টাকা লুটে বাধা দেয়ায় হত্যা, নাতি-নাতনিসহ গ্রেফতার ৫ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

টাকা লুটে বাধা দেয়ায় হত্যা, নাতি-নাতনিসহ গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ ১০:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

 

টাকা লুটে বাধা দেয়ায় চাকবাজারে বৃদ্ধকে তার নাতি-নাতনি হত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। বন্ধুদের দিয়ে নানার ‘টাকা লুটের পরিকল্পনা’ করেছিলেন তারই নাতি-নাতনি।

ওই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

গত ১৭ নভেম্বর পুরান ঢাকার চকবাজার খাজে দেওয়ান রোডের একটি বাসা থেকে ৭৮ বছর বয়সী মনসুর আহমেদের ‘হাত-পা বাঁধা’ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তদন্তে নেমে বকশিবাজার, মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে মনসুরের নাতি-নাতনিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তারা হলেন, বৃদ্ধের নাতি শাহাদাত মুবিন আলভী (২০), নাতনি আনিকা তাবাসসুম (২৩), আনিকার বন্ধু রাজু (২২), রাজুর ছোট ভাই রায়হান (২০) এবং সাঈদ নামের আরেকজন।

আনিকা একটি বেসরকারি ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং তার ভাই আলভী উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছেন।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বলেন, নানার কাছ থেকে তারা বেড়াতে যাওয়ার জন্য টাকা পাবে না- সেই শঙ্কা থেকে টাকা লুটের চিন্তা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে আনিকার বন্ধু রাজুকে লুটের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৭ নভেম্বর বাসার সবাই গিয়েছিলেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। মনসুর ছিলেন বাসায় একা। সেদিনই লুটের দিন ঠিক করে নাতি-নাতনিরা।

আনিকারা থাকেন বকশীবাজারে। ঘটনার সময় তিনিও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে পুরান ঢাকার চাঁন কমিউনিটি সেন্টারে ছিলেন। তবে আগেই তিনি নানার ফ্ল্যাটের নকল চাবি বানিয়ে রাজুকে দেন। সঙ্গে দেন সিরিঞ্জ ভরা চেতনানাশক।

সবাই যখন কমিউনিটি সেন্টারে আনিকার ভাই আলভী আরও চারজনকে নিয়ে নানার বাসায় যান। তাদের বাসায় ঢুকিয়ে দিয়ে তিনি বাইরে পাহারায় ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, বাসায় ঢোকার পর তারা মনসুরের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং অচেতন করতে ইনজেকশন দেন। তাদের বাধা দিলে বৃদ্ধ মনসুরে মাথায় আঘাত করে বাসা থেকে ৯২ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।

ওই রাতে চাঁন কমিউনিটি সেন্টার থেকে ফিরে মনসুরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফ্লোরে উপড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাসায় সিরিঞ্জ পাওয়ার পর সেই সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে প্রথমে রাজুকে শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব বলেন, রাজু আনিকার বন্ধু। দুজনের যোগাযোগ ও মেসেঞ্জারে কথাবার্তা বিশ্লেষণ করে আনিকা, আলভী ও রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর তাদের দেয়া তথ্যে বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় জড়িত আরেকজন পলাতক রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাফর হোসেন বলেন, স্থানীয় বাইতুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি মনসুর আহমেদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। সেই মেয়ের ঘরের নাতি-নাতনি হলেন আনিকা-আলভী। তাদের বাবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন চিকিৎসক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুই ভাই বোনের এমন পরিকল্পনা পরিবারের অন্য কেউ জানত না। পরীক্ষার পর বেড়াতে যাওয়ার টাকা সংগ্রহ করতে তারা এমন পরিকল্পনা করেছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ