ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি’র জনসমাবেশ আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জুলাই ৩১, ২০২৩ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জুলাই ৩১, ২০২৩ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
ঢাকার প্রবেশমুখে দলের অবস্থান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জনসমাবেশ করবে বিএনপি। আজ ঢাকাসহ সারা দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরে জনসমাবেশ করবেন দলটির নেতাকর্মীরা। গত শনিবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে জনসমাবেশ করবেন নেতারা। আজকের জনসমাবেশ থেকে একদফা’ দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে শনিবার ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। কর্মসূচি পালনকালে সরকারদলীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেরা গাড়ি পুড়িয়ে এবং ভাঙচুর করে বিএনপি’র ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা জেনেছি যে, মাতুয়াইল ও শ্যামলীতে গাড়িতে আগুন দেয়ার ও ভাঙচুর করার ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অথচ পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে খবর বেরিয়েছে যে, পুলিশের সামনেই এসব ঘটনা ঘটিয়ে ভিডিও করে অপরাধীরা নির্বিঘেœ চলে গেছে। কারা এটা করতে পারে তা অনুমানের জন্য বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার প্রয়োজন নেই।
নিজেরা অপরাধ করে বিএনপি’র ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের কাঁধে সিন্দাবাদ এর দৈত্যের মতো চেপে বসা অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, অনির্বাচিত জাতীয় সংসদ বাতিল এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিসহ দেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের ডাকা আজকের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য সরকার জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের অন্যায় ও বেআইনিভাবে জনগণের বিরুদ্ধে নামিয়ে রাজধানী ঢাকায় যে তা-ব চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রতিবাদী জনতার শান্তিপূর্ণ অবস্থানে গুলি, টিয়ারগ্যাস চালানো এবং সশস্ত্র আক্রমণ মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেখে, দেশ-বিদেশের জনগণ এই স্বৈরাচারী সরকারের অবৈধ ক্ষমতা জোর করে ধরে রাখার বীভৎস অপপ্রয়াস দেখে স্তম্ভিত হয়েছে।
তাদের নির্মম আক্রোশে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মাথায় মারাত্মক রক্তক্ষরণ, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানসহ অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হওয়া এবং অগণিত নেতাকর্মীকে নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ক্ষমতালোভী এই সরকারের হাতে দেশের কোনো নাগরিক নিরাপদ নন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারি এবং সরকারদলীয় বাহিনীর বেআইনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার জবাব দেয়ার ক্ষমতা জনগণের রয়েছে, কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে যে অবাঞ্ছিত ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো আমরা তা বরাবরই পরিহার করতে চেয়েছি এবং আজও করেছি। এটা আমাদের দুর্বলতা নয়, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা। কিন্তু নিশি রাতের অবৈধ সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, আমাদের এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে। আমরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি, জীবন দিয়েছি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্যও। গত ১৪ বছর আমাদের হাজারো নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন শত শত নেতাকর্মী। নির্যাতিত হয়েছেন কয়েক হাজার। মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন লাখো নেতাকর্মী। গণতন্ত্র চাই বলেই এত কিছুর পরও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথেই আছি আমরা।
জনতার আওয়াজ/আ আ