টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীটেকনাফ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীটেকনাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬ ৯:০৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬ ৯:০৫ অপরাহ্ণ

 

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে তিনি কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে সড়কপথে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বেলা ১২টার দিকে বন্দরে পৌঁছান।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজার লাইট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মায়ানমারের মংডুসহ প্রায় ২৭০ কিলোমিটার এলাকা দখলের পর থেকে নাফ নদীতে আধিপত্য বিস্তার করে আরাকান আর্মি। এর ফলে আকিয়াব ও ইয়াঙ্গুন থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রলারগুলো বিভিন্ন সময় আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মায়ানমার থেকে একটি কাঠবোঝাই ট্রলার টেকনাফ বন্দরে পৌঁছানোর পর আর কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে প্রায় এক বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পরিদর্শন শেষে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি বলেন, আজ থেকে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মায়ানমার সরকারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরাকান আর্মির বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির আশঙ্কায় বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর থেকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বন্দর চালুর প্রত্যাশা ছিল। এ প্রেক্ষিতে গতকাল একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বন্দর, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং এনবিআর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে বন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বন্দরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বন্দরের কার্যক্রমে কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত হতে দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র বাংলাদেশি নাগরিকরাই এখানে কাজ করতে পারবেন। বন্দরে কর্মরতদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে নাগরিকত্ব সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে এবং বন্দর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন, টেকনাফ স্থলবন্দরের ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের মহাব্যবস্থাপক জসীম উদ্দিন চৌধুরী, কাস্টমস কর্মকর্তা মাহামুদুল রহমান, অপারেশন অফিসার কামাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদাত হোসেনসহ আমদানি-রপ্তানিকারক ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য ১৯৯৫ সালে শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর ২৭ একর জমির ওপর টেকনাফ স্থলবন্দরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ