জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মিতব্যয়ী হতে দেশবাসীকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সবক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় বাংলাদেশে এখনো দাম বাড়ানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ একটি সরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ব্যয় পরিহার করার পাশাপাশি পারিবারিক পর্যায়েও অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (মরণোত্তর)সহ মোট ১৫ জন ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ভোটে দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে বিপর্যস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি পূর্ববর্তী ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে’ শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে গেছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফেরেনি। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবমুখীকরণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশে নারীর সংখ্যা অর্ধেকের বেশি হওয়ায় নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা ছাড়া কোনো উন্নয়ন উদ্যোগ সফল হতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিটি খাত আলাদাভাবে চিহ্নিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায় পাওয়ার আগেই দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছিল। রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও প্রকাশ্যে স্বাক্ষরের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। জনগণ এসব অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। সরকার ইতোমধ্যেই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে এবং ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, মানসিকতার পরিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, এই বাস্তবতার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে অস্বীকৃতি হীনমন্যতার পরিচয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, তার মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামসহ অন্যান্য অতিথিরা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা।
জনতার আওয়াজ/আ আ