জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:০৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৮:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৮:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য যে জাদুঘর নির্মিত হয়েছে, সেটি গোটা পৃথিবীর কাছে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই শহীদদের রক্ত এখনো তাজা থাকতেই এই জাদুঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে, যা সারা পৃথিবীর জন্য একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোথাও এমন জাদুঘর নির্মাণের প্রয়োজন না পড়ে, সেটাই আমাদের কামনা। তবে কোনো কারণে যদি জাতি কখনো দিশেহারা হয়ে পড়ে, তাহলে এই জাদুঘর থেকেই তারা পথের দিশা খুঁজে নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই একবার হলেও এখানে এসে একটি দিন কাটানো উচিত। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে এই জাদুঘরে আসবেন। এখানে একটি দিন কাটালে মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে, কী ভয়াবহ নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে অতিক্রম করতে হয়েছে। জাদুঘরে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেখানে কেউ চাইলে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা কিংবা পুরো একটি দিনও থাকতে পারবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আয়নাঘরের ভেতরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারবেন, বন্দিদের কী অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংসতা আর না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এই একটি বিষয়ে জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যে, এমন অন্ধকার দিনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।

তিনি বলেন, সে সময় দেশে ভয়াবহ নৃশংসতা চলছিল। তরুণ সমাজ ও ছাত্ররা এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, তবুও তারা সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষও যে নির্ভয়ে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছে।

এদিন বিকেল তিনটার দিকে প্রধান উপদেষ্টা জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছান। সেখানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের প্রেক্ষাপট, আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাস এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিভিন্ন চিত্র ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এছাড়াও গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাকে’র সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফিরে আসা ভুক্তভোগী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান এবং জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা প্রধান উপদেষ্টাসহ অতিথিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ছবি, আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং এবং অডিও ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা সেখানে ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন। প্রামাণ্যচিত্রটিতে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন পীড়ন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের কাজে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ