জুলাই গণহত্যার শহীদরা উপেক্ষিত কেন? : রাষ্ট্র বা সরকারের কাছে জবাব কী? ফ্যাসীবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ৫, ২০২৫ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ৫, ২০২৫ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

মো মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিশেষ প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
জুলাইয়ে গণহত্যার শিকার শহীদরা উপেক্ষিত কেন? রাষ্ট্র বা সরকারের কাছে জবাব কি? এই প্রশ্ন রেখে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, জুলাই বিপ্লবের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ যোদ্ধা – মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার – অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট আক্ষেপ করে দু:খ ভারাক্রান্ত মনে কিছু বিষয় তুলে ধরে বলেন, আমরা এখানে যে কয়জনের উপস্থিতি লক্ষণীয় আমরা আজ এখানে এসেছি শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জন ২৪ এর জুলাই বর্ষপূর্তি উদযাপন এই দিনটিকে গণ কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত বীর শহীদদের স্বরণীয় করে তাদের জীবনের বিনিময়ে অর্জন এই ৩৬ শে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়ের অর্জন বর্ষপূর্তিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পালিত করতেই আমাদের এখানে আসার মূল বিষয়। সেই সাথে আজ যারা আমাদের এই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জন করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বসে আছেন সেই সকল রাষ্ট্রের হর্তাকর্তাদের উদ্দেশ্য করে আমাদের কিছু অমিমাংসিত বেশ কিছু বিষয় জানানোর জন্য এখানে এসে উপস্থিত হলাম শহীদের গণকবরে পাশে তাদেরকে স্বরণীয় করে আমাদের এই অনুভূতি প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, এসেছিলাম রায়েরবাজার কবরস্থানে, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের গণকবর। জানিনা ঠিক কতজন শহীদ এখানে শায়িত আছেন। নীরবভাবে দাঁড়িয়ে রইলাম কতক্ষণ। আমাদের জন্য, একটা ফাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্রের জন্য হাজার হাজার মানুষ নিজের জীবন দিয়ে দিল! আর এখানে শুয়ে আছে অজানা অচেনা ও স্বীকৃতি বিহীন আমার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের নিথর দেহটা। অবহেলিত কেন-সেই জবাব দিতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে।
তিনি আরোও বলেন, কেন আজ পর্যন্ত শহীদদের ডিএনও টেস্টের তদন্তের প্রতিবেদন এখনও আলোর মুখ দেখতে পারেনি। তাছাড়া গতকাল এখানে এসে শহীদদের গণকবর থেকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টেস্টের তদন্তের জন্য আশার কথা ছিল। কিন্তু কেন আশা হয়নি আজও সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সরকারকে।
আজ ৫ই আগস্ট ৩৬ জুলাই। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিজয় আমাদের, দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন । তবে আফসোস! যাদের লাশের উপর আজ এই রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে, যাদের লাশের উপর আজ ইন্টেরিমের উপদেষ্টা পরিষদ, আজকের দিন উদযাপনের জন্য সেই ইন্টেরিমের নানা রকমের আয়োজন/কর্মসূচি থাকলেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য, তাদের কবর জিয়ারতের জন্য রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি নেই। প্রধান উপদেষ্টাসহ বাকি উপদেষ্টাদেরও শহীদদের কবর জিয়ারতের কোনো কর্মসূচি এখনও দেখি নি। আজ একজনের কাছে দিনব্যাপী জুলাই উদযাপনের জন্য সরকারি অনুষ্ঠানসূচি দেখলাম। অথচ, সেখানে সব ধরনের আয়োজনের সময়সূচি থাকলেও শহীদদের কবর জিয়ারতের জন্য রাষ্ট্রীয় কোনো সময়সূচি ছিল না। আজকের দিনটাতে অন্তত শহীদদের কবরের কাছে রাষ্ট্রের যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র আজ শহীদদের ভুলে গিয়েছে! উপদেষ্টা পরিষদ আজ শহীদদের ভুলে গিয়েছে! যাদের জন্য আজকের এই স্বাধীন দিন, যাদের জন্য আজকের এই ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র, সেই শহীদদের প্রতি ইন্টেরিমের এমন আচরণের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে রাখলাম।
ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন আয়োজিত আজকের জুলাইয়ে গণ কবরের শহীদদের স্বরণে জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে – ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মায়ের ডাকের অন্যতম সংগঠক মো : মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখপাত্র – জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা, বাংলা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যান্যদের উপস্থিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সুপরিচিত প্রিয়মুখ শ্লোগান মাস্টার হিসেবে যার পরিচিতি – জুলাই যোদ্ধা সাব্বির উদ্দিন রিয়ন, সাবেক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতা ও জুলাই যোদ্ধা আশরাফুল ইসলাম নির্ঝর, জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান তুহিন, জুলাই যোদ্ধা হাসিব হোসেন, জুলাই যোদ্ধা রিয়াজুল হক রাফি প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ