ড. ইউনূস যে কথা দিয়েছেন, সেটা তাঁকে রাখতেই হবে: সেলিমা রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ড. ইউনূস যে কথা দিয়েছেন, সেটা তাঁকে রাখতেই হবে: সেলিমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুলাই ২০, ২০২৫ ৯:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুলাই ২০, ২০২৫ ৯:২৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস যে কথা দিয়েছেন, সে কথা তাঁকে রাখতেই হবে। আমরা নির্বাচন এই ফেব্রুয়ারি মাসেই চাই, এটা হতেই হবে। সে চেষ্টা আমরা সবাই মিলে করব।”

রবিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট ও নির্বাচন পূর্ব সহিংসতা মোকাবেলায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে ‘স্কুল অব লিডারশিপ, সোলো ইউএসএ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিমা রহমান বলেন, “রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার করার জন্যই আমরা লড়াই করছি। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা বিএনপিই দিয়েছে। এখানে বিএনপির বিরুদ্ধে তো কিছু বলার নেই। বিএনপি বলেছেন, আমরা এটা-এটা করব। বিএনপি এজন্য জনগণের কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা যদি (সংস্কার) না করতে পারি, জনগণ আমাদের ছুড়ে ফেলে দেবে। আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা করব। কিন্তু সেই সংস্কার নিয়ে, নির্বাচন নিয়ে, ২৪-এর চেতনা নিয়ে আজকে যুদ্ধ হচ্ছে। ২৪-এর চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো লাফালাফি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আজকে যারা বক্তব্যে, মিটিংয়ে—তাদের বাবার বয়সী, বড় ভাইয়ের বয়সী—আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য রাখছে। সেটা কি আমাদের সমাজের চিহ্ন? আমাদের সমাজে ছিল—বড়দের সম্মান করবে, শিক্ষকদের সম্মান করবে। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটা পরিবেশ ছিল। সেটা শেষ হয়ে গেছে। কক্সবাজারে আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি ১৬টি বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাকে গুম করে নিয়ে গিয়েছিল, আজকে তার বিরুদ্ধে একটা কথা বলা হলো। বলে সেটা প্রচার করা হলো এবং সেটাকে রাজনৈতিক শক্তি দেখানো হলো।”

“তরুণ প্রজন্ম একটা রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করছে, আমরা খুশি। এর আগে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, ৯০–এ গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সেখানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তারা কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখেনি। কিন্তু ২৪-এ কি হলো? ২৪-এ যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের স্যালুট জানাই। কিন্তু একই সঙ্গে বলতে চাই, তোমাদের সঙ্গে পুরো জাতি আন্দোলনে নেমে এসেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেমন ছিনতাই করে একটা ব্যবসায়িক রূপ দেওয়া হয়েছিল, আজকেও মনে হচ্ছে ২৪-এর আন্দোলনকে ছিনতাই করে নিয়ে একটা বিশেষভাবে বলা হচ্ছে—আমরাই ২৪-এর চেতনা। সারা দেশে যারা জীবন দিয়েছে স্বৈরাচারকে ফেলে দিতে, তাদের আমরা শ্রদ্ধা জানাব। কিন্তু সেটাকে নিয়ে আমরা ব্যবসা করব না। ২৪-কে নিয়ে একচেটিয়া বলব না যে আমিই ২৪-এর মুক্তিযোদ্ধা, আমিই যোদ্ধা, আর কেউ নেই—এই কথা বলব না। এটা বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “নতুন দলের এক নেতা আমাদের নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে বলছে গডফাদার। এসব কি ঠিক? তারেক রহমানকে নিয়েও অশালীন কথা বলা হচ্ছে। তারা নতুন বন্দোবস্তের কথা বলছেন—এগুলোই কি নতুন বন্দোবস্ত? এগুলো আওয়ামী লীগের ভাষা।” এ সময় তিনি বলেন, সরকার কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছাড়া, যারা দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের এড়িয়ে চলছে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা অ্যাড. সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, “নির্বাচন বিলম্ব করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের কোনো পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে।”

সংলাপের কী-নোট স্পিকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, সোলো ইউএসএর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম. এম. শরীফুল করীম প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ