টিলা কাটার অভিযোগে মৃত রফিকুল ইসলামের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ থেকে: সিলেটের গোলাপগঞ্জে মৃত ব্যক্তির নামে টিলা কাটার অভিযোগ এনে নোটিশ পাঠিয়েছে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ৯ জানুয়ারি সিলেট বিভাগীয় পরিচালক এমরান আহমদ স্বাক্ষরিত নোটিশে ঐ মৃত ব্যক্তি ছাড়াও আরোও ৬ জনের নামে মামলা দায়ের আইনানুগ ব্যবস্থাসহ তারা ১২ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। ছয়জনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ভাতিজা সাইফুল ইসলামের নামও রয়েছে।
কিন্তু আইনি জটিলতার ভয়ে নির্ধারিত তারিখে কেউই হাজির হননি। তাদের অনুপস্থিতিতে শুনানি হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের এমন নোটিশে হতবাক উপজেলার জনসাধারণ ও রফিকুল ইসলামের স্বজনরা। সবাই বলছেন মৃত ব্যক্তি কিভাবে টিলা কাটতে পারে এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন হাস্য, ট্রল, ব্যঙ্গ করা হচ্ছে।
বলছি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের মরহুম রফিকুল ইসলামের কথা। তিনি গত ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট মারা গিয়াছেন। পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে একই বছরের ২০ ডিসেম্বর রফিকুল ইসলামের মৃত্যুসনদ দেওয়া হয় (সনদ নম্বর-০০০৩২, বহি নং-০০৫)।
জানাযায়, গত ১৫ জানুয়ারি সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন মুত রফিকুল ইসলামের ছেলে সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম শাকিল । এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, নোটিশে উল্লেখিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার বাবা মারা গেছেন ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে তার নামে টিলা কাটার অভিযোগে নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত তারিখ হাজির হওয়র নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানির করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমনটি করা হয়েছে। তদন্তকারী সরেজমিন না গিয়ে ভিত্তিহীন একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করলে তাঁদের বিরুদ্ধে টিলা কাটার কোনো অভিযোগ পাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, ধারাবহর গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে টিলা কেটে শ্রেণি পরিবর্তনের নেপথ্যে থাকা মূল কুশীলবদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে প্রভাবশালীদের ইন্ধনে তার মৃত পিতা রফিকুল ইসলামসহ ৭জনকে এ নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে তাদের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর মৌজার বিভিন্ন দাগে দৃশ্যমান টিলা রকম ভূমি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করার অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে টিলার উপরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছি। আমরা আদোও কেউ টিলা কাটার সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু আশপাশে একটি প্রভাবশালী মহল টিলা কাটছে। মূলত, সেগুলো ঢাকতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শুনানির সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মুঠোফোনে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারি।’ নোটিশটি আমাদের বাড়িতেও দেওয়া হয়নি। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করি।
রফিকুল ইসলামের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো সময় টিলা কাটিনি। তবুও একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরাএই হয়রানি থেকে মুক্তি চাই এবং যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক এমরান আহমদ জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জের ইউএনও অফিস থেকে টিলা কাটা বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের কাছে পত্র পাঠানো হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশে পাঠানো হয় পত্র। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে রফিকুল ইসলামসহ ৭ জনকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক এমরান আহমদ আরও বলেন, টিলা কাটার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে এসেছে।জেলা প্রশাসন থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র আসলে আমরা নোটিশ দিয়েছি। এতে যাচাই-বাছাই করার সুযোগও হয়নি। তবে পরবর্তীতে মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে একটি অভিযোগ অফিসে এসে দাখিল করলে আমরা তদন্তের কাজ শুরু করেছি। তবে নোটিশে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নির্ধারিত তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তরের হাজির হওয়ার কথা থাকলেও কেউ না আসায় শুনানী হলেও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
জনতার আওয়াজ/আ আ