ডেঙ্গু বিস্তার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী : সরকার সবার বাড়ি সাফ করে দিতে পারবে না - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:১৩, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ডেঙ্গু বিস্তার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী : সরকার সবার বাড়ি সাফ করে দিতে পারবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১১, ২০২৩ ১:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১১, ২০২৩ ১:১৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার তো সবার বাড়ি সাফ করে দিয়ে আসতে পারবে না। স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা যার যার নিজের ব্যাপার। নিজেকেই সচেতন করতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। গতকাল সোমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যালামনাই ট্রাস্টের উদ্যোগে কলেজের শহীদ ডা: শামসুল আলম খান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলা ট্রিবিউন।

ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বেশি দরকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যার যার ঘরবাড়িতে মশা যেন না থাকে, সে দিকে বেশি দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের দেশে একটা সমস্যা হচ্ছে যা কিছু দোষ সব সরকারের। মশা কামড় দিলেও সেটি সরকারের দোষ, এখন কত মশা মারবে! মশার তো প্রজননের হার অনেক বেশি। সেই প্রজনন যাতে না হয় সে জন্য নিজের বাড়িঘর সাফ রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরের মেয়র সাহেব বললেন- এত বড়লোক বিশাল বিশাল ফ্ল্যাটে থাকে, তাদের বাড়ির ভেতরে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়ে আছে। সেটি তারা সাফ করবেন না, সরকারকে বোধ হয় সাফ করে দিয়ে আসতে হবে। বাড়ি তাদের, জায়গা তাদের, মেইন্টেনেন্সের জন্য একটা সার্ভিস চার্জ দিচ্ছে; কিন্তু তারা সেটি সাফ করবেন না, কে করে দেবে? সরকার যেয়ে করে দেবে? সরকার তো সবার ঘরবাড়ি যেয়ে যেয়ে সাফ করে দিয়ে আসতে পারবে না। স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা যার যার নিজের ব্যাপার।’

ঢামেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গবেষণায় মনোযোগ দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার খুব অভাব, হাতেগোনা কয়েকজন গবেষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা একটু গবেষণার দিকে মনোযোগ দেন। গবেষণার জন্য যত টাকা লাগে আমরা দেবো, তারপরও আপনাদের প্রতি অনুরোধ গবেষণা করেন।’ তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকদের ঘরে বসে না থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনুসরণ করা উচিত। তারা কিভাবে কাজ করে তা দেখেও অনেক কিছু শেখার আছে। শেখ হাসিনা বলেন, ঢামেক থেকে যাতে চার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে পারে, সে রকম একটি প্ল্যান আমি হাতে নিয়েছি। আমরা সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি, যার মাধ্যমে মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছে।

দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অগ্রযাত্রা ও ভাবমূর্তি ক্ষু্ণ্ণ হয় বা সমালোচিত হয় এমন কোন সংবাদ প্রচার না করার জন্য সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল তার কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও আহত ৪৩৮ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রায় তিন কোটি ৪১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সবসময় গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান। গঠনমূলক সংবাদ সরকার চালাতে সাহায্য করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবে এবং স্বাধীনতা ভোগ করবে, তবে তা যথাযথ দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে করা উচিত। তিনি বলেন, আমি চাই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা (দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার কারণে) আর বাধাগ্রস্ত হবে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতা উপভোগ করার অধিকার সবার আছে। তবে তাদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য সচিব মো: হুমায়ন কবির খন্দকারও বক্তব্য রাখেন। বিএফইউজে এবং ডিইউজে নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৪ বছরে সাংবাদিক সমাজ যে ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করেছে এর আগে তা কখনোই করেনি।’ তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে সাংবাদিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে ওয়েজবোর্ডের আওতায় আনতে যাচ্ছে। তিনি সংবাদমাধ্যম মালিকদের বাংলাদেশ জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে অর্থ সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানান। সরকারপ্রধান বলেন, সাংবাদিকরা নিজেদের জন্যে বাড়ি করতে চাইলে সরকার জমির ব্যবস্থা করতে পারে অথবা কিস্তিতে সরকারি ফ্ল্যাট দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট (বিজেডব্লিউটি) তহবিল শুরু করেন। পরে এই তহবিলে তিনি আরো ২০ কোটি টাকা দেন। এই ফান্ড থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫১০ সাংবাদিকের মধ্যে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ