জি এম আনিসের অপরাধ সত্যি কথা বলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জুন ১৯, ২০২৩ ১১:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জুন ১৯, ২০২৩ ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

খুব কাছের বন্ধু, ভালো ও বড় মনের মানুষ জি এম আনিস।এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা,পটুয়াখালী দুমকীর কৃতি সন্তান। বর্তমানে মিরপুরে স্হায়ীভাবে বসবাস করে। বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে সমাজে সবার কাছে আলাদা সন্মান ও মর্যাদা আছে। বর্তমানে তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার সাথে ২০০১সাল থেকে পথচলা। আমি ২০০৭ সালে ওয়ান এলেভেনের সময় তাঁতীদলের অবিভক্ত ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমান যিনি কেন্দ্রীয় আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ ভাই সভাপতি ছিলেন। তখন আমি মূলস্রোতধারায় ছিলাম তখন আজাদ ভায়েরা কুশলীবদের সাথে বিশেষ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।তখন তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী মৃধা আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন ইসলাম খান। সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বেলায়েত হোসেন বাবলু ভাই।আমি তখন তেজগাঁও থানার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম।থাকতাম শাহীনবাগ।আর বাবলু ভাই থাকতেন পশ্চিম নাখালপাড়া। ১৯৯৮ সালে বাবলু ভাইয়ের হাত ধরে আমি তাঁতী দলের তেজগাঁও থানার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলাম। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে লং মার্চ এ অংশ গ্রহণ করলাম।মাদারীপুর কাজীরটেকে বেগম জিয়ার গাড়ির বহরে হামলা হলো।সে সময় আমি গ্রেফতার হয়ে ১মাস ৬দিন মাদারীপুর কারাগারে জেল খাঠলাম।২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো।আমার হাত ধরে আজাদ ভাই তাঁতীদলের রাজনীতি শুরু করলেন তখন সাথে নিয়ে এসেছিলেন জিএম আনিসসহ তার কিছু অনুসারীদের।আমি আজাদ ভাইয়ের কঠিন ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম।ছিটকে পড়লাম তাঁতীদল থেকে।৬থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করার পর কোন কুলকিনারা খুঁজে না পেয়ে তখন ২০দলীয় জোটের এনডিপিতে যোগ দিলাম। এখনও সেখানে আছি।কিন্তু তাঁতীদলের জন্য জীবনের অনেক সময় ব্যয় করেছি। তাঁতীদলকে সুসংগঠিত করতে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া ছুটে বেড়িয়েছি। তাঁত বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেছি। ১৭ বছর তেজগাঁও থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ১০টাকারও চাঁন্দাবাজী কিংবা ধান্দাবাজি করিনি।তাই আমার নামে কোন থানায় একটি জিডিও হয়নি।সততার পুরস্কার পেলাম দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে।সে সময় বন্ধু আনিস নিরবতা পালন করেছে কারন আজাদ ভাই তো তাকে তাঁতীদলে নিয়ে এসেছে। সবকিছুর শেষ আছে। আজাদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে যখন মুখ খুলতে শুরু করেছে বন্ধু আনিস তখন রক্তাক্ত হয়েছে। ভাড়াকরা গুন্ডা বাহিনী নির্মমভাবে আঘাত করেছে আনিসসহ যারা প্রতিবাদ করেছে তাদের সবাইকে। গত শনিবার সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে তাঁতীদলের বর্ধিত সভায় এই ন্যাক্কার জনক ঘোটনা ঘটিয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আজম খান।তাঁত বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন ইসলাম খান। আমি জানিনা কেন বছরের পর বছর হুমায়ুন ভাই নীরবতা পালন করেছেন। আব্দুল আলী মৃধা ভাই বেঁচে থাকলে নিরব থাকতে পারতেন না।বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূইয়া একবার তাঁতীদলকে গলাচেপে ধরে হত্যা করেছে আর এখন সব কিছু জেনেশুনে চুপ থেকে দলটাকে শেষ করে দিচ্ছে। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম নিজে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অন্যতম এই পেশাজীবি দলটি।এক সময়ে যৌবনে ভরা ছিল দলটি।সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বার্ধক্যে চলে যাচ্ছে দলটি।আনিস বন্ধু ক্ষমা করিস।কিছুই করতে পারছিনা কাউকে বলতে পারছিনা।আমার কোন অধিকার নেই। আরো অনেক কথা বলতে বা লিখতে পারতাম তাতে নিজেই ছোট হবো।তবে একটা কথা বলতে চাই আগাছা কেটে পরিস্কার করতে হবে। সামনে অনেক পথ বাকি।যারা টাকার বিনিময় পদ কেনাবেচা করে সে কোনদিন নেতা হতে পারেনা।
লেখক ঃ
মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
ঢাকা মহানগর তাঁতীদল
বর্তমান মহাসচিব
এনডিপি
জনতার আওয়াজ/আ আ