ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতাল: ৭২ শতাংশ শয্যা খালি, তবু ফেরত যাচ্ছে রোগী!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:৩০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
সাবিনা বেগমের (৩০) শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ দিন হয়। এই অবস্থায় সোমবার তার বোন তাকে নিয়ে আসেন হাম রোগীদের জন্য নির্ধারিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাসপাতালে, যা ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল’ নামে পরিচিত। তবে শয্যাসংকটের কথা বলে সেখানে সাবিনাকে ভর্তি করা হয়নি। অথচ হাসপাতালটির ৭২ শতাংশ শয্যাই খালি বা ফাঁকা ছিল বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়।
স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সাবিনা থাকেন গাজীপুরে। পেশায় পোশাককর্মী। শুরুতে সেখানকার হাতুড়ে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়েছেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাজধানীতে বোনের সহযোগিতায় বেসরকারি হাসপাতালে যান।
সোমবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসির ওই হাসপাতালটি হাম রোগের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড করা হয়।
সাবিনা বেগমের বোন সাহিদা বেগম জানান, বেসরকারি হাসপাতালেই হাম শনাক্ত হয় তার বোনের। শনাক্ত হওয়ার পর সেখান থেকে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে যান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সরকারি এই হাসপাতালটি ভর্তি না করে তাকে হামের জন্য নির্ধারিত ডিএনসিসি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
সাহিদা সেখান থেকে বোনকে নিয়ে যান ডিএনসিসি হাসপাতালে। তিনি বলেন, সেখানকার ডাক্তাররা তাকে ভর্তি রাখা যাবে না বলে জানিয়ে ওষুধ লিখে দিয়ে ছেড়ে দেন। তারা বলেন, ‘বাচ্চা’ হলে ভর্তি নিতাম, বড় মানুষ তাই ভর্তি নেব না।
সাহিদা এ সময় তার বোনের হাত, পা, মুখ দেখিয়ে শরীরময় হামের র্যাশের কথা জানান। বলেন, তার বোন ওষুধ খাওয়া তো পরের কথা, কিছু গিলতে পর্যন্ত পারেন না। তাই তাকে অন্তত এক-দুইটা দিন ভর্তি রাখার অনুরোধ করেছিলেন। তখন হাসপাতাল থেকে বলে যে ‘সিট নাই’।
তবে হাসপাতালে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, হাসপাতালের দেয়ালে প্রতিদিনকার শয্যা ও ভর্তিসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য। গতকালের তথ্যে উল্লেখ করা হয়, এই হাসপাতালে মোট শয্যা আছে ১ হাজার ৫৪টি, রোগী ভর্তি আছে ২৯৬টি। শয্যা খালি আছে ৭৫৮টি। অর্থাৎ ৭২ শতাংশ শয্যা খালি আছে।
এতসংখ্যক শয্যা খালি থাকা সত্ত্বেও এমন রোগীদের ফেরত দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, শয্যা খালি থাকলেও ডাক্তার-নার্সের সংখ্যা সেই তুলনায় কম থাকায় বড়দের ভর্তি রাখার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়। তুলনামূলক শয্যা বেশি বরাদ্দ রাখা হয় শিশুদের জন্য। কারণ শিশুরা হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। তবে এটি অঘোষিত সিদ্ধান্ত হওয়ায় এই ব্যাপারে কেউ উদ্ধৃত হতে চাননি।
হাসপাতালে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আছিবুর রহমান জানান, গতকাল বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে ৭৭ জন। তাদের মধ্যে ৩৬ জনকে ভর্তি করা হয়। অন্যদের প্রয়োজন অনুসারে ওষুধ-পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাম সন্দেহ নিয়ে এ সময় প্রাথমিকভাবে আসা ব্যক্তিদের টিকিট দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ইয়াসিন ভূঁইয়া। তিনি জানান, এখানে গত রবিবার হাম সন্দেহ নিয়ে এসেছিলেন ১৮৪ জন, আর আগের দিন গত শনিবার এসেছিলেন ১৭৩ জন। গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্তে হাম সন্দেহ নিয়ে এসেছেন ৭৪ জন। এ সময় তিনি জানান, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এই হাসপাতালে রোগী পাঠানো হয়। তাই বিকেল থেকে রোগীর চাপ বাড়তে থাকে।
তিনি জানান, যারা হাম সন্দেহ নিয়ে আসেন, সারা দিনই এখানে তাদের টিকিট দেওয়া হয়। হাম সন্দেহ নিয়ে আসাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। তাদের মধ্যে এক বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। এরপর দুই বছরের কম বয়সীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে গিয়ে জানা যায়, সেখানে ভর্তি থাকা ৮৮ শিশুর মধ্যে ছেলে ৪৫ জন ও মেয়ে ৪৩ জন।
জনতার আওয়াজ/আ আ