জুলাই কন্যাদের সম্মানজনক মার্কিন পুরস্কার নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১, ২০২৫ ২:০৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১, ২০২৫ ২:০৫ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পেয়েছেন। মর্যাদাপূর্ণ এই মার্কিন পুরস্কার ম্যাডেলিন অলব্রাইট অনারারি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তুলতে কাজ করা নারীদের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীরা শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নের সমর্থক।
সোমবার (৩১ মার্চ) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাতে জীবন বাজি রেখে গণআন্দোলনে অংশ নেয়া নারীদের কৃতিত্বের বিষয়ে জানতে চান। ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশের গর্বিত মেয়েরা আগামীকালের পুরস্কার গ্রহণ করে সম্মানিত হচ্ছেন। তারা এই মঞ্চ থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করবেন। ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশী মেয়েরা পুরস্কার পাচ্ছেন, এই বিষয়ে আপনার কি কোনো মন্তব্য আছে?’
ট্যামি ব্রুস বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘আমি এখানে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারের বিষয়ে কথা বলব। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃতি সম্পর্কিত প্রশ্নের শেষ অংশ নিয়ে আমি কোনো অনুমান করব না।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি আবারো উল্লেখ করতে চাই, আগামীকাল পররাষ্ট্র দফতরে ১৯তম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ২০২৫ সালের অনুষ্ঠানে আটজন অসাধারণ নারীর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ম্যাডেলিন অলব্রাইট সম্মানসূচক গ্রুপ আইডব্লিউওসি পুরস্কার প্রাপকদের স্বীকৃতি দেয়া হবে। তারা সকলের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করছেন।’
ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইডব্লিউওসি পুরস্কার বিশ্বজুড়ে সেইসব নারীদের স্বীকৃতি দেয় যারা ব্যতিক্রমী সাহস, শক্তি ও নেতৃত্ব দেখিয়েছেন। পুরষ্কারপ্রাপ্তরা শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নের সমর্থক। ’
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের প্রচেষ্টার জন্য তারা প্রায়শই বড় ধরনের ব্যক্তিগত ঝুঁকির সম্মুখীন হন। ২০০৭ সাল থেকে পররাষ্ট্র দফতর ৯০টিরও বেশি দেশের ২০০ জনেরও বেশি নারীকে এই পুরষ্কারে ভূষিত করেছে। বিদেশে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো তাদের নিজ নিজ আয়োজক দেশ থেকে একজন সাহসী নারীকে মনোনীত করে। চূড়ান্ত প্রার্থীদের নির্বাচিত করে ঊর্ধ্বতন বিভাগের কর্মকর্তারা তা অনুমোদন করেন। অনুষ্ঠানের পরে পুরষ্কারপ্রাপ্তরা ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম বিনিময় ও লস অ্যাঞ্জেলেসে অতিরিক্ত প্রোগ্রামিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে তারা বিশ্বব্যাপী নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নে তাদের কাজকে আরো এগিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়ে আমেরিকান নারীদের সাথে দেখা করবেন।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। আজ (১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র দফতরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে বিজয়ীদের এই পুরস্কার দেয়া হবে।
বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই মর্যাদাপূর্ণ এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ