ডলার সংকটের ফলে এলসি খুলতে না পারায় ব্লাড ব্যাগ সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৩ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৩ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

ডলার সংকটের ফলে এলসি খুলতে না পারায় এবং বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারণে ব্লাড ব্যাগ আমদানি হচ্ছে না দেশে। ফলে, হাসপাতাল গুলোতে দেখা দিয়েছে ব্লাড ব্যাগ সংকট। যারফলে পর্যাপ্ত রক্তদাতা থাকলেও ব্যহত হচ্ছে রক্ত পরিসঞ্চালন কার্যক্রম।
শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ভর্তি বার্নের (দগ্ধ) রোগীদের চিকিৎসায় ডাবল ব্লাড ব্যাগ প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডাবল ব্লাড ব্যাগের খুবই সীমিত মজুদ রয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটে মাসে ১,৬০০ থেকে ২,০০০টি ব্লাড ব্যাগের প্রয়োজন হয়।
হাসপাতালটিতে সার্জারির জন্য সিঙ্গেল ব্লাড ব্যাগের প্রয়োজন হলেও অ্যানিমিয়া-থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ব্লাড দেওয়া, প্লাটিলেট দেওয়া, প্লাজমাসহ বিভিন্ন কাজে ডাবল ও ট্রিপল ব্লাড ব্যাগের প্রয়োজন হয়। ব্যাগগুলো নির্ভরযোগ্য স্যাম্পল সংগ্রহ, তা পৃথকীকরণ, সঞ্চয় এবং পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
দেশে সিঙ্গেল ব্লাড ব্যাগের চাহিদা কম থাকায় সিঙ্গেল ব্যাগের মজুদ থাকলেই, ডাবল ও ট্রিপল ব্যাগের সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে, লোকাল মার্কেট ব্যাগ যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিশেষজ্ঞ ও আমদানিকারকদের তথ্যমতে, দেশে বছরে আনুমানিক ২০ লাখ ব্লাড ব্যাগের প্রয়োজন হয়, যার পুরোটাই আমদানি নির্ভর। সিঙ্গাপুর, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, চীন থেকে ব্লাড ব্যাগ আনেন আমদানিকারকরা।
জেএমআই গ্রুপ দেশে ব্লাড ব্যাগের চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করে থাকে। তবে কোম্পানিটির অনলাইন শপিং সাইটে দেখা যায়, সিঙ্গেল, ডাবল, ট্রিপল- কোনো ধরনের ব্যাগের সরবরাহই এই মুহূর্তে সেখানে নেই।
জেএমআই গ্রুপের জেএমআই সিরিঞ্জস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক এক মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, নতুন এলসি খুলতে না পারায় যথেষ্ট ব্যাগ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইসাথে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে দাম ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
প্রতিবছর বইমেলায় বাংলাদেশ পুলিশের স্টলে স্বেচ্ছাসেবীরা রক্ত দান করেন। সেখান থেকে রক্ত সংগ্রহ করে সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রাখা হয়। ব্লাড ব্যাগ সংকটের কারণে এ বছর স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় কম রক্ত সংগ্রহ করতে রীতিমত বাধ্য হচ্ছে পুলিশ হাসপাতাল।
জনতার আওয়াজ/আ আ