ডিএসসিসি মেয়র তাপসের সমালোচনায় আনু মুহাম্মদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৩ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৩ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সমালোচনা করে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, জনসাধারণের প্রতি দায়বদ্ধতা সম্পর্কে তিনি বোধ হয় জানেন না। জানলে তিনি এভাবে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির বুকে ছুরিকাঘাত করে বাহাদুর শাহ পার্কে রেস্তোরাঁ তৈরির অনুমোদন দিতে পারতেন না।
আজ সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকায় বাহাদুর শাহ পার্কে ‘ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদ’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মেয়রকে উদ্দেশ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, মেয়র সাহেব তার দায়িত্ব জানেন না। তাকে আমি তার দায়িত্ব বোঝাতে চাই। তার দায়িত্ব হলো বাহাদুর শাহ পার্কের মতো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। এখানে রেস্টুরেন্ট নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে পার্কের ইতিহাস জানানোর জন্য এখানে একটি জাদুঘর করা উচিত। বাহাদুর শাহ পার্ক বাঙালির প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত স্থান। এটা বাঙালির ঐতিহ্য। এই পার্ক সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা উচিত নয়। এটি থাকবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে। সিটি করপোরেশন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করে পার্ককে ধ্বংসের মধ্যে ফেলে দিতে পারে না।
পার্কের ভেতরে রেস্টুরেন্ট ইজারা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, পার্ক পরিষ্কার রাখার জন্য ইজারা দিতে হলে আপনি আছেন কী করতে? আপনার দায়িত্ব কী? ঢাকা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হচ্ছে শহরের মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও পার্কগুলো রক্ষা করা। সেটি না করে তারা আজ ইজারা দিচ্ছেন। এসব ইজারা নামমাত্র টাকায় দিলেও পেছনের দরজা দিয়ে বড় বড় লেনদেন হচ্ছে। এটা ছোট রেস্টুরেন্ট হলেও লক্ষণ দেখে বোঝা যাচ্ছে- সুচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। মেয়রের উচিত পার্কটির ইজারা অবিলম্বে বাতিল করে এটিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা।
আনু মোহাম্মদ বলেন, পুরাতন ঢাকার এই বাহাদুর শাহ পার্ক এখানকার অধিবাসীদের একমাত্র শ্বাস নেয়ার জায়গা। একই সঙ্গে এত পাখির কলকাকলি এই এলাকায় আর কোথাও পাওয়া যায় না। অথচ এই স্বর্গকেই মেয়র সাহেব নরক বানাচ্ছেন। গাছ নিজেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ, গাছের গায়ে বাতি লাগাতে হবে কেন?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, এ পার্কটির অবস্থান এমন একটি জায়গায়, যাকে ঘিরে ২৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ বায়ু গ্রহণের জন্য এ পার্কের গাছগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজ এখানে রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে, কাল যে পাঁচতারকা হোটেল হবে না তার নিশ্চয়তা কী? এসব হোটেল-রেস্টুরেন্ট দিয়ে এখানের গাছগুলো ধ্বংস করার অপচেষ্টা কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না।
পার্কের ভেতর বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ, সংস্কারের নামে স্মৃতিস্তম্ভ থেকে মুছে ফেলা ‘১৮৫৭ সালের শহীদদের স্মরণে ‘ লেখাটি পুনঃস্থাপন এবং পার্কের ভেতরের রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে জনস্বার্থ বিরোধী প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান সভাপতিত্ব করেন। সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একে রিয়াজুদ্দিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌম্য সরকার, ড. মহসিন রেজা, শেখ বোরহান উদ্দিন, কলেজ শিক্ষক বীথি সরকার, তোফাজ্জল হোসেন, সানবীর হোসেন বাচ্চু প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ