ডেটলাইন রাজশাহী তারেকেই মুক্তি দেখছেন জনতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০২২ ১১:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০২২ ১১:২৬ অপরাহ্ণ

আমিরুল ইসলাম কাগজী
রাত পোহালেই রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ। দিনক্ষণ ৩ ডিসেম্বর। সরকার যথারীতি দুইদিন আগে থেকেই রাজশাহীমুখী সবধরণের যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে। বিএনপি মিডিয়া সেলের লাইভ প্রোগ্রামের সুবাদে দেখছিলাম মাদরাসা মাঠের দৃশ্য। লাল নীল কম্বল গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছেন দূর থেকে আগত নেতাকর্মীরা। মাঠের একপ্রান্তে সাদা শাল গায়ে জড়িয়ে এবং মাথায় লাল ক্যাপ পরে স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা দিচ্ছেন সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। সেখান থেকে ক্যামেরা ঘুরে গেলো রাজশাহীর রেল স্টেশনে। গগণ বিদারি শ্লোগানে মুখোরিত গোটা স্টেশন চত্বর, ‘তারেক রহমান এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে। তারেক রহমান ডাক দিয়েছে, চলো সবাই রাজশাহীতে। খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’। জিনসের প্যান্ট শার্ট সুয়েটার পরা তরুন যুবকদের পদশব্দে জমজমাট পুরো চত্বর। উৎসবের আমেজমাখা মিছিল নিয়ে সবাই চলেছে মাদ্রাসা মাঠে।
এরপরেই দেখলাম মোটর বাইক শোভাযাত্রা নিয়ে বগুড়ার যুবদল-ছাত্রদল জানান দিলো, ‘আমরাও এসে গেছি বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে’। একইভাবে হাজির হচ্ছেন নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কানসাট, আত্রাই, রাণী নগর, শেরপুর, শারিয়াকান্দি, কাহালু, নন্দীগ্রাম, শান্তাহার, গাবতলী থেকে দলে দলে নেতাকর্মীর ও সমর্থকেরা। শুধু নেতাকর্মীই নয় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও শামিল হচ্ছেন মিছিলে, কারণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশহারা তারা। সীমিত আয়ে তাদের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। তারাও উপলব্ধি করতে পারছে যে, এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না এবং ভোটের অধিকার ফিরে পাবে না। তাই তারাও নেমে পড়েছে বিএনপির আন্দোলনে। কেবল রাজশাহীতে নয়, এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লায়। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত জুলাই থেকে বিএনপি মাঠে নামলে সাথে পেয়ে যায় দেশের সিংহভাগ জনতাকে। বিএনপির আজ বড় শক্তি এই জনগণ যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে গণসমাবেশগুলো পরিণত হচ্ছে মহাসমাবেশে। তারা মুক্তির পথ খুঁজছে তারেক রহমানের মধ্যে। আশায় বুক বেধে শুরু হয়েছে তাদের পথচলা। তার ব্যতিক্রম ঘটবে না রাজশাহীতেও। তাইতো শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে গত দুদিন থেকে মাঠে অবস্থান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে চিড়েমুড়ি খিচুড়ি খেয়ে সময় কাটছে তাদের। আয়োজকরা বলছেন, রাজশাহীর সমাবেশ মাদরাসা মাঠ ছাড়িয়ে গোটা শহর পরিণত হবে জনসমুদ্রে।
মহাসমাবেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপার্সননের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জিএম সিরাজ এমপি, অধ্যাপক শাহজাহান, হারুন অর রশিদ এমপি, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, তাইফুল ইসলাম টিপু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, আমিনুল ইসলাম, ফয়সাল আলিম, সিমকি ইমাম খান, বেগম মাহমুদা হাবিবা, মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল, ড এম এ মুঈত এবং রফিকুল কবির শান্তসহ অনেকে।
জনতার আওয়াজ/আ আ