জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে হট্টগোল - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:১৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’ এবং গণ-অভ্যুত্থানের একক কৃতিত্বের দাবি তোলাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও বাদানুবাদ হয়। গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনা করলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বিতর্ক শুরু হয়।

গাজীপুরের এমপি মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, ‘এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই একটি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক শুরু করা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি জুলাই আন্দোলনকে একক অর্জন বলে দাবি করতে চান, আমাদের মন ব্যথিত হয়। সেখানে তো আমরাও ছিলাম, আমাদেরও ৪০০-এর অধিক সহযোদ্ধাকে আমরা হারিয়েছি।’

রনির এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা মানে শহিদদের রক্ত এবং গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে অপমান করা। তার এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষে তীব্র হইচই শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অধিবেশনে এই অশান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে স্পিকার বারবার সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। বাকস্বাধীনতার কারণে সবাই নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু অন্যদের বাধা দেওয়া উচিত নয়। স্পিকারের হস্তক্ষেপে কিছুটা পরিস্থিতি শান্ত হলেও বিতর্ক থেমে থাকে না।’

মঞ্জুরুল করিম রনি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে ছিলাম। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই সংসদ আমাদের গর্ব। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাদের রাজপথের সংগ্রাম মাত্র তিন-চার বছরের। অন্যদিকে, বিরোধী দল ও জোটের সদস্যরা দাবি করেন, জুলাই সনদ এবং গণ-অভ্যুত্থান ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা আজকের সরকারের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

এমপি রনি বলেন, ‘২০২৪-এর গণহত্যার দাগ লেগে আছে আওয়ামী লীগের হাতে। ৯০-এর ছাত্র হত্যার দাগ লেগে আছে জাতীয় পার্টির হাতে। আর ৭১-এর গণহত্যার দাগ লেগে আছে আরেকটি দলের হাতে। এ দেশে বিএনপি একমাত্র দল, যাদের হাতে কোনো রক্তের দাগ নেই।’

বিএনপি হচ্ছে মানুষের আশ্রয়স্থল এবং বিএনপি গণমানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, ‘গর্ব করা উচিত যে আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি, যিনি নিরলসভাবে এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানে যারা বিরোধী দলের সদস্য আছেন, তাদের অনেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হয়তো তিন-চার বছরের বেশি নয়। আমাদের রাজপথের হুঙ্কার দিয়ে রাজপথে আন্দোলনের কথা বলে লাভ নেই। আপনারা যদি আমাদের মন পেতে চান, তাহলে ‘ওপেন হার্ট’ (মুক্ত হৃদয়) নিয়ে আসুন। ইনশাল্লাহ, সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করে এই বাংলাদেশকে গড়ব।’

স্পিকার সবার প্রতি আহ্বান জানান, ‘অহেতুক কাউকে বিরক্ত করা ঠিক নয়, শালীনভাবে আলোচনা করুন।’ তিনি সংসদীয় শালীনতা ও সহনশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এভাবে, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যে সংসদে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হলেও স্পিকারের হস্তক্ষেপে কিছুটা শান্ত পরিবেশ ফিরে আসে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ