জ্বালানি খাতে মাসে আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতে মাসে আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে জ্বালানি খাতে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতার প্রভাব সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃত মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত। এ কারণে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। অযথা মজুত বা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করলেই নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে বাজারে স্থিতিশীলতা এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমে আসবে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, শুধু গতকালই সারা দেশে ৩৬১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে মামলা হয়েছে ৩১টি এবং মোট অর্থদণ্ড আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এছাড়া ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া জ্বালানি তেলের পরিমাণও উল্লেখ করে মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৪৭ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোলসহ মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রোল ১ হাজার ৬৮২ টন। তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো সংকট হবে না।

অবৈধ মজুতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলার মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ