টাঙ্গাইলে কেঁচো সার উৎপাদনে হালিমা বেগম সফল উদ্যোক্তা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:২২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে কেঁচো সার উৎপাদনে হালিমা বেগম সফল উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ২৯, ২০২৩ ৮:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ২৯, ২০২৩ ৮:০৪ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
অভাব অনটনের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে কেঁচো সার উৎপাদন করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাসের নয়াপাড়া এলাকার হালিমা বেগম।

বাড়ির ভিটাতেই টিনের ঘর তুলে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে এখন খরচ বাদ দিয়েই মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। সেই আয় থেকে তিনি সংসারের যাবতীয় খরচ চালানোর পর লোন নেওয়া টাকা শোধ করছেন হালিমা বেগম।

শুরুতে টিনের ঘরে গরুর ফার্ম তৈরি করে গরুর দুধ বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা আনার চেষ্টা করছেন। পরে গৃহপালিত গরুর গোবরকে কাজে লাগিয়ে জাপানি কেঁচো কিনে কয়েকটি ছোট টিনের ঘর তুলে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন।

২০০৮ সালে কেঁচো সার উৎপাদনে যাত্রা শুরু করলেও প্রথম দিকে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মূলত প্রচারের আলোয় না থাকায়, চাহিদা কম থাকায় উৎপাদিত কেঁচো সার বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছিল। যে কারণে দুই বছর পর কেঁচো সার উৎপাদন বাদ দিয়ে গরু পালন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

তবে ২০১৫ সাল থেকে আবারও পূর্ণ উদ্যমে কেঁচো সার বা জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন। এবার আর পিছনের ফিরে তাকাতে হয়নি। কেঁচো সার উৎপাদন করে টনে টনে বিক্রি করে এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা।

শুরুর দিকে কেঁচো খামারে একা কাজ করলেও এখন তার স্বামী মোয়াজ্জেম হোসেন, ছোট ভাই ও দুইজন মহিলা শ্রমিক নিয়ে সারাদিন কাজ করেন। তার এই “এম এম ভার্মি কম্পোস্ট” বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি পর্যটকরা দেখতে আসেন এবং পরামর্শ দিয়ে যান।

কৃষকের মেয়ে দশম শ্রেণি পড়ুয়া হালিমা বেগমের ২০০৩ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাসের নয়াপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তাদের ঘুরে দুই কন্যা স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। হালিমা বেগম নিজে কেঁচো সার উৎপাদন নিজে করছেন এবং অন্যকে উৎসাহিত করছেন। গৃহিনী, দুস্থ, বিধবা মহিলাদের কেঁচো সার উৎপাদনে উৎসাহিত করে একটা “নারী স্বপ্ন উন্নয়ন সংগঠন” নামে একটা সমিতি করেছেন।

যেখানে হালিমা বেগম সভাপতি এবং সাথী আক্তার সম্পাদক। সদস্য সংখ্যা ৫২ জন। প্রতি বৃহস্পতিবার তারা একত্র হয়ে উন্নয়নমূলক আলোচনা করেন।

হালিমা বেগম কেঁচো সার সফল উৎপাদনের পাশাপাশি সফল কৃষিকর্মী। তিনি তার তৈরি জৈব সার দিয়ে বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন। তার এই কৃষিতে করলা, ডাটা, পাটশাখ, ভেন্ডি, লাউ, কুমরা, আলুছাড়া বিভিন্ন ধরনের আম, কাঁঠাল ফুলফল রয়েছে। হালিমা বেগম একজন কেঁচো সার ও সবজি চাষ প্রকল্পে সফল উদ্যোক্তা।

হালিমা বেগম জানান, তিনি গৃহপালিত গরু পালন করে গোবরকে কাজে লাগানোর জন্য পূর্বে দেখে আসা কেঁচো সার উৎপাদনে এগিয়ে আসেন। তার তৈরি জৈব সার ঢাকাসহ সর্বত্র বিক্রি হয়। ড্রাগন চাষি ছাড়াও সবজি চাষিরা এই সার ব্যবহার করে থাকেন। শহরের উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ে ছাদে ফল ও ফুলের চাষে জৈব সার ব্যবহার হয়। তিনি শুরুতে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে প্রচুর বিক্রির পর পাইকারি বিক্রি করেন ২০ টাকা কেজিতে এবং খুচরা ২৫ টাকা কেজি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন উপ-সহকারী লতিফা আক্তার বলেন, ‘হালিমা বেগম পরিশ্রমী ও দক্ষতার গুণেই সফল উদ্যোক্তা হতে পেরেছে, আমি তার প্রকল্পে গিয়েছিলাম। তার প্রতি আমার শুভ কামনা রইল।’

কেঁচো সর্ম্পকে তিনি বলেন ‘কেঁচো সার প্রয়োগে যে কোনো ফসলের ফলন ভালো হয়। ফসলের রোগবালাই কম হয়। মাটির গুণাগুণ বেড়ে যায়। কৃষি অফিস থেকে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ