বন্ধুদেরকে জিয়ার দর্শনে আকৃষ্ট করতে পেরেছে কি? যদি না করে তবে কি তা বড়ই পরিতাপের বিষয় নয়? শহীদ জিয়ার জীবদ্দশায় বঙ্গভবনের দেয়ালে একটি শিশুদলের ছবি টাঙ্গানো ছিল। যে ছবিতে মধ্যমনি ছিলেন জিয়াউর রহমান “কমল”। বিজ্ঞ লোকদের ধারণা ছিল, জিয়াউর রহমান জীবিত থাকলে এতদিনে যুব মন্ত্রণালয়ের মতো শিশু মন্ত্রণালয়ও গঠন করা হতো।
১৯৮১ সালে ফেনী জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম এডভোকেট আবুল হাশেম মজুমদার ও ফেনীর সাংসদ মরহুম এডভোকেট রফিকুজ্জমান ভূইয়ার নেতৃত্বে আমার বঙ্গভবনে যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল। কোমলমতি একঝাঁক শিশুদের মাঝে তদকালিন মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবিটি দেখে আমি নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। যা আমার চোখে আজো ভাসছে। ছবিটি ছিল বঙ্গভবনের অতিথিদের জন্য একটি জীবন্ত প্রতীক। সে ছবিটি কি তার পরবর্তীতে ছিল? আজো কি আছে?
লিখক : নজরুল ইসলাম চৌধুরী
সাবেক সভাপতি, ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
এবং – সাবেক প্রচার সম্পাদক, ফেনী জেলা বি,এন,পি।
সাবেক চট্টগ্রাম বিভাগিয় সাংগঠনিক সম্পাদক —
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদ, কেন্দীয় সংসদ
জনতার আওয়াজ/আ আ